ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৩ মে ২০২১,   বৈশাখ ৩০ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:০১, ৩০ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ০০:৪২, ৩০ এপ্রিল ২০২১

একটি সবুজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদাহরণ হবে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মোহনায় অর্থনৈতিক বিশেষ এই অঞ্চলের শুভ সূচনা হলো। দেশী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিযোগ করেছেন প্রবাসীরাও।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে এ উন্নয়ন যাত্রার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ- বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

এ সময় তিনি এক প্রশ্নের জবাবে আইনিউজসহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, একটি সবুজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদাহরণ হবে শ্রীহট্র অর্থনৈতিক অঞ্চল। মৌলভীবাজার শেরপুরে অবস্থিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিত্যক্ত ক্যামিকেল, বর্জ্য ও পানি পরিশোধনের ব্যবস্থাসহ পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে। পরিবেশ দূষণের কোন সুযোগ রাখা হবে না। তারপরও যদি কেউ এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটায় তখন সে শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দেয়া হবে।

তিন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজের সূচনা

তিন বিনিয়োগকারী কর্তৃক নির্মিতব্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজের শুভ সূচনা করা হয় বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল)। প্রতিষ্ঠানসমূহ হল পলমল গ্রুপের আয়েশা ক্লথিং লিমিটেড ও আসোয়াদ কম্পোসিট লিমিটেড, গ্রেট ওয়াল সিরামিকস লিমিটেড এবং ডাবল গ্লেজিং লিমিটেড।

করোনা মহামারীর কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সীমিত পরিসরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। সভায় মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানসহ বিনিয়োগকারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল মৌলভীবাজার

শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে ৩৫২ একর জমির উপর অবস্থিত যার পূর্বে সিলেট, পশ্চিমে হবিগঞ্জ, উত্তরে সুনামগঞ্জ ও দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা। শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রায় ৪৪,০০০ লোকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ২৩১ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। যেখানে ১৯টি শিল্প কলকারখানা নির্মাণ করা হবে। ৬টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে । এর মধ্যে উল্লিখিত চারটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪২ একর জমিতে শিল্প কারখানা নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। এতে ১১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে সাড়ে পাঁচ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়া অপর দুটি প্রতিষ্ঠান হল আব্দুল মোনেম লিমিটেড এবং ডিবিএল গ্রুপের ফ্ল্যামিঙ্গো ফ্যাশন। তাদেরও পরিকল্পনা রয়েছে এ বছরের মধ্যে শিল্প নির্মাণের। এ অঞ্চলে ইতোমধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ প্রদানের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, করোনাকালেও বেজা তার কাজের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। সিলেটের প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে এটি অর্থনৈতিক গতিধারায় পুরোধা হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের হাত ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত স্বমহিমায় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ-বান্ধব সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে এবং বিশ্বের কাছে উন্নয়নের একটি রোল মডেল স্থাপন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এর ফলে এদেশে শিল্পায়নের অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধিত হবে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যসমূহ পূরণ হবে। তিনি কাজ শুরু করার জন্য বিনিয়োগকারীদের অভিনন্দন জানান।

প্রতিষ্ঠানসমূহ দ্রুত শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিনিয়োগকারীদের বক্তব্য

পলমল গ্রুপের পরিচালক কে এম মাহতাব উদ্দিন বলেন, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবার আগে শিল্প নির্মাণ করতে পেরে আনন্দিত। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে তাদের শিল্প নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।।

গ্রেট ওয়াল সিরামিকস লিমিটেড-এর নির্বাহী পরিচালক মো. খালেদুজ্জামান বলেন, এ সিরামিক ইন্ড্রাস্টি হবে অন্যতম আধুনিক শিল্প। যা কমপ্লায়ান্স নিশ্চিত করে নির্মাণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন তার প্রতিষ্ঠান এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দুই হাজারের অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ডাবল গ্লেজিং লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম বলেন, তাদের শিল্প পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ উৎপাদিত পণ্য হবে শতভাগ এনার্জি এফিসিয়েন্ট।

নারী শিল্প উদ্যোক্তা মনোজাহা পলি বলেন, এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ফলে সকল সুযোগ-সুবিধা সহজে পাওয়া যাবে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর থাকায় তারা বিনিয়োগ করছেন।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমুহে দক্ষ এবং চাহিদাভিত্তিক জনবল তৈরীর জন্য ইতোমধ্যে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের হাত ধরে এ জনপদ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলেন পলমল গ্রুপের পরিচালক আদনান ইমতিয়াজ, ডাবল গ্লেজিং লিমিটেডের অপারেশন্স ডিরেক্টর মনোজাহা পলি।অনুষ্ঠান শেষে মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী চারটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজের শুভ সূচনা করেন। সভায় মৌলভীবাজার চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যবৃন্দসহ জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়