ঢাকা, শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২৬,   আষাঢ় ১৮ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:৩৮, ২ জুলাই ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে ইউএনওর হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় বসলেন ৯ এইচএসসি শিক্ষার্থী

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন প্রবেশপত্র ছাড়া কেন্দ্রে এসে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

জানা যায়, কলেজটির মানবিক বিভাগের ৯ জন শিক্ষার্থী নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের টাকা জমা দেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর কয়েক দিন আগে থেকে একাধিকবার কলেজে যোগাযোগ করেও তারা প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। কলেজ কর্তৃপক্ষ বারবার আজ-কাল করে সময় দিলেও পরীক্ষার দিন পর্যন্ত তাদের হাতে এডমিট কার্ড পৌঁছায়নি। সর্বশেষ বুধবারও শিক্ষার্থীরা কলেজে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের প্রবেশপত্র আসেনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দীপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল এবং সুমাইয়া আক্তার (অনিয়মিত)। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, মোট ৯ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশপত্র ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান দ্রুত পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হন। তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে বোর্ডের অনুমতি এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে সক্ষম হন।

পরীক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, “গত রমজান মাসেই আমরা ফরম পূরণের টাকা কলেজে জমা দিয়েছি। বারবার যোগাযোগ করেও এডমিট কার্ড পাইনি। ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আমরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাই।”

শ্রাবন্তী শীল বলেন, “আমরা সাড়ে ১১টার দিকে পরীক্ষা শুরু করতে পেরেছি। কিন্তু মাত্র ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সময়ের অভাবে অনেক প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারিনি। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় কে নেবে?”

দীপা কাহার বলেন, “ফরম ফিলাপের টাকা কয়েক মাস আগেই জমা দিয়েছি। এডমিট কার্ডের জন্য বারবার কলেজে গিয়েছি। প্রতিবারই আজ-কাল বলে সময় দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় দেওয়ার কথা বলা হলেও সেটিও পাইনি। আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি এবং আমাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কিত।”

এ ঘটনায় কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অনিত দেবের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বলেন, “ যে ৯ জন শিক্ষার্থীর এডমিট কার্ড আসেনি, বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। আজ জানতে পেরেছি, তারা সবাই কম্পিউটার অপারেটর অনিত দেবের কাছে ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েছিল। ইউএনও এবং শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের হস্তক্ষেপে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে।”

দায় কার—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে কম্পিউটার অপারেটর অনিত দেব দায়ী। তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে আমারও দায় রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত তাদের প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করি। পরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করি। বোর্ডের অনুমতি এবং জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় তারা পরীক্ষা দিতে পেরেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে ৯ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