আপডেট: ০৮:১৬, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ঘুষ না দেওয়ায় আসামির স্ত্রীকে ধর্ষণ করলেন এসআই
যশোর: অপরাধের জন্য আসামির কাছে ঘুষ চেয়েছিলেন এসআই খাইরুল। কিন্তু ঘুষ না দেওয়ায় আসামির স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন এসআই। যশোরের শর্শায় এমন ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরিফ আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘ওই নারীর মেডিকেল পরীক্ষায় ঘটনার দিন শারীরিক সম্পর্কের আলামত সিমেন মিলেছে। এখন ডিএনএ টেস্টে প্রমাণ হতে পারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এ ঘটনায় জড়িত কিনা।’
যশোরের পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন শিকদার জানিয়েছেন, ধর্ষণের আলামত আজ রাতেই ঢাকার সিআইডির গবেষণাগারে পাঠানো হবে।
শার্শা উপজেলার এই নারী গত ৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করেন, ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয় গোরপাড়া ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই খায়রুল এবং তার সোর্স কামরুল তাকে ধর্ষণ করেছে। এসময় লতিফ ও কাদের নামে দুইজন ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে এসআই খাইরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও আসামি করা হয়নি এসআই খাইরুল ইসলামকে। তবে তাকে গোরপাড়া ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই গৃহবধূ। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন শিকদার জানান, ওই নারীর অভিযুক্ত চারজনকেই তার সামনে হাজির করা হলে তিনি এসআই খায়রুল ছাড়া বাকি তিনজনকে তিনি শনাক্ত করেন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার তদন্ত চলছে, অজ্ঞাত ব্যক্তিটি যদি পুলিশও হয় তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফরিদ ভুইয়া জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে আটক তিনজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত আগামী ৮ সেপ্টেম্বর রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এদিকে লক্ষণপুর গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বাড়িকে পাওয়া যায়নি।
যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রহরায় ওই নারীকে বুধবার তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এদিকে নির্যাতনের ঘটনা সত্য হলে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার দুপুরে যশোরের সংবাদকর্মীরা নির্যাতিত ওই নারীর বাড়ি গিয়ে জানতে পারেন কিছু সময় আগে পুলিশ সদস্যরা তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন। কিন্তু এরপর থেকেই ওই নারীকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো গ্রাম খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে ওই নারীর প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা ভয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন কিন্তু এসআই খায়রুলকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন শিকদার বলেন, ‘যেহেতু এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি দোষী সে কারণে প্রত্যাহার হয়েছে- এমনটি নয়। তা ছাড়া যেহেতু তার নামে অভিযোগ করা হয়েছে, তাই কর্মস্থলে তিনি কাজ করতে অস্বস্তিবোধ করতে পারেন।’
আইনিউজ/এইচএ
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























