ঢাকা, শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ৩১ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:১৪, ১ জুলাই ২০২০
আপডেট: ২২:৫০, ১ জুলাই ২০২০

শ্রীমঙ্গলে যুবদল নেতা আটক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সদর ইউনিয়নের সুরভীপাড়ায় একটি বাসা থেকে স্কুল শিক্ষিকাসহ এক যুবদল নেতাতে আটক করেছে পুলিশ। পরে শিক্ষক নেতাদের জিম্মায় তাদের হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার দিবাগত রাতে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের সুরভীপাড়া থেকে  তাদের আটক করে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ। মঙ্গলবার দিনভর আলোচনার পর  দুপুরে এই নারী ও সন্ধ্যার যুবদল নেতাকে শিক্ষক নেতাদের জিম্মায় দেওয়া হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর এলাকা এই নারী একটি সরকারি স্কুলের সহকারি শিক্ষকা। তার বিয়ে হয় হবিগঞ্জের এক ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে। বিয়ের পর তাদের দুই সন্তানও জন্ম হয় । কিন্তু বিয়ের পর থেকে এই নারী শিক্ষিকা বিভিন্ন অসামাজিক ও পরক্রিয়ায় লিপ্ত হন এই অভিযোগ স্বামীর । এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলোহ শুরু হয়। স্বামীর হাতে কয়েকবার পরকিয়ায় ধরা পরেন তিনি।

 এক পর্যায়ে স্বামী আলাদা হওয়ার জন্য ডির্ভোস দিতে চাইলে শিক্ষিকা ডির্ভোসে রাজি হন নি। বরং বড় অংকের টাকা পেলে ডির্ভোস দিবেন বলে জানিয়ে দেন। স্বামী টাকা দিতে অক্ষম থাকায় ডির্ভোসের জন্য আদালতের দারস্ত হন। যা নিয়ে সহকারি জজ আদালত আজমেরিগঞ্জ, হবিগঞ্জে মামলা চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গলের যুবদল নেতা সোহরাব হোসেন রুহিনের সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত হন এই নারী, তাদেরকে ঘনিষ্ট ভাবে বিভিন্ন জায়গায় একসাথে ঘুরতে দেখা গেছে এমনকি স্বামীর সাথে চলা মাললার কাজে হবিগঞ্জে সোহরাবকে সাথে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে।

এরই এক পর্যায়ে গত সোমবার দিবাগত রাতে সুরভীপাড়ার একটি বাসা থেকে রাত দুইটায় তাদেরকে  আটক করে পুলিশ। রাতভর থানায় থাকার পর  মঙ্গলবার শিক্ষিকার সামাজিক মর্যদা এবং ভর্বিষ্যদের কথা ভেবে শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষক নেতারা স্বামীর সাথে ডির্ভোসের বিষয়টি মিমাংশা করতে সাহায্য করার কথা বলে তাদের জিম্মায় শ্রীমঙ্গল থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন।


শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালেক বলেন, দুজনকেই  শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। সমস্যার সমাধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা করে দিবেন।

এ বিষয়ে এই নারীর স্বামী রাহুল চন্দ্র জানান, একাধিক পুরুষের সাথে আমি তাকে আপত্তিকর অবস্থায় পেয়েছি। প্রথমে দুটি বাচ্চার কথা চিন্তা করে আমি তাকে অনেক বুঝিয়েছি ভালো পথে রাখার জন্য। কিন্তু সে দিনে দিনে পরকিয়ায় বেপোরোয়া হয়ে উঠায় এবং অসামাজিক কাজের খবর পেয়ে আমি সর্বশেষ ডির্ভোস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। হিন্দু বিবাহ আইনে ডির্ভোসের জন্য দুজনের সম্মতির প্রয়োজন হয়। সেই সুযোগ নিয়ে সে আমার কাছে ডির্ভোস দিতে ২৫ লক্ষ টাকা দাবী করে। আমি এত টাকা দিতে অক্ষম। সে আমাকে ডির্ভোসও দেবে না আবার অসামাজিক কাজও করে লিপ্ত থাকবে। এ নিয়ে অনেক সালিশ বিচারও হয়েছে আমি বর্তমানে আদালতের রায়ের অপেক্ষা করছি, আমি মানসিক ভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছি। আমি এই নারী থেকে মুক্তি চাই। সে আমাকে ডিভোর্স দেবেনা আবার অন্যদের সাথে যা ইচ্ছে করবে এটা কিভাবে হয়?

 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়