Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩১ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৭ ১৪৩২

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:২৯, ৯ অক্টোবর ২০২১
আপডেট: ২৩:২৪, ১০ অক্টোবর ২০২১

আপনি মানসিকভাবে সুস্থ আছেন তো?

ভালো থাকতে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি প্রয়োজন মানসিক সুস্থতাও

ভালো থাকতে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি প্রয়োজন মানসিক সুস্থতাও

চিন্তা করা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ নিমিষেই কেড়ে নেয় মনের সুখ-শান্তি; যা জন্ম দেয় বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগ। ভালো থাকতে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি প্রয়োজন মানসিক সুস্থতাও।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সুস্থ মানসিক অবস্থা হলো, যখন একজন মানুষ নিজের কর্মক্ষমতা এবং দক্ষতার সঠিক বিশ্লেষণ করে দৈনন্দিন চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে উৎপাদনশীল কাজের মাধ্যমে নিজের পরিবার ও গোষ্ঠীর জন্য কিছু অবদান রাখতে সক্ষম হন।

এখন প্রশ্ন হলো আমরা কীভাবে বুঝব আমরা মানসিকভাবে সুস্থ আছি?  

মানসিক সুস্থতার প্রথম পদক্ষেপ হলো নিজের মন এবং ব্যক্তিত্বের সম্পর্কে নিরপেক্ষ ধারনা বজায় রেখে নিজেকে এবং নিজের চিন্তাধারার স্রোতকে সঠিক পথে সঞ্চালনা করা। এইভাবেই আমরা আমাদের ক্ষমতা ও সম্ভাব্য লক্ষ্যে পৌঁছনোর রাস্তা প্রশস্ত করি।

মানসিকভাবে সুস্থ থাকার মানে এই নয় যে সবসময় হাসিখুশি থাকতে হবে। বরং এর মানে হলো সবসময় প্রাণবন্ত থাকা। বিশেষ করে জীবনে যখন কোনো বিপত্তি আসে তখন ভয় না পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে কড়া হাতে তার মোকাবিলা করা। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কখনোই মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায় না। পারস্পরিক সামাজিক যোগাযোগ আমাদের মানসিকভাবে ভালো থাকাকে খুবই প্রভাবিত করে। 

বিশেষ করে যখন আমরা ইতিবাচক কোনো বিষয়ের সঙ্গে নিজেদেরকে যুক্ত করি, তখন মানসিকভাবে অনেকটা প্রাণোচ্ছ্বলতা অনুভব করি। মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে ভালো থাকার জন্য নিজের ও শুভানুধ্যায়ীদের ভূমিকাকে স্বীকার করাটা খুবই প্রয়োজনীয়। এর ফলে নিজের প্রতি যে সন্মান দেখানো হয় ও অপরের কাছ থেকে যে সন্মান পাওয়া যায়, তা মানসিক দিক থেকে ভালো থাকতে সাহায্য করে।

বেশিরভাগ সময়ই আমরা মানসিক রোগের কোনো উপসর্গকে গুরুত্ব দিই না

গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগ একটি মানুষের জীবনে অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে আসে। মানসিকভাবে সুস্থ থাকার মানে সেই সমস্ত সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করা ও সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চ্যালেঞ্জকে স্বীকার করে নিজের আত্মসন্মানকে আবার প্রতিষ্ঠিত করা। 

একটা সাধারণ ঘটনায় কেন খুশি বা রাগ হয় বা সেটা কেন আমাদের আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানে এইসবের পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখার সময় আমরা পাইনা। অনেক সময় আমাদের কাজের চাপের সঙ্গে আমাদের মানসিক শক্তির সামঞ্জস্য না ঘটলে, তার ছাপ শরীর ও স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। 

দুর্ভাগ্যজনক এই যে আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যে কোনো বিচ্যুতি ঘটতে দেখলে আমরা নড়েচড়ে বসি। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমরা মানসিক রোগের কোনো উপসর্গকে গুরুত্ব দিই না। ফলে আমরা অজান্তেই নিজেদের বড় বিপদ ডেকে আনি।

মানসিক রোগের কিছু উপসর্গ আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত। এগুলো হলো, নিজের মধ্যে অসুখী ভাবের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া ও ধীরে ধীরে নিজের এবং পারিপার্শ্বিক জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, সবসময় নেতিবাচক চিন্তা করা ও অন্যের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করা, আগের তুলনায় কম আনন্দ অনুভব করা, মানুষের থেকে বা কোনো অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার প্রবণতা প্রভৃতি।

মানসিকভাবে সুস্থ  থাকতে আনন্দদায়ক কাজ করুন 

এবার জেনে নেওয়া যাক কীভাবে আমরা নিজেদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখব?

শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখা।  কর্মক্ষেত্র ও পরিবারের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলা। এমন কিছু কাজের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে রাখা, যা আমাদের আনন্দ দেয় ও আত্মবিশ্বাস জোগায়। যেমন, খেলাধুলা, নিজের কোনো শখ ইত্যাদি। সেই সমস্ত মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো, যারা আমাদের গুরুত্ব দেন। ভালো লাগার মুহূর্তগুলো অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেয়া। নিজের অনুভূতি সম্পর্কে সবসময় সজাগ থাকা। 

আইনিউজ/এসডিপি 

আইনিউজ ভিডিও

বিদেশে বসে যারা সাইবারক্রাইম করছেন, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে ব্যবস্থা: মৌলভীবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র আঁকা সেই কার্টুনিস্ট মারা গেলেন যেভাবে

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়