ঢাকা, সোমবার   ০৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২১ ১৪৩৩

ইমরান আল মামুন

প্রকাশিত: ০৫:২৪, ৪ মে ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ওয়েবসাইট স্বাভাবিক, রাত ১০টার পর ফল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ওয়েবসাইটে সৃষ্ট সার্ভার জটিলতা কেটে গেছে। ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রোববার (৩ মে) সন্ধ্যা থেকে ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলেও রাত ১০টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে লগইন করে ফলাফল দেখতে পারছেন। ফল প্রকাশের পরপরই সারাদেশের বিপুলসংখ্যক ভর্তিচ্ছু একসঙ্গে ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে সিস্টেম ধীর হয়ে পড়ে এবং অনেকেই ফল দেখতে ব্যর্থ হন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পর সার্ভার সচল হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিকেল থেকেই ওয়েবসাইটে প্রবেশে ধীরগতি দেখা দেয়। অনেক শিক্ষার্থী জানান, লগইন পেজ খুলতে সময় লাগছিল, আবার কেউ কেউ ফলাফলের পোর্টালে ঢুকতেই পারছিলেন না। একাধিকবার চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একযোগে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী প্রবেশের কারণেই সাময়িক এ জটিলতা তৈরি হয়। সন্ধ্যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন সেলের সচিব ড. আলী জাফর চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সার্ভারে চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে এবং রাত ১০টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

পরবর্তীতে তার দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ওয়েবসাইটে চাপ কমতে শুরু করে। রাত ১০টার পর ধীরে ধীরে সার্ভার স্থিতিশীল হয় এবং শিক্ষার্থীরা সহজে ফলাফল দেখতে সক্ষম হন। রাতের পর থেকে অনেক শিক্ষার্থী নিশ্চিত করেন যে তারা কোনো জটিলতা ছাড়াই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল দেখতে পেরেছেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফল প্রকাশের পর কয়েক ঘণ্টা অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী দূরবর্তী এলাকা থেকে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে ফল জানতে চেষ্টা করছিলেন, তারা বেশি সমস্যায় পড়েন। তবে সার্ভার স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

এর আগে দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ফলাফল ঘোষণার পরপরই লাখো শিক্ষার্থী একযোগে অনলাইনে প্রবেশ করায় প্রযুক্তিগত চাপ বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের আগামী ৫ মে থেকে ১৭ জুনের মধ্যে অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে আসন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। ফলে ফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত তথ্য জানার আগ্রহ তৈরি হয়।

ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিগত চাপের সময়ে বিকল্প এই পদ্ধতি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সহায়ক হয়েছে বলে জানা গেছে। ভর্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইনে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ধাপে ধাপে ফল দেখার চেষ্টা করলে সার্ভারের ওপর চাপ কমে।

বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ সচল রয়েছে এবং ফলাফল দেখা, লগইন ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। ভর্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সময়মতো নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Green Tea
সর্বশেষ