ঢাকা, বুধবার   ১৮ মে ২০২২,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৯

আজিজুল আম্বিয়া

প্রকাশিত: ১৩:০৭, ২৪ এপ্রিল ২০২২
আপডেট: ১৩:১০, ২৪ এপ্রিল ২০২২

ইসলামের আলোকে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতের মর্যাদা ও ফজিলত 

এই রাতের ইবাদত এর জন্য মহান আল্লাহ অন্য এক হাজার মাস যা ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদতের সমান নেকি দিয়ে দেন বান্দাদের আমলনামায়।

আরবি ভাষায় লাইলাতুল অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী আর ফারসি হলো শবে কদর এবং কদর শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা বা মহাসম্মান । লাইলাতুল কদর মুসলমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । এই রাত এত মহিমান্বিত যে, এই রাতের নামে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে একটি সূরা ও নাযিল করেছেন। বিভিন্ন পাপে জর্জরিত মুসলমানের জন্য ক্ষমা লাভের জন্য এই রাত এক অনন্য নেয়ামত হিসাবে মহান আল্লাহর তরফ থেকে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আর এই রাতটি কেবল মাত্র রাসুলের উম্মতের জন্য আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। তা তার পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতের জন্য ছিলনা। তাই এই রাতকে ইসলামী চিন্তাবিদরা ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময়, সম্ভাবনাময়, ভাগ্যনির্ধারণী রাত হিসাবে অভিহিত করেছেন।

পবিত্র আল কোরআন ৬১০ খ্রিস্টাব্দে লাইলাতুল কদরের রাতে মক্কার নূর পর্বতের হেরা গুহায় ধ্যানরত অবস্তায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর উপর নাজিল হয় আল্লাহর ফেরেশতা জিব্রাইল (আঃ)এর মাধ্যমে। এই রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে আল কোরআন এবং হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ আছে। আর এই কোরআন হল মানব জাতির ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের আলোকবর্তিকা। এই রাতের গুরুত্ব অত্যধিক তাই আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মাহাত্ম্যপূর্ণ রজনীতে। আপনি কি জানেন মহিমাময় রাত্রি কি? মহিমান্বিত নিশি সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাত্রিতে ফেরেশতারা রুহুল কুদুছ হজরত জিব্রাইল (আঃ) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে,সকল বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে ঊষা উদয় পর্যন্ত।“(সুরা-৯৭ কদর, আয়াতঃ১-৫)।

আর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাত গুলোতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান কর।( সুতরাং হাদিছেরআলোকে লাইলাতুল কদর হচ্ছে, রমজান মাসের ২১,২৩,২৫,২৭ কিংবা ২৯ এর মধ্যে যে কোন এক রাত্রিতে হতে পার ,তবে ২৭ রমজান হওয়ার পক্ষে অনেক চিন্তাবিদ মত দিয়েছেন।)মুফাসসিরিনে কিরাম বলেন, আরবিতে ‘ লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয়ে নয়টি হরফ বা বর্ণ রয়েছে; আর সূরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয় তিন তিনবার রয়েছে; নয়কে তিন দিয়ে গুণ করলে বা নয়কে তিনবার যোগ করলে সাতাশ হয়, তাই ২৭ রমজানের রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। (তাফসিরে মাজহারি)। এছাড়া সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ)বর্ণনা করেন,রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।‘ ( বুখারি শরিফ, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদঃ ২৫, খণ্ড :১ , পৃষ্ঠা ২৯-৩০, হাদিস৩৪; ই.ফা.)।

একদা রাসুল (স.) বনী ইসরাইলের জনৈক ইবাদতকারী ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছিলেন , সে সারারাত ইবাদতে মশগুল থাকত, সকাল হতেই জিহাদের জন্য বেরিয়ে যেত এবং সারাদিন জিহাদে লিপ্ত থাকত। এভাবে সে ১ হাজার মাস ইবাদতে কাটিয়ে দেয়। একথা শুনে সাহাবারা আশ্চর্য হয়ে গেল এবং আফসোস করতে লাগল যে তারা তো এত লম্বা হায়াত পাবেন না এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারবেননা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহতায়ালা সূরা কদর নাজিল করেন এবং সাহাবারা তথা প্রিয় নবীর উম্মতের জন্য হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ রাতের সুসংবাদ দিলেন। এই রাতের ইবাদত এর জন্য মহান আল্লাহ অন্য এক হাজার মাস যা ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদতের সমান নেকি দিয়ে দেন বান্দাদের আমলনামায়।

