প্রকাশিত: ০৩:৫৭, ২৭ এপ্রিল ২০১৯
আপডেট: ১১:৩৯, ৩ মে ২০১৯
আপডেট: ১১:৩৯, ৩ মে ২০১৯
স্মৃতিতে আবু সিনা ছাত্রাবাস
সোস্যাল মিডিয়া: ৬৯সনে ১৮বছর বয়সে জীবনের প্রথম ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম অনেক কিংবদন্তীদের কাছে। বোর্ডে ছিলেন অধ্যাপক ডাঃ খালেক ডাঃ রকিব ডাঃ সৈয়দ ইরশাদ আলী,ডা:আবু আহমদ চৌধুরী। বোর্ডের হেড ছিলেন প্রিন্সিপাল শহীদ কর্নেল ডাঃ জিয়াউর রহমান। সেই শ্রদ্ধাভাজন মানুষদের কেউই এখন আর জীবিত নেই।আল্লাহ উনাদের জান্নাত নসীব করুন। বিখ্যাত মানুষদের সামনে মনে হচ্ছিল আমি যেন এক গিনিপিগ!
অর্ধশতাব্দী পূর্বের সেই সময়টুকু এখনও স্মৃতিতে চির অম্লান। প্রশ্ন বেশি করেছিলেন রকিব স্যার। সেই বছর মানব সভ্যতার ইতিহাসের যুগান্তকারী ঘটনা ছিল চাঁদে মানুষের অবতরণ। সেটা নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন স্যারকলেজ হোস্টেলে নিজের ট্রান্সিস্টর ছিল, আগ্রহ ভরে সেই খবর শুনতাম। সেটা কাজে আসল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ সময়ে, স্যার ও খুশি। সন্ধ্যা হয়ে গেছে,রুমের বাতি জ্বালানো হলো। প্রিন্সিপাল স্যার বললেন ভালোই বলেছ, এখন বলতো দেখি লাইট ভাল্বের উপর শেড কেন দেওয়া হয়েছে ?
বললাম স্যার আলো প্রতিফলিত হয়ে টেবিলে পড়ার জন্য। খুশি হয়ে বললেন তোমার এডমিশন হয়ে যাবে,যাও দরগাতে শিরনি দাও।
শিরনির কথা না বললে হয়তো সব ঘটনাগুলো এভাবে মনে থাকতোনা।
সেই বছর আমরা ভর্তি হই ১০০ জন, এর আগের বছর ৭৫ জন ছিলেন তার আগে ৫০ জন করে ছিলেন কয়েক বছর। প্রথম ব্যাচে ছিলেন ২৫ জন। আমরা ৮ নম্বর ব্যাচ হোস্টেল তখন শুধু শহীদ শামসুদ্দিন হোস্টেল। ছাত্র বেশি হওয়াতে স্থান সংকুলানের সমস্যা হলো। কমন রুমে জায়গা দিয়েও সমাধান হচ্ছিলনা, ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ স্টোর ছিল হোস্টেলের পুরো একটি ব্লক ও আরেকটি ব্লকের অর্ধেক। আমরা স্টোর সরানোর আন্দোলন শুরু করলাম। সিনিয়র ভাইদের সমর্থন ছিল আন্দোলনে। আমাকে কনভেনর করে কমিটি গঠন করা হল। কিছুদিনের মধ্যেই স্টোর সরানো হলে সুরাহা হয়। আমরা ছিলাম পুরাতন মেডিকেল কলেজের লাস্ট ব্যাচ এনাটমি হল সহ lecture সব কিছুই ওখানে হতো।পুরাতন এনাটমি হলের আমরা ছিলাম শেষ ব্যাচ।
কিছুদিন পর নুতন কলেজ কাজলসাহে হলে এনাটমি ফিজিওলজির lecture ওখানে শুরু হয়।নুতন হাসপাতাল আমরা বেরিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয়। ওখানে যাওয়া যে কি বিড়ম্বনা ছিল সেই সময় এখন বিশ্বাস করা ও কঠিন। রিক্সা পাওয়া যেতনা, ছেলে মেয়ে সবাইকে হেঁটে যেতে হতো প্রায়ই। রিকাবী বাজারের পর দু একটি বাসা ছাড়া ওখানে কোনো স্থাপনা ছিলনা।বৃষ্টির সময় কোথাও দাঁড়ানোর ও উপায় ছিলনা। নুতন হাসপাতাল ভবন তখনও নির্মাণাধীন।
