ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৪:৩৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ০৪:৪০, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এনআরসির প্রভাব পড়েছে বিজেপির ভোটের রাজনীতিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশের কিছুদিন পর থেকেই এনিয়ে চিন্তিত বিজেপি সরকার। কারণ যা ভাবা হয়েছিলো তা না হয়ে এন আরসির ফল হয়েছে উলটো।  আসামে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক তালিকা এনআরসি প্রকাশের পর এত দিন মনে করা হয়েছিল, বাদ পড়াদের তালিকায় মূলত মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাম থাকবে। কিন্তু সেখানে বাদ পড়েছেন ১১ লাখ হিন্দু। যার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দলটির ভোটের রাজনীতিতে। আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বাদ পড়াদের অর্ধেকের বেশি হিন্দু, গোর্খা ও স্থানীয় আদিবাসী। এদের নাম এনআরসি থেকে বাদ পড়ার ফলে সামনে বিজেপির হিন্দু ভোট-ব্যাংক ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির আসাম শাখার নেতারা। তবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘‘সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেবে।’’ আসাম এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের নাম। যা ২০১৮ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় বাদ পড়াদের অর্ধেক। সারা আসাম বাঙালি যুব ছাত্র ফেডারেশনের দাবি, এর মধ্যে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যা ১০ থেকে ১২ লাখ। বাঙালি মুসলিম বাদ পড়েছেন দেড় থেকে দুই লাখ। সম্প্রতি আসামের বিজেপির সভাপতি রঞ্জিত দাস বলেন, “১৯৯১ সালে আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিতেশরঞ্জন সাইকিয়া বলেছিলেন, আসামে ৩০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছে। এরপর, কংগ্রেসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীপ্রকাশ জয়সওয়াল রাজ্যসভায় বলেন, আসামে ৫০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছে। এমনকি এইচ ডি দেবগৌড়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রজিৎ গুপ্তও আসামে ৪২ লাখ অবৈধ বিদেশি বাসের কথা বলেছিলেন… তাহলে এখন কী করে আমরা ১৯ লাখ সংখ্যাটা মেনে নেব?” তবে বাদ পড়া হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি- এমন অভিযোগ আসামের কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেবের। কারণ, ১৯৭১ সালের আগে যারা আসামে এসেছেন, তারা কোনোভাবেই নাগরিকত্ব আইনের সুবিধা পাবেন না। সুস্মিতা বলেন, ‘‘নাগরিকত্ব বিলে ১৯৭১ সালের পরে যারা ভারতে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। তার আগে যারা এসেছেন, তারা ওই সুযোগ পাবেন না।’’ এই নেত্রীর দাবি, এনআরসি-তে বাদ পড়া বাঙালিদের একটি বড় অংশ হলফনামায় জানিয়েছেন- তারা ১৯৭১ সালের আগে ভারতে এসেছেন। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়েই গেল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি করছে বিজেপি। এ দিকে, দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করে এমন ‘ত্রুটিপূর্ণ একটি তালিকা’ তৈরির পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার জন্য সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে সারা আসাম বাঙালি যুব ছাত্র ফেডারেশন। বুধবার দিল্লিতে হওয়া একটি আলোচনাচক্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, ফের বাঙালিদের আসাম ছাড়া করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি উৎপল সরকার বলেন, ‘‘অতীতে অস্ত্র দেখিয়ে আসাম থেকে বাঙালিদের তাড়ানো হয়েছিল। এবার কাগজে-কলমে নাম না তুলে ফের বাঙালিদের ভিটে থেকে উৎখাত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’’ নাম বাদ পড়া বাঙালি পরিবারদের প্রয়োজনে আইনি সাহায্য দেওয়া হবে- এমন আশ্বাসও দিয়েছে সংগঠনটি। আইনিউজ/এইচএ
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়