ইমরান আল মামুন
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্
বাংলাদেশের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় যে কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুণগত মান, কঠোর শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিক শতভাগ সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্। রাজধানীর নামীদামি কলেজ-স্কুলগুলোর বাইরে জেলা পর্যায়ে গড়ে ওঠা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখন সারা দেশের শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের কাছে এক অনুকরণীয় মডেল।
বাণিজ্যিক মানসিকতার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক জাতীয় সাফল্য প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পটভূমি, পাঠদানের বৈপ্লবিক কৌশল, পরীক্ষার সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ভাবনাসহ নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্-এর সার্বিক কার্যক্রমের আদ্যোপান্ত নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্: একনজরে পরিচিতি
| বিষয় / সূচক | বিস্তারিত বিবরণ |
| প্রতিষ্ঠানের পুরো নাম | নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্ (NKM High School & Homes) |
| অবস্থান | ভেলানগর, নরসিংদী সদর, নরসিংদী জেলা |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ২০০৮ সাল |
| প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান | ড. আবদুল কাদির মোল্লা (চেয়ারম্যান, থার্মেক্স গ্রুপ) ও নাছিমা বেগম |
| শিক্ষা বোর্ড ও অ্যাফিলিয়েশন | ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড |
| ইআইআইএন (EIIN) নম্বর | ১৩৪০২০ |
| স্কুল কোড | ৩০৩৭ |
| শিক্ষার্থী সংখ্যা | প্রায় ৫,২০০ জন |
| শিক্ষক-শিক্ষিকা | প্রায় ১৭৪ জন |
| শিক্ষাদানের মাধ্যম | জাতীয় শিক্ষাক্রম (বাংলা ও সমন্বিত আধুনিক শাখা) |
প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট: আলোকিত নরসিংদী গড়ার দূরদর্শী উদ্যোগ
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত নরসিংদী জেলায় একসময় মানসম্মত আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট ছিল। জেলা শহর ও আশপাশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের আশায় ঢাকামুখী হতো। এই সংকট দূর করতে এবং নিজ এলাকার শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদানের অঙ্গীকার নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও শিল্পোদ্যোক্তা ড. আবদুল কাদির মোল্লা এবং তাঁর সহধর্মিণী নাছিমা বেগম ২০০৮ সালে নরসিংদী সদরের ভেলানগর এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করতে শুরু করে। ড. আবদুল কাদির মোল্লার লক্ষ্য ছিল এমন একটি শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউশন বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না; স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই সম্পন্ন হবে সম্পূর্ণ পাঠ প্রস্তুতি।
সাফল্যের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্ শুরু থেকেই বোর্ড পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফল অর্জন করে আসছে। পিইসি, জেএসসি এবং সর্বশেষ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ পাসের হার ও রেকর্ডসংখ্যক জিপিএ-৫ প্রাপ্তি সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সাম্প্রতিক পরীক্ষার অর্জন চিত্র:
-
শতভাগ পাসের ঐতিহ্য: প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি পাসের হার শতভাগে ধরে রেখেছে।
-
জিপিএ-৫ এর জয়জয়কার: অধিকাংশ বছরই অংশ নেওয়া প্রায় সব শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ (A+) অর্জন করে জাতীয় মেধা তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে।
-
বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ভারসাম্য: বিজ্ঞান বিভাগের পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে আসছে।
সাফল্যের মূল রহস্য: যে কারণে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অন্যদের চেয়ে আলাদা
বহু সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিড়ে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্ কীভাবে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় মেধা তালিকার শীর্ষে থাকে? প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে পাঠদানের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়:
১. শ্রেণিকক্ষেই শতভাগ পাঠদান ও 'জিরো কোচিং' কালচার
প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কোচিং বা প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হয় না। সকালের ক্লাস থেকে শুরু করে নিয়মিত টিউটোরিয়াল ও বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমেই ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করিয়ে নেওয়া হয়।
২. হোম ভিজিট ও মেন্টরিং সিস্টেম
এখানে শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষেই মূল্যায়ন করা হয় না। প্রতিটি শিক্ষকের অধীনে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীর একটি দল থাকে। শিক্ষকগণ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যোগাযোগ করেন (হোম ভিজিট) এবং পড়াশোনার পরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন।
