ঢাকা, শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২৬,   আষাঢ় ২৫ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:৩৫, ৯ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে কয়েক একর আউশ ধানের ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার রাতের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের চাপে ইসলামপুর ইউনিয়নের মোখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এরপর নদীর পানি দ্রুত আশপাশের গ্রামে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

পানিতে তলিয়ে গেছে মোকাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গংগানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায় বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রামের বিভিন্ন এলাকা। ডুবে গেছে গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কৃষিজমি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোখাবিল এলাকার বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময়মতো কার্যকর সংস্কার করা হলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো। বন্যার পানিতে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও সুমন মিয়া বলেন, বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে হঠাৎ করেই বাঁধটি ভেঙে যায়। প্রায় ১০০ মিটার অংশ ধসে পড়ায় কয়েকটি ইউনিয়নের বহু গ্রাম মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যায়।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মোখাবিল এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতা ও বিএসএফের আপত্তির কারণে ওই অংশে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে যতটুকু এলাকায় কাজ করা সম্ভব হয়েছে, তা আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবন্দী পরিবারগুলোর উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়