ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ২১ ডিসেম্বর ২০২১

সিলেটে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ: সামনে রাজনীতিবিদ, পেছনে মুক্তিযোদ্ধা!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ছবি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ছবি।

সিলেটে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আয়োজিত হয়- আঞ্চলিক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ। কিন্তু এ অনুষ্ঠানেই মুক্তিযোদ্ধাদের 'সম্মানহানি' হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে, এতে দেখা যায়- সামনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে রাজনীতিবিদদের বসার জায়গা, পেছনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ও সিলেট জেলা পরিষদের সহায়তায় সিলেটে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। জেলা স্টেডিয়ামে মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছে এ অনুষ্ঠান। এতে অংশগ্রহণ করেছেন সিলেটের বিভিন্ন এলাকার পাঁচ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

কিন্তু এ অনুষ্ঠান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বইছে সমালোচনার বন্যা। মূলত রাজনীতিবিদদের জন্য কাপড়ে মোড়ানো তিন সারি আসন সংরক্ষিত রেখে পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্লাস্টিকের খালি চেয়ারে বসানো নিয়ে এ সমালোচনা শুরু হয়।

ভাইরাল হওয়া এ আঞ্চলিক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ছবিতে দেখা যায় সাদা কাপড়ে মোড়ানো চেয়ারগুলোর পাশে লেখা ‘রাজনীতিবিদদের জন্য সংরক্ষিত৷’ দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায় লাল রঙের প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে লেখা ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত।’

তাঁর সাথে একমত হয়ে পোস্টটি শেয়ার করেছেন সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম। তিনিও উষ্মা প্রকাশ করেছেন এমন ঘটনার।

ফেসবুকে এ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের লেখালেখি করতে দেখা গেছে। রাজনীতিবিদদের জন্য সুদৃশ্য কাপড়ে মোড়ানো চেয়ার, তাও সামনের দিকে, অন্যদিকে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের খালি প্লাস্টিকের চেয়ারে, রাজনীতিবিদদের পেছন দিকে! অনেকেই একে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

সিলেটের জ্যেষ্ঠ ফটো সাংবাদিক শেখ নাসির গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দুইটি ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেন, ‘এটাই কি বীর সন্তানদের সম্মান..! সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আঞ্চলিক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নরমাল প্লাস্টিকের চেয়ার আর রাজনীতিবিদদের জন্য রাজকীয় সফেদ চেয়ার।’

প্রথমে তাঁর পোস্টটিই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, তাতে উঠে এ অনুষ্ঠানের সমালোচনা। পরে বিভিন্ন মানুষ অনলাইনে এ বিষয়টির নিন্দা জানান।

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধাদের এমন আসন নিয়ে আক্ষেপ আর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গুলজার খান। গণমাধ্যমকে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 

‘৫০ বছর পর আমাদের স্মরণ করা হচ্ছে এতেই আমরা ধন্য। দেশ স্বাধীন করে দিয়েছি এখন আর আমাদের স্মরণ করার দরকারই না। আমাদেরকে যেখানে ইচ্ছা সেখানেই বসানো হোক।’

তবে এমন সমালোচনা সঠিক নয় দাবি করে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেছেন, সামনের আসনগুলোতেও মুক্তিযোদ্ধারা বসা ছিলেন। কিন্তু একপাশের ছবি তুলে সমালোচনা করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ীই আসন বিন্যাস তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের শ্রেষ্ট সন্তান। তাদের অসম্মান করার প্রশ্নই ওঠে না। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আমি নিজের আসনও ছেড়ে দিয়েছি।

আইনিউজ/এসডি

দেখুন আইনিউজের বিভিন্ন ভিডিও খবর

ঘুরে আসুন মৌলভীবাজারের পাথারিয়া পাহাড়

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়া, দেশে চিকিৎসা নেই

শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় চতুর্থবার মেয়র হলেন মহসীন মিয়া মধু

মৌলভীবাজারে ১৩৩ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৪০ বেকার তরুণ

পাকিস্তান দলকে সমর্থনকারী বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উৎসবে মুগ্ধ বিদেশিনী

মৌলভীবাজারের সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ভারত সরকারের পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত

এছাড়াও যে কোনও ভিডিও সংবাদের জন্য ভিজিট করুন আইনিউজের ভিডিও আর্কাইভস

আরও পড়ুন
Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়