ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৩ মে ২০২১,   বৈশাখ ৩০ ১৪২৮

ডা.শুভার্থী কর

প্রকাশিত: ১৮:১৮, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ২০:০৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

তিনটি ছোট পরীক্ষায় কিডনির রোগ নির্ণয়

ডায়াবেটিসের প্রকোপের কারণে আমাদের দেশে কিডনি রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এছাড়াও কিডনির নিজস্ব আরও রোগ তো আছেই। সময় মত রোগ ধরা না পড়লে ও সময়মত কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে না গেলে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়।

তাই আমাদের রোগীদেরকেই এখন সচেতন হতে হবে যে, কোন তিনটি পরীক্ষা করালে প্রাথমিকভাবে বুঝা যাবে কিডনি রোগ আছে কি-না।

আমাদের উপজেলা হাসপাতালেও এখন ভাল ল্যাব ও টেকনোলজিস্ট আছেন বা প্রাইভেটভাবেও খুব সহজে এবং সস্তায় পরীক্ষাগুলো করা যাবে।

সেরাম ক্রিয়াটিনিন : এটি রক্তের খুব সাধারণ একটি পরীক্ষা। গড়পরতা প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের বেলায় স্বাভাবিক মাত্রা ১.৩ ও নারীদের বেলায় ১.২ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার। সেখান থেকে খুব সহজে স্থানীয় এমবিবিএস ডাক্তার eGFR বের করে কিডনির অবস্থা বলে দিতে পারেন। এটি সকল ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ৬ মাস পর পর করা উচিত।

সেরাম ক্রিয়াটিনিন পরীক্ষা

মুত্রের রুটিন পরীক্ষা বা Urine RE :  সকালবেলার প্রথম প্রস্রাব দিতে পারলে ভাল। সস্তা, সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। প্রস্রাবে আমিষ বা প্রোটিন বেশী থাকলে বা রক্ত কণিকা নির্গত হলে এর মাধ্যমে ধরা যায়। প্রস্রাবে পুজ কণিকা বেশী হলে ইনফেকশন নির্দেশ করে। অস্বাভাবিক রিপোর্ট হলে কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সমধান মিলতে পারে।

প্রস্রাবের প্রোটিন বা Urine for ACR পরীক্ষা সাধারনত রক্তের মাঝে ভাসমান প্রোটিন বা আমিষ লিভারে তৈরী হয়ে রক্তেই ভাসমান থাকে। তা কিডনী পর্যন্ত পৌঁছায় ঠিক; কিন্তু প্রস্রাবে নির্গত হয় না। কিন্তু যখনই কিডনি এর অসুখ হয় তখন কিডনি এর এই ক্ষমতা হ্রাস পায় ও প্রস্রাবের সাথে আমিষ বা প্রোটিন নির্গত হয় এবং Urine for ACR পরীক্ষা করে আমরা রোগ ধরতে পারি।

আমার অভিজ্ঞতা বলছে আমাদের কিডনি রোগের রুগীরা খুব দেরি করে কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে যান। ফলে তখন ডাক্তারের কিছু করার থাকে না। আগে থেকেই পরীক্ষা করে প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ ধরা গেলে, অনেক রুগীরই ডায়ালাইসিস বা কিডনী ট্রান্সপ্লাট এর প্রয়োজন হবে না।

ডা.শুভার্থী কর, সহকারী অধ্যাপক, নেফ্রোলজী বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়