ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৪৫, ১ মে ২০২১
আপডেট: ১৮:১৪, ১ মে ২০২১

করোনাকালের মে দিবস ও এর ইতিহাস

করোনাকালে পেট চালাতে বের হয়ে রিকশাচালকের তিক্ত অভিজ্ঞতা। (ফাইল ছবি)

করোনাকালে পেট চালাতে বের হয়ে রিকশাচালকের তিক্ত অভিজ্ঞতা। (ফাইল ছবি)

আজ মে দিবস। এই দিনটি বিশ্বের সকল শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া, দিনমজুর মানুষদের জন্য। এই একটি দিন মালিকের শোষিত শ্রমিকদের জন্য, যে ন্যায্য বেতন পাচ্ছে না। এই একটি দিন সেই রিকশাচালকের, ক্ষমতার জোরে যার রুটি-রুজির মাধ্যম রিকশাটি উল্টে রাস্তায় রাখা হয়েছিলো। এই একটি দিন সেই কর্মীর, প্রথম লকডাউন থেকেই মালিক যাকে বেতন দেয়নি করোনার দোহাই দিয়ে।

বরাবরই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ দিনটিকে উদযাপন করা হয়। তবে মহামারির এই সময় গত বছরের মতো এবারও সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পয়লা মে জাতীয় ছুটির দিন। আরো অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়।

তবে এই দিনের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই কর্ম বিভাজন শুরু হল। এক শ্রেণি কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও অপর শ্রেণি ভূস্বামী বা জমির মালিক। ধীরে ধীরে সমাজে তৈরি হয়ে গেল শ্রেণি বৈষম্য। কিছু সুবিধাভোগী মানুষ এটা বেশ বুঝে গেলেন, বিনা পরিশ্রমে কেবল বুদ্ধি খাটিয়ে অপরের শ্রমের উপরে নির্ভর করে দিব্যি সুখে থাকা যায়। এই ধারণা থেকেই পরবর্তী কালে বিশেষত প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় দাসপ্রথা গড়ে উঠেছিল।

মে দিবসের ইতিহাস

১৮৮৬ সালের পহেলা মে শিকাগোর হে মার্কেট থেকে উৎপত্তি এই দিবসের।

মে দিবস একটি রাজনৈতিক সংগ্রামে পরিণত হল বিশেষত, আমেরিকার সংগ্রামী শ্রমজীবী মানুষের কাছে ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে যে দিন শ্রমিকেরা সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে মহামিছিল সংগঠিত করেছিলেন আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেট স্কোয়ারে। দাবি ছিল, শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম ও বাকি আট ঘণ্টা খেলাধুলোর সুযোগ করে দেওয়া।

এই দাবি স্বাভাবিক ভাবেই পুঁজিপতিদের আঘাত করল। যাঁরা এতকাল শ্রমিকদের সব রকমের চাওয়া-পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে এসেছিলেন।

প্রতিটি বিপ্লবেরই প্রতি-বিপ্লব থাকে। সুতরাং, ওই নিরীহ মিছিলের উপর বর্বরোচিত আক্রমণ নেমে আসে। পুঁজিপতি শ্রেণি স্থির করেছিল যে ভাবে হোক এই শ্রমিক নেতাদের দমন করতেই হবে, যাতে গণশ্রম আন্দোলন ফের মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।

ফলস্বরূপ, ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক ধর্মঘটে সামিল হন। তার প্রতিক্রিয়ায় নিরস্ত্র মানুষের উপরে গুলি চালানো হয়। পুলিশের গুলিতে শ্রমিকদের কয়েক জন মারা যান। বহু শ্রমিক আহত হন। অনেক শ্রমিক কারাবরণ করেন এবং পরের বছর শিকাগোর এক শ্রমিক নেতার ফাঁসি হয়। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে ১ মে ফের আমেরিকায় দেশব্যাপী শ্রমিক ধর্মঘট আহূত হয়। সেই থেকে প্রায় পৃথিবী ব্যাপী ‘মে দিবস’কে শ্রমদিবস হিসেবে পালনের রীতির সূত্রপাত। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে ‘মে দিবস’কে শ্রম দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতবর্ষে চেন্নাই শহরের মেরিনা বিচে ১৯২৩ সালে প্রথম ‘মে দিবস’ পালিত হয়।

বর্তমানে ‘মে দিবস’ আরও পাঁচটা প্রচলিত উৎসবের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করোনাকালের মে দিবসে কেমন আছেন বাংলাদেশের শ্রমজীবীরা

এ দিবসের সময় প্রাকৃতিক কারণেই বিশ্বজুড়ে বসন্তকাল বিরাজ করে। বিশ্বব্যাপী এবার ও গত বছর শ্রমিক দিবস হয়েছে করোনাকালে। ফলে বিপ্লবের তপ্ত ইতিহাস, বসন্তের হিন্দোল নয়, শ্রমজীবী মানুষের সামনে ছিল করোনার আগ্রাসনের কারণে বিপন্ন জীবন আর জীবিকার প্রসঙ্গ।

করোনার তীব্রতার কারণে লকডাউন, কারফিউ ও অন্যবিধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রথম ও প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় শ্রমিক শ্রেণি। তাদের চাকরি চলে যায়। তারা অকাতরে কর্মচ্যুত হন।

লকডাউনে রাইড শেয়ার কর্মীদের বিক্ষোভ (ফাইল ছবি)

বিশেষত, প্রবাসী বা অভিবাসী লক্ষ লক্ষ শ্রমশক্তি দেশে-বিদেশে, পথে-প্রান্তরে আটকে পড়েন। করোনার দুটি বছর অবর্ণনীয় কষ্ট আর সীমাহীন আর্থিক বিপদের মধ্য দিয়ে পাড়ি দিয়েছেন শ্রমিক শ্রেণি।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা লকডাউন তুলে দেওয়ার দাবিতে রাস্তায় সভা-সমাবেশ করেছেন। নিম্ন আয়ের কর্মজীবী, শ্রমজীবী, দিনমজুর শ্রেণির মানুষ করোনার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পতিত হয়েছেন।

পরিশেষে বলা যায়, এবারের মে দিবসে নানাবিধ আনুষ্ঠানিকতার নামে শ্রমিক বন্দনা ও স্তুতিবাদের মুখস্ত ও লোক দেখানো উচ্চারণের বদলে করোনার ঘোরতর আঘাতে শ্রমিক শ্রেণির বিপদাক্রান্ত জীবন ও জীবিকার কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই সমীচীন।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, জাগোনিউজ২৪, বার্তানিউজ২৪

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়