ঢাকা, শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩

রিপন দে

প্রকাশিত: ২২:১০, ২৪ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৬:৩৪, ২৫ এপ্রিল ২০২১

ফাইল ঘুরতেই ৬ মাস! কবে হবে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট?

সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট। ফাইল ছবি

সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট। ফাইল ছবি

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার অন্যতম অনুষঙ্গ অক্সিজেন। কিন্তু এক বছর আগে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে রোগীদের জন্য ৬ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আটকে আছে নানা কারণে। করোনার এই পিক টাইমে অক্সিজেন প্লান্টের কাজ মাত্র ২০ ভাগ শেষ হয়েছে এমন দাবি কর্তৃপক্ষ করলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি নেই। তাই কবে শেষ হবে প্লান্টের কাজ এবং কবে রোগীরা সেবা পাবে তা অনিশ্চিত।

ফাইল চালাচালি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর সময় মত গুরুত্ব না দেওয়ায় করোনার এই পিক টাইমে কাঙ্খিত অক্সিজেন পান্টের সুবিধা পাচ্ছে না রোগীরা। স্থানীয়দের উদ্যোগে কেনা ৩টি হাই-ফ্লো নেজাল দিয়ে চলছে রোগীদের সেবা। যার জন্য অক্সিজেনের উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে রোগীদের।

জানা যায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে সংক্রমণের শীর্ষে থাকা ২৯ টি জেলার যে তালিকা করা হয় তার এক নাম্বারে ছিল মৌলভীবাজার। এই জেলায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আক্রান্তের পাশাপাশি বাড়ছে মুমূর্ষু রোগীর সংখ্যাও। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ। কিন্তু মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত সিট এবং চিকিৎসার সরঞ্জাম আছে জানালেও রোগীরা করোনার চিকিৎসায় ভরসা পাচ্ছেন না। যার প্রমাণ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ৩ রোগীর বাড়ি মৌলভীবাজার শহর ও শহরতলীতে হলেও তারা চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে। রোগীরা সিলেটে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চাহিদা অনুসারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুরোধে ইউনিসেফের অর্থায়নে হাসপাতালের ২৫০ বেডেঅক্সিজেন সাপ্লাই দেওয়ার জন্য একটি অক্সিজেন প্লান্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু গত বছর উদ্যোগ নেওয়ার ২ মাস আগে কাজ শুরু হলেও এখনো স্থাপন হয়নি করোনা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপাদান লিকুইড অক্সিজেনের ট্যাংক ও প্ল্যান্টের কাজ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শেষ হওয়ার আগে এই প্লান্টের কাজ শেষ করা এবং রোগীদের সেবা দেওয়া নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।

স্বাস্ব্য বিভাগের এক কর্মকর্তা রসিকতা করে বললেন, যারা এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে তারা হয়তো ভাবছিল করোনা শেষ তাই দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। যেভাবে কাজ হচ্ছে তাতে তৃতীয় ঢেউ যদি আসে তবুও এর সুফল রোগীরা পাবে না বলেই মনে হচ্ছে। ফাইল চালাচালি, করোনা চলে গেছে তাই গা ছাড়া ভাবসহ নির্মাণে গুরুত্ব না দেওয়াকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২ মাসেই নির্মাণ শেষ হয়ে সেবা চালু হয়ে যাবে জানালেও অর্থায়নকারী প্রতিষ্টান ইউনিসেফ বলছে কাজ শেষ হতে আরও ৩ মাস লাগবে। এই অক্সিজেন প্লান্ট নিমাণের দেখভাল ও অর্থায়ন করছেন ইউনিসেফ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিসেফের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানান, অক্সিজেন প্লান্ট নির্মাণের জন্য স্থানীয় হাসপাতাল চাহিদাপত্র পাঠায় স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরে। এ রকম ৩০ টি প্লান্ট সারাদেশে নির্মাণের জন্য ইউনিসেফের সহযোগিতা চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তার বিপরীতে ইউনিসেফ দেশের ৩০ টি জেলায় এই প্লান্ট নির্মাণ করছে। মৌলভীবাজারে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একটি অক্সিজেন প্লান্ট নিমার্ণের শুরু হয় প্রায় ২ মাস আগে কিন্তু মধ্যে আবারও কাজ বন্ধ হয়। বর্তমানে লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকটে আবারও কমে গেছে কাজের গতি। তাই এই প্লান্ট চালু হতে আর ৩ মাস লাগতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রথমে ১০০ বেডের জন্য এটি নির্মাণের কথা থাকলেও পরে হাসপাতালের চাহিদা অনুসারে ২৫০ বেডের জন্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার কারণে ফাইল চালাচালি এবং অফিশিয়াল নিয়ম মেন্টেইন করতে সময় নষ্ট হয়েছে।

এদিকে ইউনিসেফের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা ডা. মির্জা ফজলে এলাহী জানান, ৬ হাজার লিটারের এই প্লান্ট নির্মাণে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত কাজ শেষের চেষ্টা করছি। এই কাজটি দ্বিতীয় ধাপে নির্মাণের কথা থাকলেও আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম ধাপে নিয়ে এসেছি।

অন্যদিকে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের অধিকাংশেরই অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট না থাকায় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়ছেন করোনায় আক্রান্ত রোগীরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি ডা. শাব্বির হোসেন খান জানান, কাগজে কলমে প্রায় ৬ মাস আগে কাজ শুরু হলেও বাস্তবে ২ মাস আগেই শুরু হয়েছে। মাঝে আবার কিছুদিন বন্ধ ছিল। দৃশ্যমান কাজ তেমন কিছুই হয়নি এখনো। অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু হলে, সব রোগীর বিছানার কাছে অক্সিজেন পৌছে যাবে। এতে চিকিৎসা দ্রুত যেমন হবে, তেমনি চিকিৎসার মানও বেড়ে যাবে।

তবে এই ক্ষেত্রে আশাবাদী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থসারথি দত্ত কাননগো। তিনি জানান, কাজ চলছে ২ মাসে শেষ হবে। বর্তমানে রোগীদের কোন সমস্যা হচ্ছে না, ৫০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে চিকিৎসা চলছে প্রয়োজনে আরো ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, এই প্লান্টের নির্মাণ ব্যায় এবং কাজের মেয়াদ নিয়ে হাসপাতালকর্তৃপক্ষ এবং ইউনিসেফের বিভাগীয় প্রতিনিধি কেউই তথ্য দিতে আগ্রহী নয়।তাদের বক্তব্য তাদের কাছে এই তথ্য নেই। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং হেড অফিস বলতে পারবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের নির্মাণ ব্যয় ও মেয়াদ নিয়ে তথ্য না থাকায় কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত করা এবং ঠিক সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়