ঢাকা, শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ২ ১৪২৮

মোহাম্মদ আবদুল খালিক

প্রকাশিত: ২২:৪২, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ২৩:২৯, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

শাহজাহান হাফিজের কবিতা: প্রসঙ্গ নৈসর্গিক মৌলভীবাজার

ষাটের দশক। রাজনীতির ক্ষেত্রে যেমন একটি উত্তাল সময় ছিল তেমনি বলা যায় কবিতা চর্চা, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং সৃজন ও মনন চর্চার ক্ষেত্রেও এই দশকটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিষয় ও আঙ্গিক বৈচিত্র্যে, সমাজ ও স্বদেশ নির্ভর কালজয়ী সাহিত্য সৃষ্টি ও কবিতা নির্মাণে বিপুল সংখ্যক শক্তিমান স্রষ্টার আবির্ভাব ঘটে এ সময়েই।

কবি শাহজাহান হাফিজও এই দশকেরই একজন প্রগতিশীল চিন্তা-ভাবনার অধিকারী শক্তিমান শব্দকর্মী। যার সৃষ্টিতে মানুষ ও মানবিক মূল্যবোধ, প্রেম ও নৈসর্গিক চেতনা, দেশ-কাল-সমাজ ভাবনা এবং শৈশব-কৈশোর-যৌবনের স্মৃতিকাতরতা শৈল্পিক উপস্থাপনায় প্রাধান্য পেয়েছে।

‘পোয়েমস ফ্রম বাংলাদেশ’ (১৯৮৫) গ্রন্থে আবদুস সেলিম যথার্থই লিখেছেন:

Shahjahan Hafeez (1942), the most obscure of the poets of early sixties, has, in fact, been writing and maturing very privately for last twenty years. With an ingenious magic touch he tries to make invisible matters visible. He  has deep attachment for nature and society. Hence he goes back to trees, plants, oceans, woman and to his childhood again and again. He is essentially a poet.’

গাছের কাছে, পাখির কাছে, নদী, পাহাড় এবং সাগরের সান্নিধ্যে বার বার ফিরে যাওয়া কবি শাহজাহান হাফিজের জন্ম ১৭ সেপ্টেম্বের ১৯৪২ খ্রি,। জন্মস্থান ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার নিত্যানন্দপুর গ্রামে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে কলাতিয়ার উদার উন্মুক্ত গ্রামীণ পরিবেশে। কলাতিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মাধ্যমিক এবং ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে যথাক্রমে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসেই তৎকালীন সিলেট জেলার মৌলভীবাজার মহকুমা (বর্তমানে জেলা) সদরে অবস্থিত মৌলভীবাজার কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। এরই মাধ্যমে শুরু হয় এ জনপদে তাঁর কর্মজীবনের দীর্ঘ পথ চলা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে নিয়োগ পান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত  যোগদান না করে শিক্ষকতা পেশায়ই থেকে যান। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯০, দীর্ঘ সময়ের প্রায় পুরোটাই তাঁর মৌলভীবাজারে কেটেছে। একটি কবিতায় তিনি লিখেছেন-‘পঁচিশ বছর খুব দীর্ঘ নয়, অথবা অনেক দীর্ঘ-নাগাল পাব না কোনোদিন;’  [মৌলভীবাজার খুব দূর নয়; কালি ও কলম: ফাল্গুন ১৪২১]। সিকি শতাব্দীর পদচারণায় তিনি নিবিড়ভাবে এ অঞ্চলের মাটি-মানুষ-প্রকৃতির সঙ্গে এমনভাবে মিশে গিয়েছিলেন বা আপন করে নিতে পেরেছিলেন যে, তাঁকে মৌলভীবাজার থেকে আলাদা করা বা বিচ্ছিন্ন ভাবা ছিল খুবই কষ্টকর। তাঁরই উচ্চারণে-

আমার কোনো মৌলভীবাজার নেই।

তবু এক মৌলভীবাজার

অন্তর্গত অবিশ্বাস থেকে, বিশ্বাসের ভিতর, বেড়ে উঠে প্রতিদিন!

