Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ১৮ ১৪৩২

ইমরান আল মামুন

প্রকাশিত: ০৬:৩৮, ১ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর নতুন পরিকল্পনা

দেশের শিক্ষা খাতে আবারও বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর নতুন পরিকল্পনা করছে—তবে এবার আগের মতো পুরোপুরি ভার্চুয়াল নয়, বরং অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে এক আধুনিক পদ্ধতি। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্যই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস আংশিকভাবে চালু করার চিন্তা করছে সরকার। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস?

সম্প্রতি বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক দেশেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এই বাস্তবতায় শিক্ষা খাতকে সচল রাখতে বিকল্প উপায় হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হঠাৎ করে সম্পূর্ণ বন্ধ বা সীমিত ক্লাসের বদলে একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। তাই অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলা হচ্ছে।

মিশ্র শিক্ষা পদ্ধতি কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

নতুন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং’ বা মিশ্র শিক্ষা পদ্ধতি। এতে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকবে এবং বাকি দিনগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস করবে।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে—

  • শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যাবে
  • বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে
  • ডিজিটাল দক্ষতা বাড়বে
  • শিক্ষার মান বজায় রাখা সহজ হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও একটি টেকসই মডেল হতে পারে।

কীভাবে পরিচালিত হবে নতুন ক্লাস ব্যবস্থা

মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইন ক্লাস পরিচালনা করা হতে পারে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা একদিন ক্যাম্পাসে যাবে, পরদিন বাসা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস করবে—এভাবে একটি ভারসাম্য তৈরি করা হবে।

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • জোড় ও বিজোড় দিনের ভিত্তিতে ক্লাস ভাগ করা হতে পারে
  • শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই অনলাইন ক্লাস নেবেন
  • ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) ক্লাস সরাসরি ক্যাম্পাসে হবে
  • পরীক্ষার ক্ষেত্রে সশরীরে উপস্থিতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা একঘেয়েমি ছাড়াই নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।

রোনা সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে

২০২০ সালে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় হঠাৎ করেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু করতে হয়েছিল। তখন অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এই ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল।

এবার সেই অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নতভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে—

  • অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে দক্ষতা বেড়েছে
  • ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি সহজ হয়েছে
  • ভার্চুয়াল ক্লাস পরিচালনায় শিক্ষকরা অভিজ্ঞ হয়েছেন

ফলে আগের তুলনায় এখন এই পদ্ধতি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য: দ্রুত সিদ্ধান্ত আসছে

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস আংশিকভাবে চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, এটি কেবল দেশের সমস্যা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে অভিযোজিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়