ঢাকা, শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ২৮ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ২২:৪১, ২৮ এপ্রিল ২০২১

শব্দ সচেতনতা দিবসে মৌলভীবাজারে ভার্চুয়াল কর্মশালা

আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস ২০২১ উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলায় একটি ভার্চুয়াল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার পরিবেশ অধিদপ্তর এই কর্মশালার আয়োজন করে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিলো: 'Protect your hearing, protect your health'।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) ভার্চুয়াল এই কর্মশালাটি জুমের (zoom) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। তিনি দিবসটির সামগ্রিক তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় জেলার সিভিল সার্জন শব্দদূষণের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

এছাড়াও ভার্চুয়াল কর্মশালাটিতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক প্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্কাউট, সরকারী বিভিন্ন দপ্তর, ট্রাফিক বিভাগ, পরিবহন মালিক সমিতি, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা। 

শব্দদূষণের উৎস, কারণ, প্রতিকার সংক্রান্ত আলোচনা:

বর্তমানে শব্দদূষণ একটি মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যা। আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস হচ্ছে বিশ্বব্যাপী একটি প্রচারণা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, বিশ্ব ব্যাংকের একাধিক গবেষণায় সারা বিশ্বের মানুষের ৩০টি কঠিন রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে শব্দদূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শব্দদূষণের কারণে আগামী প্রজন্ম মানসিক ও শারীরিকভাবে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সকলের মধ্যে সে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারিভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

যানবাহনের জোরালো হর্ণ ও ইঞ্জিনের শব্দ, যানবাহন চলাচলের শব্দ, রেলগাড়ী চলাচলের শব্দ, উড়োজাহাজের শব্দ, বিভিন্ন নির্মাণ কাজের শব্দ, মেশিনে ইট ও পাথর ভাঙ্গার শব্দ, বিল্ডিং ভাঙ্গার শব্দ, কলকারখানার মেশিন হতে নির্গত শব্দ, গ্রীলের দোকানে হাতুড়ী পেটানোর শব্দ, শিল্প কারখানা/ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান/ আবাসিক ভবন/ হাসপাতাল/ ক্লিনিকের জেনারেটরের শব্দ, নির্বিচার লাউড স্পিকারের শব্দ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মাইক বা লাউড স্পিকারের শব্দ, ইত্যাদি শব্দদূষণের অন্যতম উৎস। পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি জরিপ অনুযায়ী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগের শব্দের মানমাত্রা নির্ধারিত মানের অধিক।

শব্দ দূষণের ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, শিক্ষার্থীদের অমনযোগী আচরণ, ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। উচ্চমাত্রার শব্দে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাসসহ শিক্ষার্থীদের নিবিষ্টচিত্তে বুদ্ধিদীপ্ত কাজ করার ক্ষেত্রে ভয়াবহ সমস্যা দেখা দেয় ফলে মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রবন-শক্তি হ্রাসের ফলে বিরক্তি, নেতিবাচকতা ও রাগ, ক্লান্তি, চাপা উত্তেজনা, মানসিক চাপ ও বিষন্নতা, একাকীত্ব, সতর্কতা হ্রাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি ও নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা হ্রাস, কর্মক্ষমতা ও উপার্জন শক্তি হ্রাস এবং মানসিক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য খর্ব হয়ে থাকে।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬:

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর অধীন 'শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ এর আওতায় নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক বা শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোন এলাকায় শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা অতিক্রম করতে পারবে না।

নীরব এলাকা হচ্ছে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ইত্যাদি এবং এর চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা। নীরব এলাকায় চলাচলকালে যানবাহনে কোন প্রকার হর্ণ বাজানো এবং মোটর, নৌ বা অন্য কোন যানে অনুমোদিত শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী হর্ণ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সিটি কর্পোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসমূহ নিজ নিজ এলাকার মধ্যে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক বা শিল্প এলাকাসমূহ চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড স্থাপন ও সংরক্ষণ করবে। এই বিধিমালার বিধান লংঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে।

বিধি অনুযায়ী শব্দের মানমাত্রা নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ও রাতে ৪০ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ও রাতে ৪৫ ডেসিবল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ও রাতে ৫০ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ও রাতে ৬০ ডেসিবল।

মানুষের স্বাস্থ্যের সামগ্রিক উন্নতির জন্য শব্দদূষণ রোধে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়