সময় ছুঁয়ে আমি দেখি:

বেড়ে উঠে নদী, জেগে উঠে পাহাড়;

আর সুখ-দুঃখের ভিতর শতবর্ষের এই ছোট শহর, বিছিয়ে দেয় আঁচল-

যেনো আমি, অনেক দিনের আত্মীয় আপন জনের মতো,

তার খুব কাছে যেতে পারি।

[তবু এক মৌলভীবাজার: সংসারে নীল জলে সুখ নেই]

অনেকেই এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও রূপ বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হন, সপ্রশংস দৃষ্টিতে তা উপভোগ করেন এবং কখনো কখনো সুন্দর সুন্দর শব্দ চয়নে তার বর্ণনাও তুলে ধরেন। আমরা এখানকার অধিবাসীরা প্রাণিত হই, গর্বে ও গৌরবে, আত্মতৃপ্তিতে মন-প্রাণ নেচে উঠে। একইভাবে কবি শাহজাহান হাফিজকেও এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশ আলোড়িত করে, আবেগাপ্লুত করে। তাই তিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে জানাতে চান-

অজশ্র পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। উঠে বসি বিছানায়। শুই।

মগ্নতায় জাগে ভোর। সূর্য উঠে অগ্নিময়। প্রসন্ন প্রভায়।

জানালায় হাত রাখি। কবুতর উঠে ডাকি। আর ডাকে বিবর্ণ চড়–ই।

বাইরে তাকাই। দেখি। দিগন্ত উধাও পথ। একা ঘুম যায়।

[মৌলভীবাজারে ভোর: স্বপ্নে তুমি জাগরণে তুমি]

একটা সময় ছিল যখন মৌলভীবাজারের সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা, সাংগঠনিক তৎপরতা ও পৃষ্ঠপোষকতা ইত্যাদি শাহজাহান হাফিজকে বাদ দিয়ে চিন্তা করা ছিল অনেকটা কষ্ট কল্পনা। সৃজন ও মননধর্মী প্রত্যেকটি আয়োজনে, বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানাদিতে ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। সৃজনধর্মী, প্রগতিশীল ধ্যান ধারণা ও গঠনমূলক চিন্তা-ভাবনায় উজ্জ্বীবিত করে নতুন প্রজন্ম তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এতে তাঁর সাফল্যও একেবারে কম ছিল না।

শাহজাহান হাফিজের লেখালেখি শুরু স্কুল জীবন থেকেই। ষাটের দশকের সূচনাতে কলেজে পড়ার সময় তাঁর লেখা কবিতা-ছড়া বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে। ঢাকা কলেজ বার্ষিকীতে ‘কালের আঘাতে’ নামে কবিতা প্রকাশিত হলে অনেকেই প্রশংসা করেন। কবিতা চর্চায় নিবেদিত প্রাণ কবি শাহজাহান হাফিজ আজো শব্দ-ভিক্ষার কঠিন ব্রত নিয়ে সুচারু ও সঠিক শব্দের অন্বেষণে নিরলস। তাঁর ভাষায়-

মেঘেদের বিমর্ষমুখ স্মরণ করে কিংবা রোদের গাঢ় চাদর ছিন্ন ভিন্ন করে;

পথ থেকে পথে, পঞ্চাশ বছর প্রায়, আমি শব্দ ভিক্ষে করে বেড়িয়েছি;

সোনার মোহরের মতো শব্দ, জলপ্রপাতের মতো শব্দ,

সুন্দরীর গাঢ় সংসর্গে যে ফসল ফলে ওঠে তার মতোশব্দ।

[ভিখিরি: কালি ও কলম-মাঘ ১৪২২]

শিল্পের তাড়না তাঁকে ভীষণ অসুখী করলেও তিনি নিজেকে যেন পুরোপুরি সমর্পণ করেছেন ‘জীবনের এক সুগভীর অনুরাগে’ বিশুদ্ধ প্রক্রিয়ার শব্দ-চর্চা বা কবিতার আরাধনার কাছে-

আমি শুধু জানি, জীবনের এক সুগভীর অনুরাগ-

আমাকে আজীবন আকুল করেছে; আমাকে অন্ধ করেছে।

আর শিল্পের তাড়না আমাকে, অসুখী করেছে, ভীষণ অসুখী।

তাইতো এতো দুঃখেও আমি কবিতাকে ভালোবেসেছি।

[আমার আমি: বিষন্ন দিনের ভেলা]

 

একটু মনোযোগী হলে আমরা লক্ষ্য করবো শাহজাহান হাফিজের কবিতায় মৌলভীবাজার এবং নৈশর্গিক দৃশ্যপটময়  প্রকৃতি  কখনো কখনো এক অভিন্ন সত্ত্বা নিয়ে হাজির হয়। মনে হয় এখানেই তিনি প্রকৃতির ঘনিষ্ট সান্নিধ্যে এসেছেন এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সুখ, সৌন্দর্যবোধের আদি ও অকৃত্রিম পাঠ গ্রহণ করেছেন গভীর মনোযোগের সাথে-

পথ খুঁজে পাইনে তোমার খুব কাছে যাবার-

হে আমার প্রিয়তম সবুজ শহর,

বনভূমির বিষন্ন শহর, মৌলভীবাজার।

.. .. ..          .. ..           .. ..