স্মৃতির সবকিছুই আবুসিনা ছাত্রাবাস শামসুদ্দিন হোস্টেল ও শহীদ শামুদ্দিন হাসপাতাল ঘিরে! তখন interwing scholarship এর কারণে ২৫% ছাত্র পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে পড়তে আসতো একই ভাবে এখান থেকে ও ওখানে যেত। আমার পাশের রুমে এক পাঠান ছিল এক বছরের সিনিওর নাম ইসরার। ওর সাথে খুব ভাব হয়ে যায়। উর্দুতে কথা বলা কিছুটা প্রথম ওর কাছ থেকেই শিখি।
মহিষের ঘি নিয়ে এসেছিল সাথে করে, জীবনের প্রথম মহিষের ঘি সে খাইয়েছিল আমাকে। আমার ক্লাসমেট ও সিনিওর অনেক সুন্দরী মেয়েরা ছিল ওখান থেকে আসা। অর্ধশতাব্দী পরেও অনেককে এখনও মনে আছে।
কত ঘটনা মনে পড়ে, প্রথম নির্বাচন হল ছাত্র সংসদের নিশ্চিত ফেল জেনে বাক্সের ভিতর রিএজেন্ট দিয়ে আগুন লাগিয়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করা! বৈশাখী নাট্যগুস্টির বাবুলদা,মিনদা, ফজল ভাইদের নিয়ে নাটক করেছি অডিটোরিয়ামে(lec ture hall)
৬৯,৭০,৭১এর উত্তাল সেই দিনগুলি! বিশাল মিছিল নিয়ে বন্দর বাজার পর্যন্ত যাওয়া ছাত্রী,নার্স সহ অনেক মহিলারাও থাকতেন মিছিলে রাস্তার লোকজনও যোগ দিতেন আমাদের সাথে।৭১ মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে শহীদ শামসু্দীন স্যার কয়েক জন ছাত্র নিয়ে কলেজ ভবনটির মাঝখানে ঘাসের উপর বসেছিলেন।বলেছিল েন আমার মনে হচ্ছে বিশাল বিপর্যয় আমাদের সামনে।অনেক মানুষ হতাহত হবে,তোমরা মেডিকেল team গঠন করে মানুষকে সেবা দেবে প্রয়োজনে হাসপাতাল নিয়ে আসবে।আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম সেখানে।বাকী সবাই ছিলেন সিনিওর।কলেজ বন্ধ ঘোষনা হওয়াতে সবাই যার যার বাড়ীতে চলে যায়। স্যার নিজে উনার টিম নিয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন টিমের অন্যান্য সদস্য সহ।জল্লাদরা হাসপাতালের ভিতর সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
নুতন হাসপাতালের জন্য শতাব্দী প্রাচীন ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে, সোনালী অতীতের সেই স্মৃতিময় জায়গাটুকু আর আগের মতো থাকবেনা।হারিয়ে যাবে সেই ঐতিহ্য। পৃথিবীর যে কোনো শহরেই এরকম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাকে হেরিটেজ গন্য করা হয়, যত্ন সহকারে রক্ষা হয়। আর আমরা এটাকে সংরক্ষণ না করে ভাঙছি! উন্নত হাসপাতাল হবে, চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি পাবে সেটা সবারই কাম্য। কর্তৃপক্ষ বিকল্প জায়গাতে হাসপাতালটি করলে পারেন, এতে যানজট কমবে নাগরিক ভোগান্তি থেকেও এলাকাবাসী রক্ষা পাবেন। সর্বোপরি ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ও আগের মতো থাকবে।
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
