পবিত্র কোরআন মজিদ থেকে জানা যায়, মহান আল্লাহ তাআলা এই রাতে অর্থাৎ শবে কদরের রাতে তার প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য আগামী ১ বছরের জন্য রুজি, মৃত্যু ও ঘটনা ঘটনের কথা লিখেন। এই রাতে আল্লাহ যাদের হেদায়েত নসিব করেছেন,কেবল তারাই আল্লাহর দরবারে ইবাদত করতে থাকেন এবং গুনাহ মাপের জন্য দোয়া করেন।আসুন জেনে নেই, আমরা কিভাবে নির্ধারণ করব শবে কদরের রাত। এ সম্পর্কে হাদিছের আলোকে জানতে পারি রাসুল (স.)এই রাত সম্পর্কে ইঙ্গিত করেছেন , এই রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না , রাতটি নাতিশীতোষ্ণ হবে , মৃদ বাতাস প্রবাহিত থাকবে, সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত তৃপ্তিবোধ করবে, কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়ে দিতে পারেন, ওই রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হবে, সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে ,যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। এই লক্ষণ গুলি পরিলক্ষিত হলে বুঝতে হবে এই রাত শবে কদরের রাত।

মুসলমানের উচিত গুনাহ মাফের জন্য এই রাতে বিশেষ ইবাদত করা। এই রাত যদি শবে কদরের রাত হয় তবে কি দোয়া করা যায় এ সম্পর্কে হযরত আয়েশা (রাঃ)জানতে চাইলে , রাসুলুল্লাহ (স.)বলেন, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফয়া ফা’ফু আন্নি। অর্থ- হে আল্লাহ, আপনি বড়ই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন।তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন(তিরমিযি)। তাই বলা যায়, মহান আল্লাহ কত না দয়াশীল ? তাই তার প্রেরিত রাসুলের মাধ্যমে আমাদের এই দোয়াটি শিখিয়েছেন যাতে আমরা আমাদের যাবতীয় ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে নিতে পারি। এছাড়া হযরত আয়েশা (রাঃ) তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লালাহু (আঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করবে সে দুটি ওমরা ও দুটি কবুল হজ আদায় করার সাওয়াব পাবে। এছাড়া হযরত আয়েশা (রাঃ)আর ও বলেন, ওফাতের আগ পর্যন্ত প্রত্যেক রমজানের শেষের ১০ দিন রাসুল (স.)ইতেকাফ করতেন । (বুখারিঃ২৩২৬,মুসলিমঃ১১৭২)।

নবী মুহাম্মদের ওফাতের পর তাঁর স্ত্রিগণ ইতেকাফ করতেন। (বুখারিঃ২০২৬,তিরমিজিঃ৭৯০)। তাই এই শ্রেষ্ঠ নেয়ামত থেকে যেন আমরা বঞ্চিত না হই, সে দিকে প্রত্যেক মুসলমানের খেয়াল রাখা উচিত। আমাদের রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে কোরআন তেলাওত, নফল নামাজ, দরুদ ও সালাম, তওবা-ইস্তেগফার, দান-সদকা ইত্যাদি ভাল কাজের আমল বেশি বেশি করে করতে হবে যাতে আল্লাহ আমাদের উপর খুশি হয়ে এই ইবাদতেরউসিলায় আমাদেরকে মাফ করে দেন।

আমিন।

আজিজুল আম্বিয়া ,প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

আইনিউজ ভিডিও

রমজানেও ব্যবসায় ডাকাতি, শ্রীমঙ্গলের ২-৩ টাকার লেবু ঢাকায় হয়ে যায় ২০ টাকা

রোজার বাজারে ২ কেজি মাংসে ৪০০ গ্রাম কম দিলেন ব্যবসায়ী, ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান

নয় বছরের মেয়েটি কিভাবে নেভায় একের পর এক আগুন?

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়