Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:৪২, ৯ নভেম্বর ২০২৫

শ্রীমঙ্গলে ময়লার ভাগাড়ে তালা: শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বন্ধ ঘোষণা

আন্দোলন কর্মসূচিতে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। ছবি: আই নিউজ

আন্দোলন কর্মসূচিতে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে স্তুপ করে রাখা ময়লার ভাগাড় স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার সকাল ১১টার দিকে কলেজ রোডস্থ ময়লার ভাগাড়ের সামনে টিনের বেড়া দেওয়া গেটের তালা মেরে তারা ভাগাড়টি বন্ধ ঘোষণা করেন।

এসময় শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ, দি বাডস রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং গাউছিয়া শফিকিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে যোগ দেন।

আন্দোলন কর্মসূচিতে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ, আরিফ বকস, গাউছিয়া শফিকিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ এবং স্থানীয়রা বক্তব্য রাখেন। তারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার ভাগাড় থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। অবশেষে নিজেদের উদ্যোগেই তারা এই ভাগাড়টি বন্ধ করে দেন।

শিক্ষার্থী উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ্ বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে এই বিষয়ে আন্দোলন করে আসছি। পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, বেলা (বেসরকারি পরিবেশ সংস্থা) এবং বিভাগীয় কমিশনারের কাছেও গিয়েছি। বিভিন্ন সময়ে আমাদের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি, কিন্তু তবুও কোনো ফল পাইনি। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রকল্পটি সেখানে আটকে রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা জানতে চাই, কেনো এটি অনুমোদনের জন্য এতটা সময় লাগছে? আমরা কি এতটাই অবহেলিত যে, আমাদের এলাকার প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়? আমরা জোর দাবি জানাই, যেন অতি দ্রুত এই প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। কারণ ময়লার ভাগাড়ের কারণে আমরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। তাই আমাদের এই দীর্ঘদিনের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হোক।”

স্থানীয়রা বলেন, “এখানে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকার পরও, সরকারের হিসাব অনুযায়ী ও ইউএনও সাহেবের বক্তব্য অনুসারে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ টন ময়লা এখানে ফেলা হয়, যার বেশিরভাগই বাচ্চাদের আশেপাশেই পড়ে থাকে। আমরা বহুবার সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছি, এই ময়লা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।”

স্থানীয়রা আরো বলেন, “বিবেকবান মানুষ, সরকারি কর্মকর্তারা অনেকে এসে দেখেছেন, এই জায়গাটি ময়লা ফেলার জন্য কোনোভাবেই উপযুক্ত নয়। তবুও কেন এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা আজ বাধ্য হয়েছি। জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে বিকল্প কোনো পথ না দেখে, আমাদের সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে আজ থেকে এই ময়লার ভাগাড় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করছি।”

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.বি.এম মোখলেছুর রহমান বলেন, “শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সামনে যে ময়লার ভাগাড়টি রয়েছে, তার কারণে এখানকার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদানসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আশপাশের এলাকাবাসীও এই দূষিত পরিবেশের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিবেশ দূষণের মাত্রা বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং আমাদের সবাইকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবেন।”

ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় একটি স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে দ্রুতই ময়লার ভাগাড় সরানোর কার্যক্রম শুরু করা হবে। এরই মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক সরেজমিনে ময়লার ভাগাড় পরিদর্শন করেছেন। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন।”

আই নিউজ/আরএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়