আমি তার স্বপ্নের পথে হেটেছি অনেক দিন।

[তবু এক মৌলভীবাজার: সংসারের নীল জলে সুখ নেই]

 

কিংবা

সুখের সন্ধানে আমি শ্রীমঙ্গল গিয়েছিলাম।

ধুলোভরা ছোট্ট এই শহরটির

বহুদূর বিস্তৃত সবুজ-ভূমিতে-

.. .. ..           .. .. ..

ছুটে বেড়িয়েছি অনেক পথ!

ভুল করে ভাড়াউড়া বাগানে গিয়েছি,

ভাড়াউড়া থেকে বিটিআরআই হয়ে

বালিশিরা বাগানে গিয়েছি।

.. .. ..            .. .. ..

সুখ কি সবুজের সমুদ্র ছুঁয়ে আছে?

সবুজের সন্ধানে আমি গিয়েছি অনেক দূর-

অনেক অরণ্য পেরিয়েছি;

.. .. ..             .. .. ..

ফুলছড়া থেকে ফুলের শোভা দেখতে দেখতে,

বৃক্ষের শোভা দেখতে দেখতে

উঁচু-নীচু ধুলোর পথ পেরিয়ে, সেই রাজঘাট গিয়েছি।

রাজঘাটের সত্যি কি রাজকীয় মহিমা!

সেখানে বাগানের কি বিশাল বিস্তার;

যেদিকে চোখ যায়, শুধু সবুজের

থৈ থৈ অথৈ সমুদ্র!

[সুখের সন্ধানে: সাগরের নীল জলে সুখ নেই ]

এ দীর্ঘ উদ্ধৃতির মাধ্যমে আমরা নৈসর্গিক মৌলভীবাজারের কিছু চিত্র, কিছু শব্দ-বুননজাত দৃশ্যাবলীর সঙ্গে পরিচিত হলাম যা সাদামাটা চোখে আমরা প্রায়শই দেখি বা প্রত্যক্ষ করি। কিন্তু শাহজাহান হাফিজ তাঁর কবিতায় স্থান, কাল, ব্যক্তি ও প্রকৃতিকে সমন্বিত করে এক অন্য রকম আবহ তৈরি করার প্রচেষ্ঠা চালিয়েছেন যেনো। তাঁর সুনির্বাচিত শব্দের সুনিপূণ প্রয়োগে নির্মিত এক একটি দৃশ্যপট আমাদের কাছে হৃদ্যতাপূর্ণ, সুন্দর, মানবিক ও আবেগঘন রূপে ধরা দেয়। এখানে তাঁর কবিতা থেকে আরো একটি দীর্ঘ উদ্ধৃতি তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারছি না-

অথচ এমন ছিল একদিন, অরণ্যকে ভালোবেসে অরণ্যের কাছে গেছি;

বলেছি, তোমাকে ভালোবাসি!

অথচ এমন ছিল একদিন, একা একা, উদাসী পাহাড় বেয়ে, গেছি বহুদূর;

বলেছি, তোমাকে ভালোবাসি!

এ সবই স্বপ্ন আজ! স্বপ্নের ভিতর আজো টের পাই: ঝরে জল, ঝরে জল-

ঝরে শুধু ঝর্ণার তীব্র জলরাশি!

মাধবকুন্ডের কথা মনে পড়ে? মনে পড়ে মনুর উপরে ব্রিজ-ওই পারে,

নজমুলদের তোরণ- শোভিত সেই বাড়ি?

‘নজমুল তোমার চোখে এখনো কি খুব জল? এখনো কি অশ্রু ঝরে

বিদায় বেলায়!’

মুজিব কি নিশিতে আজো বাড়ি যাও? এখনো কি রাত জেগে, আরক্ত নয়নে,

জীবনের হিসাব মিলাও?

.. .. ..                 .. .. ..

অথচ এমন ছিলো একদিন, মানুষকে ভালোবেসে মানুষের কাছে গেছি;

বলেছি, তোমাকে ভালোবাসি।

অথচ এমন ছিলো একদিন, মৃত্তিকাকে ভালোবেসে মৃত্তিকার কাছে গেছি;

বলেছি, তোমাকে ভালোবাসি।

.. .. ..                 .. .. ..

কোনোদিন জানবো না, মুহিব কেমন আছো; কাটাও কেমন করে গল্পের প্রহর!

তোমাদের চিরচেনা পৃথিবীতে, একটি মানুষ ছিলো একদিন- মনে পড়ে?

মনে পড়ে আজো?

