ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী

প্রকাশিত: ১৫:২১, ২৩ নভেম্বর ২০২১
আপডেট: ১৫:২৪, ২৩ নভেম্বর ২০২১

নাক বা কানের ভিতরে হঠাৎ কিছু ঢুকে গেলে

খেলতে খেলতে হঠাৎ করে অবুঝ শিশু যদি নাকের ছিদ্রে বা কানের ফুটোর মধ্যে কিছু ঢুকিয়ে ফেলে অথবা এক্সিডেন্টালি পোকামাকড়, মশা-মাছি প্রভৃতি নাক বা কানের মধ্যে ঢুকে আটকে পড়ে, সেক্ষেত্রে বাড়িতে নিজেরা খোঁচাখুঁচি  করলে   সমস্যা   আরও   জটিল   হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু ছাড়াও বড়দের কানের ভিতরে পোকামাকড়, মশা-মাছি অনেক সময় ঢুকে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের শস্যদানা যেমন-ছোলা,মটর, ধান এবং অন্যান্য জিনিসের মধ্যে পুঁতি বা ছোট্ট বল, ছোটপাথরের টুকরা, শার্টের বোতাম, কাগজ, মুড়ি ইত্যাদি কানের ভিতরে অথবা নাকে ঢুকিয়ে আমাদের কাছে নিয়ে আসে। 

এমন অবস্থায় করণীয় 

এক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে শিশুকে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসকের কাছে নিতে না পারলে বাড়িতে প্রথমেই বুঝতে চেষ্টা করুন, কানের মধ্যে যে জিনিসটি ঢুকেছে, সেটি জীবন্ত কিছু না কি জড় পদার্থ। 

কানে জড় পদার্থ (কটনবাড বা তুলার অংশ, ম্যাচের কাঠি, পুঁতির দানা, বল বিয়ারিং,পেনসিলের শিস, মুরগির পালক, ধান, ফলের বীজ, মুড়ি, চিঁড়া ইত্যাদি) ঢুকে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যেতে সামান্য দেরি হলেও অসুবিধা নেই।

 কিন্তু কানে মশা-মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়া বা অন্য কোনো জীব ঢুকে পড়লে  সেটিকে মেরে ফেলতে চেষ্টা করতে হবে,  না হলে কানের ভেতরে আটকা পড়া প্রাণীটির নড়াচড়ার কারণে শিশুর কানে ব্যথা ও অস্বস্তি হতে থাকবে। কানে মশা-মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়া বা অন্য কোনো জীব ঢুকে পড়লে মেরে ফেলার আগে কানে উচ্চ আলোর টর্চ লাইট ধরলে অনেক সময় জীবন্ত পোকামাকড় আলোর প্রতি সংবেদনশীল হওয়ায় বের হয়ে আসতে পারে। তাই প্রথমে টর্চ লাইটের আলোর প্রতি আকর্ষিত হয়ে পোকামাকড় বের হয়ে আসে কিনা দেখতে পারেন। জীবিত পদার্থগুলোকে জীবিত অবস্থায় বের করা উচিত নয় এতে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। কারণ এগুলো তখন আরও বেশি নড়াচড়া শুরু করে, ব্যথা আরও তীব্র হয়ে ওঠে৷

তাই কানে মশা-মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়া ঢুকে যাওয়ার সমস্যার ক্ষেত্রে প্রথমেই হাতের কাছে থাকা পাতলা তেল (সবচেয়ে ভালো অলিভ ওয়েল/ অলিভ ওয়েল না থাকলে নারিকেল তেল) ধীরে ধীরে ফোটায় ফোটায় কানের মধ্যে দিন। তেলটা যাতে সহজে ভিতরে যেতে পারে তার জন্য কানের লতি আগুপিছু করতে পারেন। তেলের জন্যই পোকাটা মরে যাবে,ফলে ব্যাথা বা অস্বস্তি কমে যাবে।বাড়িতে এর বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই।  

এরপর যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অথবা নাক-কান-গলা রোগের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

কি করবেন না

কানের ভিতরে ঢুকে যাওয়া কোন বস্তু নিজেরা বের করার চেষ্টা করলে অনেক সময় কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যায় অথবা কানের ভিতরে/বহি:কর্ণে ক্ষত হয়ে যায়।

আর নাকের মধ্যে জড় পদার্থ বা জীব-যাই আটকে যাক না কেন, সেটিকে বের করার জন্য বাড়িতে কোনো ধরনের চেষ্টা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ, আপনার খোঁচাখুঁচির ফলে নাকের ভেতর দিয়ে জিনিসটি শিশুর শ্বাসনালিতে চলে যেতে পারে, এতে শিশুর   জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। এছাড়া নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যেতে পারে অতিরিক্ত খোঁচাখুঁচির কারণে। নাকের এবং কানের ভিতরে ঢুকে যাওয়া বস্তু এবং তার অবস্থান সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়ার পর নাক-কান-গলার চিকিৎসকরা বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করে সেই বস্তুটিকে বাইরে বের করে আনেন।

শিশুরা ভয়ে কান্না বা অতিরিক্ত নড়াচড়া করলে এবং অসহযোগিতা করলে জোরপূর্বক বের করার চেষ্টা না করে, সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে হাসপাতালের ওটিতে নিয়ে বের করাই উত্তম।

চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে সতর্কতা হিসেবে শিশুকে  ঠান্ডা মাথায় বোঝান। তাকে আস্তে আস্তে শ্বাস গ্রহণ করতে বলুন। সে যেন নাক দিয়ে জোরে বাতাস ছাড়ে। শিশুর সামনে নিজে অস্থির হয়ে চেঁচামেচি কান্নাকাটি করবেন না, এতে সে ভয় পেয়ে যাবে।

ডা. মো. আব্দুল হাফিজ (শাফী) ; এফসিপিএস (ইএনটি), নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও হেড-নেক সার্জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল  হাসপাতাল।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়