ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭

মুজিবুর রহমান রঞ্জু, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২০:৫২, ২৫ অক্টোবর ২০২০
আপডেট: ১৬:০১, ২৬ অক্টোবর ২০২০

যানবাহনের চাপ বৃদ্ধিতে শমশেরনগরে জনদুর্ভোগ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ও ব্যবসা কেন্দ্র শমশেরনগরে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধিতে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে।

শমশেরনগর চৌমোহনা থেকে চারদিকের সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ও ব্যবসা কেন্দ্র শমশেরনগর চৌমোহনায় ৫টি সড়ক এসে মিলিত হয়েছে। এই চৌমোহনা থেকে পূর্ব দিকে সোজা একটি সড়ক চলে গেছে চাতলাপুর স্থল শুল্ক বন্দর ও অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) কেন্দ্রে। চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের উত্তর ত্রিপুরা ও আসামের একাংশের সাথে রয়েছে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য। ফলে প্রতিদিন আমদানিকৃত কমলা, আপেল, আনার, কেনো ও বিপরীত দিক থেকে বাংলাদেশী সিমেন্ট, প্রাণ আর এফ এল সামগ্রী, প্লাস্টিক সামগ্রীসহ বাংলাদেশী বিভিন্ন জাতের রপ্তানিযোগ্য সামগ্রীর প্রচুর পরিমাণে পরিবহন এ সড়ক ব্যবহার করে। তাছাড়া এই চৌমোহনা ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত যানবাহন

মৌলভীবাজার জেলা সদর, শ্রীমঙ্গল উপজেলা, মাধবপুর লেক, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কুলাউড়া উপজেলা, বড়লেখা ও মাধবকুন্ড জলপ্রপাত এলাকায় যাতায়াত করে। পর্যটকবাহী যানবাহন ও চা বাগানের যানবাহনগুলো এ এলাকা ব্যবহার করে। 

সরেজমিন দেখা যায়, দিনে দিনে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে সড়কটি পূর্বের মত সরু রয়ে গেছে। তার ওপর এ সরু সড়কের চৌমোহনা থেকে কমলগঞ্জমুখী সড়কে দুইদিকে গড়ে উঠেছে সিএনজি অটোরিক্সার স্ট্যান্ড। চৌমোহনা থেকে বিমান বন্দর সড়কের ডাকঘর এলাকায় ও চৌমোহনা থেকে চাতলাপুর সড়কেও গড়ে উঠেছে একটি সিএনজি অটোরিক্সার স্ট্যান্ড। ফলে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত  শমশেরনগর চৌমোহনা থেকে চার সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

শমশেরনগর বাজারে আরও একটি নতুন সমস্যা হচ্ছে প্রতিটি দোকানপাঠের সামনে গড়ে উঠেছে আলাদা ফলে দোকান। তাছাড়া দোকানীরা বারান্দায় পণ্য সামগ্রী রেখে বিক্রি করে সড়কটি আরও সুরু হয়ে গেছে। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গল হাট থেকে মোদী ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য সামগ্রী নিয়ে এসে শমশেরনগর বাজারের এই সরু সড়কে রেখে পণ্য সামগ্রী খালাস করেন। এতে করেও এই দুই দিন নতুন করে যানজটের সৃস্টি হয়।

করোনাভঅইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ রয়েছে। তবে ট্রাফিক জ্যামের কারণে শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজ, সুজা মেমোরিয়াল কলেজ, আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুল, হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, আব্দুল মছব্বির একাডেমী ও শমশেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দুর্ভোগের মাঝে পড়তেন। অভিভাবকরা কোমলমতি শিশুদের এই যানজট অতিক্রম করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতেন ও আবার বিকেলে তাদের নিয়ে আসতেন। তাছাড়া সাধারণ মানুষজন হাটবাজার করতে, ব্যাংক বীমায় যেতে হয় যানজট অতিক্রম করে। চলমান শারদীয় দুর্গা পূজার সময়ে কেনা কাটার জন্য বাজারে আসা নারী-পুরুষ,শিশুসহ সব বয়সী মানুষজন চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বণিক কল্যাণ সমিতি এ সমস্যা সমাধানে কোন ভূমিকা লাখছেন বলে মনে হয় না।

শমশেরনগর বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলাম খান বলেন, আসলে চৌমোহনা থেকে কমলগঞ্জ সড়ক, বিমানবন্দর সড়ক ও চাতলাপুর সড়কে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ড যানজটের অন্যতম কারণ। আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষক সৈয়দ হারুন শিপু বলেন, যানজটের কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সাথে থাকে আতংক সড়কে কোন দূর্ঘটনা ঘটে গেল কিনা তা ভেবে ? তিনি আরও বলেন, এখন শমশেরনগর বাজারে পথচারী চলাচলের কোন রাস্তা নেই।

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারার বণিক কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ, অটোরিক্সা চালক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছিল। তাতেও সমাধান হচ্ছে না। তবে যখনও যানজটের সৃষ্টি হয় তখন ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সড়কে নেমে যানজট নিরসনের ব্যবস্থা করেন। এ জন্য স্থানীয় সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। 

শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান ও সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আলী বলেন, তারা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ৩/৪ বার যানজট মুক্ত শমশেরনগর রাখতে বসেছিলেন। এখনও সেই চেষ্টা করছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ মৌলভীবাজারের সহকারি প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, সড়কটি আগের পরিমাপে উন্নয়ন কাজ হয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন কাজের সময় সড়ক জনপথের নির্দিষ্ট জমি বের করে কাজ শুরু হলে সড়কটি সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি মনে করেন। তাছাড়া  চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে পরিবহন চলাচলের জন্য পেট্রোল পাম্পের কাছ থেকে চা বাগানের রাস্তা ব্যবহার করে যদি খ্রিস্টান মিশনের সামন দিয়ে মূল সড়কে বাইপাস করা যায় তা হলে যানজটের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তবে এ জন্য সাংসদ ও জনপ্রতিনিধিরা ভূমিকা রাখতে হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক শমশেরনগরের যানজটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ সমস্যা সমাধানে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

আইনিউজ/এইচকে

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়