ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

সাজু মারছিয়াং, শ্রীমঙ্গল

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ১৩ এপ্রিল ২০২২

পাচারের হাত থেকে বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানর উদ্ধার

মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জ শ্রীমঙ্গল পাচারের হাত থেকে একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করেছে। লজ্জাবতী বানর বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। এর ইংরেজি নাম Bangal Slow Loris।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার আহমেদাবাদ ইউনিয়নের রানীরপুর গ্রামের সবুজ মিয়া লজ্জাবতী বানরটিকে বনবিভাগের নিকট তুলে দেন। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্দেশনায় এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সহযোগিতা করেন মিতা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।    

সবুজ মিয়া এবং তার সহযোগী আব্দুল করিম সোমবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে লজ্জাবতী বানরটিকে পাচারকারীচক্রের হাত থেকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে এনে রাখেন। সবুজ বিষয়টি পরে মিতা ফাউন্ডেশনকে অবহিত করেন এবং খবরটি বনবিভাগের নিকট পৌঁছে যায়। সব শেষে বনবিভাগ বুধবার এটি উদ্ধারের পরিকল্পনা করে। 

পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করা লজ্জাবতী বানরটি সবুজ মিয়া মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জ, কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আল আমিন, মিতা ফাউন্ডেশনের বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, রবি কস্তা, পিউস কস্তাসহ বনবিভাগের বনকর্মীরা। 

রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বনের প্রকৃতি থেকে যে কোনো বন্যপ্রাণীদের ধরা, পাচার করা, হত্যা করা এবং তাদের মাংস খাওয়া দেশের প্রচলিত আইনে দন্ডনীয় অপরাধ। যারাই এর জড়িত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা প্রমাণসহ বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমরা চাই, আমাদের সকলের সহযোগিতায় প্রকৃতিতে বন্যপ্রাণীরা সুরক্ষিত থাকুক। শীঘ্রই এটিকে বনে অবমুক্ত করা হবে। 

মিতা ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং পরিবেশ সাংবাদিক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন বলেন, লজ্জাবতী বানর নিশাচর অর্থাৎ রাতে চলাচলকারী প্রাণী। সচরাচর একাকী এবং জোড়ায় থাকে। এরা কখনো মাটিতে নামে না। গাছে গাছে খুব ধীরগতিতে ঘুরে বেড়ায় বলে এদেরকে বৃক্ষবাসী প্রাণী বলা হয়ে থাকে। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে ফলমূল, পাতা, পতঙ্গ এবং ছোট অমেরুদন্ডী প্রাণী। 

বাংলাদেশের মিশ্র চিরসবুজ এবং পাতাঝড়া বনের বাসিন্দা। এছাড়াও বৃহত্তর সিলেট এবং চট্টগ্রামের চিরসবুজ বনগুলোতে এদের পাওয়া যায়। আইইউসিএন, বাংলাদেশের এর লাল তালিকা অনুযায়ী এদের অবস্থা ‘বিপন্ন’ বলে জানান তিনি। 

আইনিউজ/এসডি

আইনিউজ ভিডিও 

কৃষক ও ফিঙে পাখির বন্ধুত্ব (ভিডিও)

পোষ মানাতে হাতির বাচ্চাকে নির্মম প্রশিক্ষণ 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়