ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১৩:৩২, ২৫ এপ্রিল ২০১৯
আপডেট: ১৩:৩২, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

দাদার বাড়ি দেখা হলো না শিশু জায়ানের

সুনামগঞ্জ: সম্প্রতী শ্রীলংকায় ঘটে যাওয়া বর্বোরুচিত বোমা হামলায় নিহত বিদেশীদের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা শেখ সেলিমের নাতী জায়ন চৌধুরী। গত রবিবার ইষ্টার সানডে পালনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর কয়েকটি গীর্জা ও হোটেল সহ আটস্থানে সিরিজ বোমা হামলায় নিহত হন  জায়ান চৌধুরীও । বুধবার বাবাকে ছাড়াই দেশে আনা হচ্ছে শিশু জায়ানের মরদেহ। বুধবার বাদ আসর জায়ানের জানাজার নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়। বনানী করবস্থান প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে একটু বাম দিকে এগিয়ে গেলেই জায়ানের কবর। মাত্র আট বছর বয়সী ছোট্ট জায়ান চৌধুরী(০৮) ’কে এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জায়ান চৌধুরীর আদিবাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ায়। এককালে এলাকায় এই পরিবারের জমিদারি ছিলো বলে এখনো জমিদারির চিহ্ন লেগে আছে এলাকায়। জায়ানদের ভাটিপাড়ার আলিসান চৌধুরী বাড়ি নামে এখনো পরিচিত। তবে জীবদ্দশায় সেই বাড়িটি আর দেখে যেতে পারেন নি জায়ান চৌধুরী(০৮)। দাদুবাড়ি দেখার আগেই তাকে ছেড়ে যেতে হয়েছে এই পৃথিবী। চলতি বছরেই গ্রামের বাড়ি আসার কথা থাকলেও  নিজের পৈতৃক ভিটা আর দেখা হলো না এই শিশু জায়ানের। জায়ানের নানা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা শেখ সেলিম। আর দাদা দাদা মতিনুল হক চৌধুরী পারুল। আগামী নভেম্বরের শুরুতেই প্রথমবারের মতো পৈতৃক নিবাস দিরাই’র ভাটি পাড়ায় আসার কথা ছিল জায়ানের। নাতি বাড়ি আসবে, সেই খুশিতে দাদা সপ্তাহখানেক আগে মতিনুল হক চৌধুরী ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে শুরু করেন বাড়ির সংস্কারকাজ। বাড়ি এসে শ্রমিক লাগিয়ে নতুন করে চৌধুরী নিবাস সংস্কার, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা, বিদ্যুত সংযোগ নেওয়ার কাজ শুরু করেন। বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন ফ্রিজ। বিদ্যুৎ ভোগান্তির শংকায় নতুন জেনারেটর কিনেছিলেন। সহ মুল্যবান আসবাবপত্র। গাড়ি যাতে সহজে বাড়িতে আসতে পারে, সে জন্য রাস্তায় নতুন মাটি ভরাট করেন। নাতী বাড়িতে আসবে এই খুশির খবরটি জানিয়েছিলেন গ্রামের সবাইকে। কিন্তু রোববার বিকেলে পাওয়া দুঃসংবাদে সব এলোমেলো হয়ে যায়। বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স ও মা শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার সাথে শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে গিয়েছিলো দুই ভাই জায়ান ও জোহান। কিন্তু সবাইকে কাঁদিয়ে জায়ান দেশে ফিরে আসেন মৃত লাশ হয়ে। আর তাই নাতিকে নিজেদের আদি বাড়ি দেখানোর বাসনা অধরাই রয়ে গেল। বোমা হামলায় হতাহতের খবর পেয়ে রোববার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি ছেড়ে মতিনুল হক ঢাকার বাসায় ছুটে যান। নাতীর মৃত্যুর খবর শুনে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। মতিনুল হক চৌধুরীর ভাতিজা সুজাত বখত চৌধুরী বলেন, সম্পর্কে উনি আমার চাচা হলেও আমরা ছিলাম সমবয়সী। তিনি (মতিনুল হক) ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি দিরাই আসার সময় আমাকে সাথে নিয়ে এসেছিলেন। গল্প করেছেন উনার নাতী আদরের জায়ান চৌধুরী গ্রামের বাড়ি আসবে আগামী নভেম্বরে। তাই গ্রামের বাড়ি নতুন করে সাজানো, সংস্কার কাজে তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে করাচ্ছিলেন। সুজাত চৌধুরী আরও বলেন, রবিবার বিকেলেও আমি আর চাচা এক সাথেই ছিলাম, হঠাৎ করেই শ্রীলঙ্কায় দুর্ঘটনায় নাতি ও ছেলের আহত হবার খবর আসে। এতে হাস্যোজ্জ্বোল মানুষটির একেবারে মুষড়ে পড়েন। তড়িগড়ি করেই ঢাকায় বাসায় ফিরেন। তারপর জায়ানের কথা মনে পড়তেই বারববার ঢুকরে কেঁদে উঠছিলেন মতিনুল হক চৌধুরী।  জায়ান এভাবে সবাইকে ছেড়ে চলে গেল, এটা মেনে নিতে পারছেন পরিবারের কেউই । বারবার শুধু বলছেন, ‘তারা কেন আমার নিষ্পাপ নাতিকে মারল। তার কী দোষ ছিল।’ জায়ানের দেখা হয়নি দাদুবাড়ি। তাই নাতীর গ্রামের বাড়ি আসার গল্পটা গল্পই রয়ে গেল মতিনুল হক চৌধুরীর কাছে। উল্লেখ্য, গত রবিবার ইষ্টার সানডে পালনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর কয়েকটি গীর্জা ও হোটেল সহ আটস্থানে সিরিজ বোমা হামলায় নিহত হন তিন শতাধিক ব্যক্তি। নিহতদের মধ্যে জায়ান চৌধুরীও রয়েছে। এই হামলায় জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সও গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি শ্রীলঙ্কার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।  
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়