ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭

মুজিবুর রহমান রঞ্জু, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২১:৪৩, ২৫ অক্টোবর ২০২০
আপডেট: ১৩:৩৩, ২৬ অক্টোবর ২০২০

বেত্রাঘাত সইতে না পেরে মাদ্রাসা থেকে দৌঁড়ে বাড়ি চলে যায় মুঈম

পড়া না পারায় দফায় দফায় শিশুকে বেত্রাঘাত করে মাদ্রাসা শিক্ষক। এতে গুরুতর আহত হয়ে মুঈম মিয়া নামে ১২ বছরের ওই শিশুটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে। সে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পীরের বাজার বালিয়া টিলা হুসাইনিয়া কাদরিয়া জালালিয়া সুন্নীয়া জুনিয়র মাদ্রাসার হিফ্জ বিভাগের ছাত্র। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় এ ঘটনাটি ঘটে।

শিক্ষকের বেত্রাঘাত সইতে না পেরে  মাদ্রাসা থেকে দৌঁড়ে বাড়ি চলে যায়। বাড়িতে তার বাবা-মা হুজুরের (শিক্ষকের) বেত্রাঘাত দোয়া স্বরুপ বলে মুঈমকে বুঝিয়ে আবার মাদ্রাসায় পাঠান। তখন শিক্ষক হাফেজ শাহীন আহমদ দ্বিতীয় দফায় তাকে আবার বেত্রাঘাত করেন। এতে মুঈম গুরুতর আহত হয়ে পড়ে।

নির্যাতিত শিশু ছাত্রের পরিবার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, বালিয়া টিলা হুসাইনিয়া কাদরিয়া জালালিয়া সুন্নিয়া জুনিয়র মাদ্রাসার হিফ্জ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ শাহীন আহমদ ছাত্র মুঈম মিয়াকে বাড়ির পড়া দিয়েছিলেন। মুঈম শিক্ষকের দেওয়া পড়া শিখে না আসায় শনিবার সকালে প্রথম দফা এলোপাতাড়িভাবে তাকে বেত্রাঘাত করেন। শিক্ষকের বেত্রাঘাত সইতে না পেরে  মাদ্রাসা থেকে দৌঁড়ে বাড়ি চলে যায়।

বাড়িতে তার বাবা-মা হুজুরের (শিক্ষকের) বেত্রাঘাত দোয়া স্বরুপ বলে মুঈমকে বুঝিয়ে আবার মাদ্রাসায় পাঠান। তখন শিক্ষক হাফেজ শাহীন আহমদ দ্বিতীয় দফায় তাকে আবার বেত্রাঘাত করেন। এতে মুঈম গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। আহত হয়ে বাড়ি ফিরলে শনিবার বিকালেই তাকে দ্রুত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। রোববার দুপুরে শিশু মুঈমকে আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে তার বাবা বাড়িয়ে ফিরিয়ে আনেন।

শিশু ছাত্র মুঈমের বাবা আব্দুল খালিক বলেন, মাদ্রাসায় পড়া না পারলে ছাত্রকে শাসন করবেন তা ঠিক। তবে এভাবে অমানবিক কায়দায় শাসন করা ঠিক হয়নি। তিনি সু-বিচার প্রার্থনা করেছেন। বালিয়া টিলা হুসাইনিয়া কাদরিয়া জালালিয়া সুন্নীয়া জুনিয়র মাদ্রাসার সুপার হাফেজ নোমান আহমদ রোববার রাতে মাদ্রাসায় বসে এ ঘটনার বিচার করবেন বলে তাকে জানিয়েছেন।

বালিয়া টিলা হুসাইনিয়া কাদরিয়া জালালিয়া সুন্নীয়া জুনিয়র মাদ্রাসার সুপার নোমান আহমদও এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সামাজিকভাবে বসে এর বিচার করে দিবেন।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়