ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৮:৩০, ২৬ এপ্রিল ২০১৯
আপডেট: ০৪:৫৫, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

ঘুরে আসুন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের বাড়ি

হেলাল আহমেদ: ভাটি অঞ্চলখ্যাত সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধল গ্রাম ঐতিহ্যগত দিক থেকে একটি প্রসিদ্ধ জনপদ। হাওর বেষ্টিত এই জনপদের নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য সহজেই আকর্ষিত করতে পারে আপনাকে। বর্ষা এবং শুষ্ক এই দুই মৌসুমে  ফুটে ওঠে এখানকার সৌন্দর্য। তাই দুই মৌসুমেই ঘুড়ে আসতে পারেন উজান ধল থেকে। বর্ষার সময় সাধারণত ধল গ্রামের চারদিক পানি বেষ্টিত থাকে। যেদিকে চোখ যায় শুধু অথৈ জলের জলতরঙ্গ শোনা যায় এখানে এলে। হাওর ভরা পানিতে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। তবে শুষ্ক মৌসুমে এই রূপ একেবারেই বদলে যায়। তখন হাওরের বিশাল অংশ জুড়ে ভেসে ওঠে সবুজে আচ্ছাদিত মাঠ। যেদিকে চোখ মেলা যায় সেদিকেই তখন সবুজ ঘাস আর ছোট বড় বিল আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। দূর থেকে দেখলে ধল গ্রামটিকে দেখলে মনে হয় এ যেন হাওরের রাজপূত্র। সকালে কালনীর তীরে এসে দাঁড়ালে ভাটি বাংলার দখিনা হাওয়ায় মোহিত হতে হয় কিছুক্ষনের জন্য হলেও। বর্ষার সময় এই জনপদের একমাত্র বাহন নৌকা। তবে শুকনার মৌসুমে হাওর শুকিয়ে যাওয়ার ফলে দিরাই উপজেলা শহর থেকে গাড়ি দিয়ে ৮ কি.মি পূর্ব দিকে গেলেই দেখা মিলে ঐতিহ্যবাহী এই জনপদের। ধল গ্রাম মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। নদীর পূর্ব পাড়ের অংশটি ভাটি ধল বা লামা ধল এবং পশ্চিম তীর ঘেঁষা অংশটি হলো উজান ধল। আর এই দুই তীরের মাঝখান দিয়ে সোনালী সূতার মতো বয়ে যাওয়া কালনী নদী গ্রামের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তোলেছে দ্বিগুণ। নদীর পশ্চিম পাড়ে আব্দুল করিমের বাড়ির খুব কাছেই প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের প্রথম মঙ্গলবার বসে দুইদিন ব্যাপী গ্রামীন মেলা। লোকমুখে এই মেলাকে ধলের মেলা নোমে জনশ্রুত। নদীকে কেন্দ্র করে প্রাচীন কালেই গড়ে ওঠেছে ধল বাজার। চাইলে এখানে এসে সকালে এক কাপ চা হাতে কালনীর তীরে দাঁড়িয়ে সকালের আগমনী লাল সূর্যের পরিপূর্ণ স্বাদ নিতে পারেন। যেমনটা ছবিতে দেখছেন। তবে হ্যা আধুনিকায়নের দিক থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে প্রসিদ্ধ এই জনপদটি। [caption id="attachment_1843" align="alignnone" width="960"] এটাই করিমের স্বর্গ।  ছবি: অনাদী দাশ।[/caption] এই ধল গ্রামেই জন্ম নিয়েছেন সিলেট তথা এই গাঙ্গের অববাহিকার প্রখ্যাত বাউল শাহ আব্দুল। নদীর পশ্চিম পাড়েই (উজান ধল) ছোটবেলা কাটিয়েছেন এই বাউক সাধক। এই ধল গ্রামের কথা আব্দুল করিমের বেশ কিছু গানের মধ্যেও পাওয়া যায়। যেমন তিনি তার একটি গানের শেষের দিকে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, 'জন্ম আমার সিলেট জেলায়, সুনামগঞ্জ মহকুমায়- বসত করি দিরাই থানায়, গাঁয়ের নাম হয় উজান ধল, কেউ বলে শাহ আব্দুল করিম কেউ বলে পাগল।' চাইলে ধল গ্রামে আসলে আব্দুল করিমের বাড়িটিও ঘুড়ে যেতে পারেন। যেখানে রয়েছে আব্দুল করিমের স্মৃতিবিজড়িত বসত ভিটা। নির্মাণাধীন আব্দুল করিম জাদুঘর বা সংগ্রহশালা এবং তার কবর। তবে হ্যা ঘুড়ার জন্য আসলে শুকনা মৌসুমে আসাটাই শ্রেয়। অন্যদিকে বর্ষার সময় আসলে অনেক কাঠখর পোহাতে হতে পারে। বকননা বর্ষাকত ধল গ্রামের চারদিক জুড়ে থাকে অথৈ জল। তাই এরকম প্রস্তুতি নিয়ে আসাই ভালো। আর হ্যা, শুকনা মৌসুমে একটি সকাল এসে ধল গ্রামে নির্দ্বিধায় কাটাতে পারেন। সকালের কালনী নদীর বয়ে আনা দখিনা হাওয়া আপনাকে মোহিত করবে এটুকু বলতেই পারি। যেভাবে আসতে হবে- ঢাকা গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস স্ট্যাণ্ড থেকে বর্তমানে সরাসরি দিরাই এর বাস পাওয়া যায় এবং যারা ট্রেনে আসতে চান তারা কমলাপুর থেকে ট্রেনে করে সিলেট এসে সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যাণ্ড থেকে আবার বাসে করে দিরাই আসতে পারবেন। আবার সুনামগঞ্জ থেকেও বাস, লেগুনা, কিংবা মোটরবাইকে করে দিরাই আসা যায়। আর দিরাই থেকে শুকনা মৌসুমে অটো কিংবা মটরবাইক দিয়ে ধল গ্রামে যাওয়া যায়। তবে বর্ষা মৌসুমে দিরাই থেকে ধল যাবার একমাত্র বাহন হলো নৌকা। দূরত্ব দিরাই উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৮কি.মি। আসার সময় যা মনে রাখতে হবে- বর্ষার সময় আসলে অবশ্যই মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ইত্যাদি রাখার জন্য ওয়াটার প্রুফ ব্যাগ নিয়ে আসলে ভালো হবে। বলে রাখা ভালো  ধলে থাকার মতো ভালো কোনো আবাসিক হোটেল নেই। তাই থাকার জন্য দিরাই উপজেলা শহরের কোনো একটা হোটেলে আগেই বোকিং দিয়ে রাখতে পারেন। [caption id="attachment_1842" align="alignnone" width="960"] আব্দুল করিমের বাড়ির সামন থেকে কালনীর পাড়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন নদীর জলে সূর্যের অবগাহন। ছবি: অনাদী দাশ।[/caption]  
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়