Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ৩ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৩৭, ১৬ মার্চ ২০২৬

খাল পুনঃখননে দ্বিগুণ-তিনগুণ ফসল উৎপাদন সম্ভব: কর্মসংস্থানমন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষিতে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় চালু হওয়া খাল কাটা কর্মসূচির সুফল বাংলাদেশের মানুষ পেয়েছিল।

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের আনিকেলি বড় এলাকায় কাটাগাং খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে চালু হওয়া খাল কাটা কর্মসূচির ফলে দেশ খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছিল। সেই সময় কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং ধানসহ বিভিন্ন ফসল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছিল। পাশাপাশি রবিশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে এই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবারও সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে চাষাবাদ ও সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষিতে দ্বিগুণ-তিনগুণ ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

মনু নদী থেকে পানি তুলে সেচ দেওয়ার স্থানীয় কৃষকদের দাবির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “মনু নদী থেকে এ খাল পর্যন্ত পানি আনার জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে এবং এলাকার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।”

সুধী সমাবেশে মন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। এ কর্মসূচি যদি ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকত, তাহলে বাংলাদেশ আরও আগেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারত। কিন্তু তৎকালীন সরকার তা বন্ধ করে দেয়।”

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে দেশের ৫৪টি জেলায় প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ কর্মসূচি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও এ কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, “সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান সিলেট বিভাগে, বিশেষ করে মৌলভীবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি খাল কাটা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছিলেন। সেই খালগুলো আজও বিদ্যমান রয়েছে, তবে সেগুলো পুনঃখনন করা প্রয়োজন।”

নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মরহুম এম সাইফুর রহমানই তাকে রাজনীতিতে গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই তিনি কমিশনার থেকে মেয়র, মেয়র থেকে সংসদ সদস্য এবং পরবর্তীতে মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।”

তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে খাল খননের কাজে অংশ নিয়েছিলেন। সেই আদর্শ অনুসরণ করে ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ ও কৃষকদের নিয়ে আবারও মাঠে নামার আহ্বান জানান তিনি।”

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়নে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সারা দেশের ন্যায় নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান এবং বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. বদরুল আলম।

জানা গেছে, এ কর্মসূচির আওতায় কাটাগাং খালের প্রায় ৩ দশমিক ৮০ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়