ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:৪৮, ১৭ অক্টোবর ২০২০

রায়হানের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ১১১ টি

রায়হান আহমদ। ফাইল ছবি

রায়হান আহমদ। ফাইল ছবি

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হানের শরীরে ১১১ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ফরেনসিক রিপোর্টে এসব আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে। এসব আঘাতের ৯৭টি নীলা ফোলা আঘাত ও ১৪টি জখমের চিহ্ন ছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম।

তিনি জানান, আঘাতগুলো লাঠি দিয়েই করা হয়েছে। আর আঘাতের কারণে শরীরের ভেতর রগ ফেটে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান রায়হান। আঘাতে শরীরের মাংস থেঁতলে যায়। রগ ফেটে গিয়ে আন্তঃদেহে রক্তক্ষরণ হয়। আর অতিরিক্ত আঘাতে মূর্ছা যান রায়হান। আঘাত করার সময় রায়হানের স্টমাক খালি ছিল। স্টমাকে ছিল কেবল এসিডিটি লিকুইড।

ডা. শামসুল ইসলাম বলেন, ফরেনসিক রিপোর্টটি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হান মারা যান।

১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত শেষে ডা. শামসুল ইসলাম জানান, রায়হানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়।

ওইদিন রায়হানের লাশ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে আখালিয়া নবাবী মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে ফের দাফন করা হয়।

গত ১১ অক্টোবর ভোরে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। এরপর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একইসঙ্গে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার পর রোববার থেকে আকবর পলাতক রয়েছেন।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়