[মৌলভীবাজার খুব দূরে নয়: কালি ও কলম-ফাল্গুন ১৪২১]

যে স্থানগুলোর নাম এসেছে তা খুব একটা বদলায়নি আজো। চরিত্রগুলোর মধ্যে নজমুল অসময়েই ইতিহাসের অংশ। সে কবিতার জিজ্ঞাসার জবাবের অনেক উর্ধে আজ। নজমুলের চোখে আর জল দেখা যাবে না, বিদায় বেলা তার আর অশ্রু ঝরানোর সুযোগ নেই, কারণ সে-ইতো অনেকের চোখের জল ঝরিয়ে বিদায় নিয়েছে না ফেরার দেশে, বেশ আগে।

কবি শাহজাহান হাফিজের নিসর্গ ভাবনা বিষয়ক কবিতার মূলে হয়তো প্রেরণা যুগিয়েছে মৌলভীবাজারের ভূ-প্রকৃতি, তার সৌন্দর্য এবং পারিপার্শিক নানা অনুষঙ্গাদি। তাঁর পঁচিশ বছরের সৃষ্টির আবাসভূমিইতো ছিলো এই মৌলভীবাজার। কবিতার কিছু কিছু চিত্রকল্প বিবেচনায় আনলে এব্যাপারে  হয়তো একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে-

আমি জানালায় দাঁড়িয়ে, সুনীল আকাশের দিকে,

মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। আমার চারিদিকে-

মাটির মায়াবী পাহাড়, সবুজ সুনিবিড় বন, বুনোফুল

অজস্র চড়ুই, শালিক আর কপোতের কোলাহল-

সবই যেনো ছবির মিছিলের মতো ভীড় করে এলো।

[ভোর বেলা: বিষণ্ণ দিনের ভেলা]

সংসারের হিংস্রতা, অমানবিকতাও কখনো কখনো কবিকে আক্রান্ত করেছে দারুণভাবে। তাঁর উচ্চারণে-

সংসার সাপের মতো ভয়ানক ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছে।

মানুষের মনে মমতা নেই; পাপবিদ্ধ পশুর মতো তারা-

হিংসার ছুরি দিয়ে কেটে কেটে ছিন্ন-ভিন্ন করছে,

মানব-লালিত সুন্দর সব স্বপ্নকে।

[প্রার্থনা: বিষন্ন দিনের ভেলা]

আর এ রকম অবস্থায় তাঁর আশ্রয়ের, নিজেকে সমর্পণের জায়গা হয়ে দাঁড়ায় প্রকৃতি। তাই বৃক্ষের অন্তরঙ্গতায় কৃতজ্ঞচিত্তে তিনি উচ্চারণ করেন-

গাছ তুমি, মানুষ হওনি বলে, চিরদিন, বড় বেশী কৃতজ্ঞ আমি।

সমগ্র সংসার জুড়ে যখোন ভাঙছে শুধু মানবিক সম্পর্কের সুন্দর বাগান

যখোন ভাইয়ের চোখে জ¦লে উঠে হিংসার আগুন। চিৎকার জেগে ওঠে;

‘যাও, যাও, যদি বাঁচতে চাও, তবে এখনি পালাও।’

যখোন সমস্ত মানুষ-জন সমাজ-সংসার, নিমেষে সুদূর হয়-

তখোন তোমার কাছে ফিরে আসি। তুমি বড় অন্তরঙ্গ গাছ।

তোমার মমতা আছে, স্নেহ আছে। সেই স্নেহ দিয়ে তুমি বুকে তুলে নাও।

[গাছ তুমি: সংসারের নীল জলে সুখ নেই]

শাহজাহান হাফিজের এ পর্যন্ত প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ:

১.       স্বপ্নে তুমি জাগরণে তুমি (১৯৯০)

২.      ভালোবেসে বিজনে কেঁদেছি (১৯৯৪)

৩.      বাংলা আমার জননী আমার (১৯৯৬)

৪.       হৃদয়ের নিভৃত গোলাপ (২০০০)

৫.      সংসারের নীল জলে সুখ নেই (২০০৭)

৬.      বিষণ্ণ দিনের ভেলা (২০০৭)

৭.       জোনাকীর আলো জ্বলে (২০০৭)

৮.      ভালোবাসার ভুবনে বৃষ্টিপাত (২০০৭)

এ আলোচনার মাধ্যমে আমরা লক্ষ্য করব কবি শাহজাহান হাফিজের কাব্যভূমে মৌলভীবাজার ও তার নৈসর্গিক রূপ-মাধুর্য এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে।

মোহাম্মদ আবদুল খালিক, সাবেক অধ্যক্ষ, মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজ।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়