ঢাকা, শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৬ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ১ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ২০:০০, ১ আগস্ট ২০২১

অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় মৌলভীবাজারের ১৩ হাজার মানুষ

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের করোনা টিকার অপেক্ষায় রয়েছেন মৌলভীবাজারের প্রায় ১৩ হাজার মানুষ। তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও টিকা দিতে না পারায় উদ্বিগ্ন টিকা গ্রহীতারা। তবে তিন মাসের বেশি সময় পর দ্বিতীয় ডোজের টিকা দিলেও কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। 

মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলায় কোভিশিল্ড টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ৬৭ হাজার ৫৬৭ জন। অপরদিকে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন। অর্থাৎ ১২ হাজার ৭৫৫ জন এখনো দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রয়েছেন। 

এদিকে কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় জাপান থেকে ইতোমধ্যে দেশে এসেছে ১০ লাখের বেশি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। যার মাধ্যমে আগামীকাল সোমবার (২ আগস্ট) থেকে ঢাকা ও ৭ আগস্ট থেকে দেশের সকল জেলায় থেকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হবে। 

এছাড়া গত ১২ জুলাই থেকে মৌলভীবাজার জেলায় শুরু হয়েছে চীনের সিনোফার্মের টিকাদান কর্মসূচি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ জন। এরমধ্যে ২ হাজার ৮৩০ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৫১২ জন নারী। 

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ৮টি বুথে ১৬ জন টিকা দানকারী ও ৩২ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। অন্য ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দুটি করে বুথে টিকাদান করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার, নার্স, মিডওয়াইফ এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাগণ রয়েছেন। 

টিকার দ্বিতীয় ডোজ দিতে কতদিন পর্যন্ত দেরি করা সম্ভব? 

করোনার যতগুলো ভ্যাকসিন এখনও পর্যন্ত বেরিয়েছে, তার প্রায় সবই দুই ডোজের ভ্যাকসিন। প্রথম ডোজটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করে এবং দ্বিতীয় ডোজ তা আরও শক্তিশালী করে এবং মেমোরি-বি কোষ তৈরি করে। এই মেমোরি-বি কোষ শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির কথা মনে রাখে। 

আমাদের দেশে প্রথমে বলা হয়েছিল এক মাসের ব্যবধানে নিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ টিকা। পরে আট সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডোজ টিকার ব্যবস্থা হয়। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সৌমিয়া সোয়ামিনাথান বলেছেন, 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হচ্ছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ১২ সপ্তাহ (তিনমাস) পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধির উদাহরণ রয়েছে। এর ফলে আরও বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় বলে বলা হচ্ছে।' 

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের টিকার ক্ষেত্রে দুইটি ডোজ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে যদি কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ দেরিও হয়, তারপরেও দ্বিতীয় ডোজ নেয়া দরকার। কারণ প্রথম ডোজে আসলে নতুন অ্যান্টিজেন শরীরের ভেতর প্রবেশ করে, দ্বিতীয় ডোজের মাধ্যমে সেটার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়া হয়।

বিশ্বের অনেক দেশেই প্রথম টিকা নেয়ার পরবর্তী ১২ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যতম মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেছেন, 'অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রথম ডোজের পর ১২ সপ্তাহ, এমনকি তার পরেও দ্বিতীয় ডোজ নেয়া যেতে পারে। ফলে দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে ভয়ের কোন কারণ নেই।' 

আইনিউজ/এসডিপি 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়