Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ১৮ ১৪৩২

ইমরান আল মামুন

প্রকাশিত: ০৭:৪৮, ১ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাজিল ফুটবল দল বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বড় চমক, দানিলো থাকছেন নিশ্চিত

বিশ্বকাপ সামনে, আর এই সময়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ব্রাজিল ফুটবল দল। ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল—কারা থাকছেন চূড়ান্ত দলে? কে পাচ্ছেন সুযোগ, আর কে বাদ পড়ছেন? এই উত্তেজনার মাঝেই বড় আপডেট দিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোকে নিয়েই তিনি বিশ্বকাপ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন—এটি এখন নিশ্চিত।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে ব্রাজিল ফুটবল দল এবারও শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে। তবে আগের মতো শুধু আক্রমণ নয়, এবার রক্ষণভাগ নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচ।

দানিলোকে ঘিরে আনচেলত্তির স্পষ্ট বার্তা

সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, দানিলো তার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, বরং দলের ভিতরে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, দানিলোর উপস্থিতি মাঠের ভেতর এবং বাইরে—দুই জায়গাতেই দলের জন্য বড় শক্তি। তার অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং বহুমুখী খেলার দক্ষতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

এই সিদ্ধান্তে বোঝা যাচ্ছে, ব্রাজিল ফুটবল দল এবার অভিজ্ঞতা এবং স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।

প্রায় চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড

বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াড প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন আনচেলত্তি। ১৮ মে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা থাকলেও ভেতরের খবর—মূল কাঠামো ইতোমধ্যে নির্ধারিত।

প্রথম ম্যাচের একাদশ নিয়েও কোচের ভাবনা অনেকটাই পরিষ্কার। তার মতে, শুরু থেকেই শক্তিশালী কম্বিনেশন নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

এই পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট—ব্রাজিল ফুটবল দল কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করাই তাদের লক্ষ্য।

গ্রুপ ‘সি’তে চ্যালেঞ্জ কতটা?

আগামী বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’তে রয়েছে মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। কাগজে-কলমে তুলনামূলক সহজ গ্রুপ হলেও আনচেলত্তি কোনো দলকেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না।

বিশেষ করে মরক্কো সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে চায় ব্রাজিল ফুটবল দল।

এই গ্রুপ থেকে সহজেই পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও ছোট ভুল বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে—এটা ভালোভাবেই জানে দলটি।

দানিলোর অভিজ্ঞতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

৩৪ বছর বয়সী দানিলো ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবে খেলার পর এখন তিনি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর হয়ে খেলছেন।

জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৬৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দলের জন্য অমূল্য সম্পদ।

রক্ষণভাগের যেকোনো পজিশনে খেলতে পারা—এটাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। ফলে ইনজুরি বা কৌশলগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোচের জন্য তিনি ‘সেফ অপশন’।

এমন একজন খেলোয়াড় থাকা মানে ব্রাজিল ফুটবল দল অনেকটাই ভারসাম্য পায়।

আক্রমণ নয়, রক্ষণেই জোর দিচ্ছে ব্রাজিল

ব্রাজিল মানেই আক্রমণাত্মক ফুটবল—এটাই সবার ধারণা। তবে এবার সেই চিন্তায় পরিবর্তন আনছেন আনচেলত্তি।

তার মতে, শুধু আক্রমণ দিয়ে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব নয়। শক্তিশালী রক্ষণভাগ ছাড়া বড় সাফল্য পাওয়া কঠিন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রতিভা ব্রাজিলের আছে, কিন্তু সেই প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হলে সংগঠিত ডিফেন্স দরকার।

এই কৌশলগত পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে—ব্রাজিল ফুটবল দল এবার আরও পরিণত এবং বাস্তববাদী ফুটবল খেলতে যাচ্ছে।

হেক্সা মিশন: লক্ষ্য এবার ষষ্ঠ শিরোপা

ব্রাজিলের সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য—হেক্সা মিশন, অর্থাৎ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়। ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল হলেও শেষ কয়েকটি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তারা।

এই ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করে এবার নতুনভাবে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। কোচ আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা এবং কৌশল দলের জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট।

দলীয় ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে নতুন এক ব্রাজিল ফুটবল দল, যারা শুধু দর্শনীয় ফুটবলই নয়, ফলাফলও এনে দিতে চায়।

সম্ভাব্য একাদশ ও কৌশলগত বিশ্লেষণ

যদিও চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে—দলটি ৪-৩-৩ ফরমেশনেই খেলবে।

রক্ষণভাগে অভিজ্ঞদের সঙ্গে তরুণদের মিশ্রণ থাকবে। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে গতি—এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটাতে চাইছেন কোচ।

দানিলোর মতো খেলোয়াড় থাকায় ডিফেন্সে ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়বে, যা বড় ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই সবকিছু মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে—ব্রাজিল ফুটবল দল শুধু নামের ওপর ভরসা করছে না, বরং কৌশলগত দিক থেকেও প্রস্তুত।

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচের গুরুত্ব

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচসহ আরও কয়েকটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এই ম্যাচগুলোই হবে মূল পরীক্ষার মঞ্চ।

এখানে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ।

বিশেষ করে রক্ষণভাগের সমন্বয় এবং মিডফিল্ডের কন্ট্রোল—এই দুই বিষয়েই বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।

কারণ, বিশ্বকাপে ছোট ভুলও বড় মূল্য দিতে বাধ্য করে—এটা খুব ভালো করেই জানে ব্রাজিল ফুটবল দল।

বিশ্লেষণ: কেন এবার ব্রাজিল আলাদা?

এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে অন্যরকম লাগার প্রধান কারণ—তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

আগে যেখানে শুধু আক্রমণভিত্তিক ফুটবল দেখা যেত, এবার সেখানে ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল দেখা যাচ্ছে।

আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে দলটি আরও সংগঠিত এবং পরিকল্পিত হয়ে উঠছে।

তার ওপর দানিলোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি দলকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করছে।

সব মিলিয়ে, এই ব্রাজিল ফুটবল দল শুধু প্রতিভার ওপর নির্ভর করছে না, বরং বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল দিয়ে ম্যাচ জিততে প্রস্তুত।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়