Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ১৭ ১৪৩২

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ১৯ জুলাই ২০২০

সিলেটে করোনার ভূয়া সার্টিফিকেট দেওয়ায় চিকিৎসককে কারাদণ্ড

করোনার ভূয়া সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যাপারটি এখনকার সময়ের একটি আলোচিত ঘটনা। দেশে যখন করোনা পরিস্থিতি অবনতি ঘটছে সেই সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সার্টিফিকেট নিয়ে খেলা করছে।

তাই এই ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠেছে দেশের জেলা প্রশাসনগুলো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার(১৯ জুলাই)  সিলেটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়েছেন এক ডাক্তার। যিনি অর্থের বিনিময়ে করোনা রোগীদের ভূয়া সার্টিফিকেট দিতেন। এমনকি নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েও রোগী দেখতেন।

এই ঘটনায় সিলেটের এ এইচ এম শাহ আলম নামে সেই চিকিৎসককে একলাখ টাকা জরিমানা ও চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব এই দণ্ড প্রদান করে। 

রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর মধুশহীদ এলাকার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নীচ তলায় ডা. এ এইচ এম শাহ আলমের চেম্বারে অভিযান চালায় র‌্যাব-৯। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায় বলেন, ডা. আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে ৪ মাসের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি অনাদায়ে আরও ১ মাসের জেলা দেয়া হয়। তার সব অনিয়মের প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।

সিলেট র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামিউল আলম জানান, ডা. আলম বিদেশযাত্রীসহ কয়েকজনকে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট টাকার বিনিময়ে দিয়েছেন বলে র‌্যাবের  কাছে স্বীকার করেন। পরে তাকে নিয়ে তার চেম্বার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালানো হয়।

ডা. শাহ আলম নিজেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। যদিও তিনি কোনো সরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন না। এছাড়া তিনি নিজে গত ১৪ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন। এই তথ্য গোপন রেখেই তিনি চেম্বারে রোগী দেখে যাচ্ছেন।

ডা. এ এইচ এম শাহ আলম নগরীর মধুশহীদ এলাকায় মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নিচতলায় চেম্বার করেন। বিদেশযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন দেশ ও এয়ারলাইন্স করোনা নেগেটিভ সার্টিফেকেট বাধ্যতামূলক করার পর প্রবাসীদের টার্গেট করেন ডা. শাহ আলম।

‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট দেয়ার কথা বলে বিদেশযাত্রীদের কাছ থেকে তিনি চার হাজার টাকা করে আদায় করেন। ফ্লাইটের ৪৮ ঘন্টা আগে তিনি ওই প্রবাসীকে ডেকে নিয়ে হাতে ধরিয়ে দেন প্রত্যয়নপত্র। রোগী বা যাত্রীকে না দেখেই নিজের প্যাডে দেয়া ওই প্রত্যয়পত্রে ডা. শাহ আলম লিখে দেন, তিনি ওই ব্যক্তিকে তার চেম্বারে দেখেছেন। তার মধ্যে কোভিড-১৯ এর কোন লক্ষণ নেই।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়