ঢাকা, শনিবার   ০৯ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩

এস আলম সুমন, কুলাউড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ২১:৫৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

কুলাউড়ায় স্বল্পমূল্যে ইট দেওয়ার কথা বলে ৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা। ছবি- এস আলম সুমন।

সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা। ছবি- এস আলম সুমন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্বল্প মূল্যে ইট দেওয়ার নামে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের এম এন এইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক নজিবুর রহমান (মোহাম্মদ আলী) ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনে প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের পক্ষে অভিযোগ করে বক্তব্য দেন কয়ছর রশীদ, মুহিবুর রহমান জাহাঙ্গীর, আজাদ আলী, আবুলকাসেম উসমানী, রুবেল আহমদ ও জালাল উদ্দিনসহ অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১০ বছর ধরে উপজেলার ব্রাহ্মনবাজার ইউনিয়নের এম এন এইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক নজিবুর রহমান (মোহাম্মদ আলী) ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন প্রতি বছর স্বল্প মূল্যে ইটদেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ধাপে কুলাউড়ার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৩৫ জন মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা সংগ্রহকরেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় ইট না দিয়ে নানান টালবাহানা শুরু করেন নজিবুর রহমান ও মানিক বর্ধন। বর্তমানে মানিক বর্ধন গা ঢাকা দিয়েছেন এবং ভাটার মালিক মালিক নজিবুর রহমান (মোহাম্মদ আলী)  প্রকাশ্য এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি এখন স্বপরিবারে বিদেশ চলে যাওয়ার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন। 

তাঁরা জানান, এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল), অফিসার ইনর্চাজ ও স্থানীয় ব্রাহ্মণবাজার ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। 

ভুক্তভোগী কয়ছর রশীদ ও জসীম উদ্দিন বলেন, গত ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিভিন্ন ধাপে ভাটার মালিক নজিবুররহমান ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন আমাদের কাছ থেকে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা নেন। বিনিময়ে ইট বিক্রিরমৌসুমে বাজার মূল্য থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা কমে আমাদের কাছে ইট বিক্রি করবেন। এ শর্তেরশীদ দেওয়া হয় আমাদের। কিন্তু মৌসুমে আমরা ইট সংগ্রহ করতে গেলে ইট পোড়ানো হয়নি। ইট তৈরী হলে তখনদেওয়া হবে জানান তাঁরা। অথচ মৌসুমে বাহিরে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে ঠিকই ইট বিক্রি করছেন। বিষয়টি আমরাজেনে ভাটার মালিক নজিবুর রহমান কাছে গেলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। 

তাঁরা বলেন, আমরা ছাড়াও ভুক্তভোগীদের মধ্যে চুনু মিয়ার কাছ থেকে ৪১ লাখ, মুহিবুর রহমান জাহাঙ্গীর ৩ লাখ ৫০ হাজার, আব্দুস সালাম ৭ লাখ, ইউসুফ আলী ৩০ লাখ, আবুল কাশেম ওসমানী ১ লাখ ৫০ হাজার, সমোজমিয়া ১ লাখ ৯২ হাজার, তজম্মল আলী ১ লাখ ২৬ হাজার, আজাদ আলী ১ লাখ ৬০ হাজার, মসুদ আহমদ ৩লাখ ৫০ হাজার, রুবেল আহমদ ৯ লাখ, গিয়াস আহমদ ৪ লাখ ৫০ হাজার, ওসমান আলী ৩ লাখ, মুশিউর রহমান ২ লাখ, হাজির মিয়া ৩ লাখ, আব্দুল মজিদ ৩ লাখ, নাজমা বেগম ১ লাখ, খুশবা বেগম ৩ লাখ, মিছবা বেগম ৩ লাখ ৭০ হাজার, লোকমান মিয়া ৬ লাখ ৬০ হাজার, মতিন মিয়া ৫ লাখ,পায়েল মিয়া ১ লাখ টাকা সহ আরো শত শত লোকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিনিময়ে সবাইকে ভাটার ব্যবস্থাপকমানিক বর্ধনের স্বাক্ষরিত একটি রশিদ দেওয়া হয়। 

তারা আরো বলেন, একাধিকবার উনার কাছে গেলে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আমাদের মামলার হুমকি প্রদান করেন।

অভিযুক্ত ইট ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্যে নেয়া সম্ভব হয়নি। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইট ভাটার মালিক নজিবুর রহমান মোহাম্মদ আলী মঙ্গলবার মুঠোফোনে বলেন, বর্তমানেইটভাটার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। ২০১৬ সালে আমার ইট ভাটাটি ব্যবস্থাপক মানিকের কাছে লিজ দিয়েছি। সে এখন ব্যবসা পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, মালিক আমি একা নই, আলী হায়দর ও নোমান নামে আরো দু’জন রয়েছেন। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন সবকিছু জানেন। তার সাথে গ্রাহকরা লেনদেন করেছেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী মানিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পর থেকে সে এখন উধাও রয়েছে।

আইনিউজ/এস আলম সুমন/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