ঢাকা, মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২৬,   আষাঢ় ২৩ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১৭:৫১, ৭ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ: সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ধর্মীয় সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ। বিভিন্ন ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) মৌলভীবাজারের উদ্যোগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

পিএফজি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কো-অর্ডিনেটর খালেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং আন্তঃধর্মীয় কমিটি মৌলভীবাজারের আহ্বায়ক এম. মুহিবুর রহমান মুহিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।

অনুষ্ঠানে সুজন মৌলভীবাজারের সাধারণ সম্পাদক ডা. ছাদিক আহমদ ১১ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এমআইপিএস কার্যক্রম উপস্থাপন করেন সিলেট বিভাগের প্রতিনিধি নাজমুল হক মিনা।

সংলাপে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি শামসুল ইসলাম, বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুনিল কুমার দাস, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শান্তি পদ ঘোষ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান, দৈনিক বাংলার দিন পত্রিকার সম্পাদক বকশি ইকবাল আহমদ, রাজনীতিবিদ মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি আশু রঞ্জন দাশ।

খ্রিস্টান মিশন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আইভান সমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ভিক্টর প্রিটন্স, বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ হোমায়েদ আলী শাহীন, সমাজসেবক সিরাজুল ইসলাম সিদ্দিকী, মাওলানা আসাদ আহমেদ চৌধুরী, পিএফজি শ্রীমঙ্গলের কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, পিএফজি মৌলভীবাজারের অ্যাম্বাসেডর মাহমুদুর রহমান, উপদেষ্টা মোস্তাক আহমেদ মম, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম শেফুল, রুহেল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

এছাড়া পিএফজির নেতৃবৃন্দের মধ্যে জ্যোতিময় চক্রবর্তী, শ্রী কমলাশিষ চক্রবর্তী, খিজির মোহাম্মদ জুলফিকার, তাপস কুমার ঘোষ, প্রভাত দেবনাথ, সুয়ারা বেগম, ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি) মৌলভীবাজার সদরের কো-অর্ডিনেটর কামরান চৌধুরী, ছাত্র প্রতিনিধি সংগঠক ইহাম মুজাহিদ ও রাজ মুস্তাকিন উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ শতাধিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার, ধর্মীয় সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী পর্বে ১১ দফা ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জাতিগত ও ধর্মীয় উগ্রবাদ, বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক সহিংসতামুক্ত একটি সম্প্রীতির মৌলভীবাজার গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

বক্তারা বলেন, ভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং সংলাপের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করা গেলে সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তঃধর্মীয় সংলাপ নিয়মিত আয়োজনের ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।

প্রাণবন্ত আলোচনা, মতবিনিময় এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের আন্তরিক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রয়োজনে এটিকে দৈনিক পত্রিকার উপযোগী আরও সংক্ষিপ্ত বা আরও ফিচারধর্মী ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