Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০৪ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ১৯ ১৪৩২

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫৭, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পিৎজা মেকার থেকে বিশ্বমঞ্চে, ইতালির রূপকথার অভিষেকে বিষাদের ছায়া

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কারও পেশা পিৎজা বানানো, কেউ জীবিকার তাগিদে উবার চালান, কেউ কারখানার শ্রমিক, কেউবা ডেলিভারি বয়। অথচ ক্রিকেট নামের এক জাদুকরী সুতোয় গাঁথা হয়ে তারাই দাঁড়িয়ে গেছেন বিশ্বমঞ্চে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করা ইতালির গল্প এমনই বৈচিত্র্য আর বিস্ময়ে ভরা। তবে সেই বিস্ময়জাগানিয়া যাত্রার শুরুটাই রঙিন না হয়ে রূপ নিয়েছে বিষাদের ছায়ায়।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ৭৩ রানের বড় ব্যবধানে হারলেও ইতালির জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেনের ইনজুরিতে। ফিল্ডিংয়ের সময় চতুর্থ ওভারে জর্জ মানসির একটি শট বাঁচাতে গিয়ে বাঁ দিকে ডাইভ দিয়েছিলেন ৪২ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। কিন্তু ইডেন গার্ডেন্সের প্র্যাকটিস পিচে বেকায়দায় পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেননি তিনি। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে ডান হাতে বাম কাঁধ চেপে ধরে মাঠ ছাড়েন ম্যাডসেন। ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ নিশ্চিত করেছেন, তার কাঁধের হাড় সরে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপেই আর ফেরা হচ্ছে না ইতালির এই অধিনায়কের।

ইতালি বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফুটবল, পিৎজা কিংবা প্রাচীন রোমান স্থাপত্য। ক্রিকেট সেখানে এখনো নতুন অধ্যায়। ১৫ সদস্যের ইতালি স্কোয়াড যেন এক ‘মিনি ওয়ার্ল্ড’। বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড়েরই জন্ম ইতালিতে নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার শিকড় মিলেমিশে গড়ে উঠেছে আজ্জুরিদের এই দল। কেউ বংশপরম্পরায়, কেউবা স্ত্রীর নাগরিকত্বের সুবাদে গায়ে জড়িয়েছেন ইতালির জার্সি।

দলের অলরাউন্ডার জেজে স্মাটস তারই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এই ক্রিকেটার আদতে কখনো ইতালিতে পা রাখেনইনি। ইতালিয়ান স্ত্রীর সূত্রে নাগরিকত্ব পেয়ে খেলছেন বিশ্বকাপে। ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া ব্যাটার জাসপ্রীত সিংয়ের বেড়ে ওঠা ইতালিতে। ক্রিকেট তার নেশা হলেও জীবিকার জন্য তাকে ধরতে হয় উবার চালকের স্টিয়ারিং। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জাইন আলির গল্পটাও প্রায় একই রকম।

শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত লেগ স্পিনার ক্রিশান কালুগামাগে ১৫ বছর বয়সে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পিৎজা মেকার। ওভেনের তাপে রুটি বানানোর ফাঁকে ফাঁকেই চালিয়ে গেছেন ক্রিকেট অনুশীলন। কারখানার শ্রমিক হিসেবেও আছেন দলের কয়েকজন, যারা কেবল বিশ্বকাপে খেলার জন্য লম্বা ছুটি নিয়ে ভারতে এসেছেন।

তবে এই অপেশাদার ক্রিকেটারদের মাঝেই রয়েছে পেশাদার অভিজ্ঞতার ছোঁয়া। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের নিয়মিত খেলোয়াড় ওয়েন ম্যাডসেন কিংবা অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত মুখ মানেন্তি ভাই হ্যারি ও বেন এই দলের মূল ভরসা। দাদার ইতালিয়ান পাসপোর্টই তাদের এনে দিয়েছে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ।

পিৎজা ভ্যান কিংবা উবারের সিট ছেড়ে হাজার হাজার দর্শকের সামনে ইডেন গার্ডেন্সে মাঠে নামা ইতালিয়ান ক্রিকেটারদের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা। কিন্তু স্কটল্যান্ডের অভিজ্ঞ দল সেই স্বপ্নে বাস্তবতার কড়া ছাপ বসিয়ে দেয়। রিচি বেরিংটনের দলের কাছে বড় ব্যবধানে হার দিয়ে মলিন হয়ে যায় নবাগত ইতালির বিশ্বকাপ অভিষেক।

রূপকথার শুরুটা তাই রয়ে গেল বিষাদের ছায়ায় ঢাকা তবে এই গল্প এখানেই শেষ নয়।

ইএন/এসএইচএ

আরও পড়ুন
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়