ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭

ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী

প্রকাশিত: ১৬:৪১, ৩ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১৬:৫২, ৩ মার্চ ২০২১

বিশ্ব শ্রবণ দিবস

কানের যত্নে অবহেলা নয়

কান। ফাইল ছবি

কান। ফাইল ছবি

আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে শ্রবণশক্তি। অথচ শ্রবণশক্তির যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে আমরা বরাবরই উদাসীন। বিশ্বে শতকরা ৫ ভাগের বেশি মানুষের কোনো না কোনো মাত্রায় শ্রবণহীনতা রয়েছে। তবে একটুখানি সচেতন হলেই এড়ানো যায় কানের অনেক রোগ।

সচেতনতা আসলে রোগ প্রতিরোধের প্রাথমিক পদক্ষেপ। শ্রবণশক্তি হ্রাস রোধ এবং বিশ্বজুড়ে কানের যত্ন কীভাবে নেওয়া যায় সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ৩ মার্চকে বিশ্ব শ্রবণ দিবস পালন করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ২০০৭ সালের এই দিনে প্রথমবারের মতো পালিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার কেয়ার ডে’ বা আন্তর্জাতিক কর্ণ যত্ন দিবস। প্রতিবছরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একটি নতুন স্লোগান ঘোষণা করে । এবারের ২০২১ সালের স্লোগান বা থিম হচ্ছে :- 

"HEARING CARE FOR ALL: Screen, Rehabilitate, Communicate"... অর্থাৎ "শোনার যত্ন সবার জন্য: রোগ নির্ণয়, পুনর্বাসন ও যোগাযোগ "

শ্রবণশক্তি হারানো মানুষকে বিচ্ছিন্ন,দুর্বল এবং একাকী করে দিতে পারে। আর তাই কানের যত্নে বিশেষভাবে আরো সচেতনতা বাড়াতে দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।

শ্রবণশক্তি হ্রাস ঠেকাতে করণীয়:

১) গর্ভকালীন অবস্থায় মায়ের যত্ন নেওয়া এবং সময়মতো রুবেলা, বসন্ত, হাম ইত্যাদির টিকাগুলো দেওয়া। এ সময় অটোটক্সিক বা শ্রবণে ক্ষতিকারক ওষুধ গ্রহণে বিরত থাকা। সকল টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা।

২) জন্মের প্রথম দিন বা ছয় মাসের মধ্যে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা উচিত। একে বলে ইউনিভার্সাল হিয়ারিং স্ক্রিনিং যা বিশ্বব্যাপী চলমান। এরপর শিশুটির দাঁত ওঠা, হাঁটা-চলার পাশাপাশি শব্দের প্রতি সাড়া দিচ্ছে কি না সেদিকে নজর রাখা উচিত।

শিশুর বেড়ে উঠার অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে শুনতে পাওয়া। সাধারণত জন্মের পর ৩ মাস বয়সে আপনার শিশু ঘাড় ঘুরাতে পারবে এবং আপনার কথার উত্তরে হাসতে পারবে। ৬-১২ মাসের মধ্যে আপনার শিশু ভাঙা ভাঙাভাবে তার কথা বলতে শুরু করবে। ১৫-১৮ মাসের মধ্যে আপনার শিশু সহজ কয়েকটি কথা বলতে পারবে। এগুলো যদি না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা একটু চিন্তিত হয়ে পড়েতেই পারেন। এছাড়া কানে কম শুনলে আপনার শিশুও হতাশ, মনমরা হয়ে থাকবে। যদি স্বাভাবিক নিয়মে এইগুলো বাচ্চার বেড়ে উঠার মধ্যে দেখা না যায়, তখন অবশ্যই দ্রুত নাক-কান-গলা চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

৩) শব্দদূষণ যে কানের পর্দায় আঘাত করে তাকে বিকল করে দেয়, সেটা আমাদের সবারই জানা। তাই খুব জোরে টিভি চালানো বা গান শোনার অভ্যাস ছাড়তে হবে। এমন জায়গাতেও খুব বেশিক্ষণ থাকা ঠিক হবে না যেখানে শব্দ অকারণে খুব বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে গান শোনা শ্রবণশক্তি কমিয়ে দেয়;  তাই অবশ্যই হেডফোনে গান শোনার সময় বিরতি দিয়ে এবং ভলিউম কমিয়ে গান শোনা উচিত।

৪) কানে কম শোনার যন্ত্র/হিয়ারিং ডিভাইস  সহজলভ্য করা এবং এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি। পাশাপাশি সকল সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কানের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা / অডিওলজী টেস্ট এর ব্যবস্থা সহজলভ্য করার মাধ্যমে শ্রবণ শক্তি রোধ সম্ভব। কারো ইতোমধ্যে শুনতে পাওয়ার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে কিনা তা জানতে অডিওগ্রাম নামে পরিচিত হেয়ারিং টেস্ট সম্পর্কে জনমনে সচেতনতা বাড়াতে হবে। কারণ যারা শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন তারা প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারেন।

৫) যদি হঠাৎ করেই কেউ কানে কম শোনার সমস্যায় আক্রান্ত হন তাহলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত। যত দ্রুত Sudden Hearing loss এর রোগী তার চিকিৎসকের কাছে যাবেন তত দ্রুত আরোগ্য লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমাদের কানের প্রাথমিক কাজ হলো শোনা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ভারসাম্য রক্ষা করা। প্রতিনিয়তই এ দুটি আমাদের জন্য জরুরি। কানে কম শোনা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একটি প্রচলিত সমস্যা। আর তাই কানে কম শোনার সঠিক কারণ নির্ণয় এবং এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।

ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফীবিসিএস (স্বাস্থ্য), নাক-কান-গলা বিভাগ, বিএসএমএমইউ (প্রেষণে), ঢাকা

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়