৩. নিয়মিত ক্লাস টেস্ট ও সেমিস্টার মূল্যায়ন
মাসিক পরীক্ষা, সাপ্তাহিক টিউটোরিয়াল এবং মডেল টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়।
৪. আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল মনিটরিং
পুরো ক্যাম্পাস ও প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকে। প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি সার্বক্ষণিক পাঠদানের মান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ওপর নজর রাখেন।
৫. অভিভাবকদের সাথে এসএমএস যোগাযোগ
শিক্ষার্থী স্কুলে প্রবেশ করা থেকে শুরু করে ক্লাস টেস্টের নম্বর ও উপস্থিতি—সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে অভিভাবকদের মোবাইলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্-এর অবকাঠামোগত কাঠামো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্মিত। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আধুনিক সুবিধা ক্যাম্পাসে বিদ্যমান:
-
মাল্টিমিডিয়া ও স্মার্ট ক্লাসরুম: অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি কঠিন বিষয়কে সহজে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
-
সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগার: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জন্য রয়েছে সুসজ্জিত ও আধুনিক ল্যাবরেটরি।
-
বৃহৎ লাইব্রেরি: পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সাহিত্যের বই, জ্ঞানকোষ ও রেফারেন্স বইয়ে সমৃদ্ধ একটি পাঠকক্ষ।
-
খেলাধুলা ও শারীরিক কসরত: ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত খেলাধুলা, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং শরীরচর্চার সুযোগ রয়েছে।
-
সহশিক্ষা কার্যক্রম: বিতর্ক ক্লাব, বিজ্ঞান মেলা, চারু ও কারুকলা প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজন করা হয়।
তুলনামূলক পর্যালোচনা: সাধারণ স্কুল বনাম নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল
| তুলনার বিষয় | সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্ |
| প্রাইভেট টিউশন নির্ভরতা | অত্যন্ত বেশি | সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (স্কুলেই পাঠ সম্পন্ন) |
| শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত | অতিরিক্ত শিক্ষার্থী অনুপাতে কম শিক্ষক | পরিকল্পিত ব্যাচ ও নিবিড় তত্ত্বাবধান |
| হোম ভিজিট কার্যক্রম | সচরাচর দেখা যায় না | নিয়মিত শিক্ষক কর্তৃক হোম ভিজিট ও খোঁজখবর |
| ফলাফলের ধারাবাহিকতা | বছরভেদে পরিবর্তনশীল | শতভাগ পাস ও অধিকাংশের জিপিএ-৫ অর্জন |
| শৃঙ্খলা ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং | সীমিত প্রযুক্তি ব্যবহার | সিসিটিভি মনিটরিং ও এসএমএস ট্র্যাকিং সিস্টেম |
ভর্তি প্রক্রিয়া ও শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই
প্রতি বছর নতুন শিক্ষাবর্ষে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্-এ ভর্তির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যায়। নরসিংদী জেলা ছাড়াও আশপাশের নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেও অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেন।
ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রধান ধাপ:
-
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ: প্রতি বছরের শেষভাগে স্কুল ক্যাম্পাস ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
-
অনলাইন/অফলাইন আবেদন: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হয়।
-
মেধা যাচাই ও মূল্যায়ন: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লটারি অথবা মেধাভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে যোগ্য শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্ শুধুমাত্র একটি প্রচলিত স্কুল হিসেবে থাকতে চায় না; বরং এটিকে দেশের একটি অন্যতম আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাঙ্গনে রূপান্তরিত করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা ড. আবদুল কাদির মোল্লার উদ্যোগে অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ বৃত্তি ও সুযোগ-সুবিধা। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানরাও যেন টাকার অভাবে ভালো পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সবসময় আন্তরিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
- শাবির ৭২ টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে ৫৩ টিই বিকল
- শাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, চলছে ভোটগ্রহণ
- ৪৯ তম বেফাক পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৬ দেখার সহজ উপায়
- বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ ২০২৬ রেজাল্ট প্রকাশ
- এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ এর রেজাল্ট ২০২৩
- দাখিল পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৬ | মাদ্রাসা বোর্ডের ফলাফল
- মাস্টার্স পরীক্ষার ফলাফল ২০২৫
- এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৩ | এসএসসি ফলাফল
- অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা রুটিন ২০২৩
- বেফাক পরীক্ষার ফলাফল ২০২৬ প্রকাশের আপডেট



















