নূরুর রহিম নোমান, যুক্তরাজ্য
মনু প্রকল্প: বাঁধে বন্দী নদী-হাওর
বন্যার আতঙ্ক, নদী ব্যবস্থাপনার সংকট ও টেকসই সমাধানের সন্ধান
ছবি: আই নিউজ
চতুর্থ পর্বে আমরা দেখেছি, কীভাবে মনু নদী সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা বাঁধ, মনু ব্যারেজ, কাশিমপুর পাম্প হাউস, বিস্তৃত সেচ খাল এবং বিভিন্ন প্রকৌশল কাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ জলব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সম্প্রসারণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
কিন্তু একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মূল্যায়ন শুধু নির্মিত অবকাঠামোর আকার, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা প্রকৌশলগত সাফল্য দিয়ে সম্পূর্ণ হয় না। সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, প্রকৃতির ওপর প্রকৌশলগত হস্তক্ষেপের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি পরিবহন, প্লাবনভূমির সঙ্গে নদীর সম্পর্ক, হাওর ও জলাভূমির জলচক্র এবং পুরো নদীকেন্দ্রিক বাস্তুতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের গুণগত পরিবর্তন ঘটেছে?
চতুর্থ পর্বের শেষে আমরা কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলাম—
কেন এত বড় অবকাঠামো নির্মাণের পরও প্রতি বর্ষায় কোথাও না কোথাও বাঁধ ভেঙে যায়?
কেন নদীর তলদেশের কিছু অংশে দীর্ঘমেয়াদি পলি সঞ্চয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে?
কেন নদীপাড়ের মানুষ আজও বর্ষা মৌসুমে বন্যার আতঙ্কে থাকেন?
কেন কাওয়াদিঘি হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা আমন ও বোরো ফসল চাষাবাদ এবং ঘরে তোলা পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হলে শুধু বাঁধ, ব্যারেজ কিংবা পাম্প হাউসের দিকে তাকালে চলবে না। দেখতে হবে নদীকে একটি জীবন্ত ও পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হিসেবে।
কারণ নদী কেবল পানি বহন করে না। সে বহন করে বিপুল পরিমাণ পলি; কোথাও পলি জমিয়ে নতুন ভূমি গড়ে তোলে, আবার কোথাও পুরোনো তীর ভেঙে নতুন প্রবাহপথ তৈরি করে। নদীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্লাবনভূমি, হাওর, বিল, জলাভূমি, মাছ, উদ্ভিদ এবং মানুষের জীবন-জীবিকা। এই সবকিছু মিলিয়েই গড়ে ওঠে একটি পূর্ণাঙ্গ নদী-বাস্তুতন্ত্র।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (SUST), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গবেষকের কাজেও মনু নদী ও কাওয়াদিঘি হাওরের পরিবর্তিত ভূ-আকৃতি, তীরভাঙন, পলি সঞ্চয় এবং জলপ্রবাহের নানা দিক উঠে এসেছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণও এই পরিবর্তনের অনেক বাস্তব দিক সামনে আনে।
এই পর্বে আমরা সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশগত ভিত্তি বোঝার চেষ্টা করব। তবে নদীর বাঁক, গতিপথের স্থানান্তর বা মিয়ান্ডার পরিবর্তনের বিস্তারিত বিশ্লেষণে আমরা এখনই যাব না; সেসব নিয়ে পরবর্তী পর্বে গবেষণাভিত্তিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে।
১. প্লাবনভূমির সংকোচন ও পলি জমা: নদীর তলদেশ ভরাটের বিজ্ঞান
মনু একটি পাহাড়ি উৎস থেকে নেমে আসা সর্পিল বা Meandering নদী। বর্ষাকালে ত্রিপুরার পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের সঙ্গে এটি বিপুল পরিমাণ পানি, বালু ও পলি বহন করে নিয়ে আসে। দীর্ঘকাল ধরে এই পলি পরিবহন নদীর স্বাভাবিক জীবনচক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্বাভাবিক অবস্থায় বর্ষার সময় নদী তার তীর ছাপিয়ে বিস্তৃত প্লাবনভূমিতে পানি ছড়িয়ে দিত। সেই পানির সঙ্গে বহন করে আনা পলি আশপাশের কৃষিজমিতে জমা হতো। এতে একদিকে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পেত, অন্যদিকে নদীর মূল প্রবাহপথের ওপর পলি সঞ্চয়ের চাপও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ত।
কিন্তু প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। নদীকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলায় বর্ষার পানি আর আগের মতো বিস্তৃত প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। ফলে যে পলি আগে বিস্তীর্ণ সমভূমিতে ছড়িয়ে পড়ত, তার একটি বড় অংশ নদীর তলদেশে জমা হতে থাকে এবং কিছু অংশ নদীসংলগ্ন এলাকায় সঞ্চিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদে এই পলি সঞ্চয়ের ফলে নদীর কিছু অংশে তলদেশ উঁচু হওয়া, কার্যকর গভীরতা কমে যাওয়া এবং নাব্যতা হ্রাসের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে ভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে—
প্লাবনভূমিতে পলি বিস্তারের সুযোগ কমে যায়;
নদীর কিছু অংশে তলদেশে পলি সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়ে;
কার্যকর নদী-গভীরতা ও নাব্যতা কমে যায়;
বর্ষায় পানি ধারণ ও দ্রুত নিষ্কাশনের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে;
শুষ্ক মৌসুমে কোনো কোনো অংশে প্রবাহ খুবই ক্ষীণ হয়ে পড়ে।
হাইড্রোমরফোলজিক্যাল (Hydromorphological) দৃষ্টিকোণ থেকে নদীর এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নদীর পানি ও পলি আলাদা দুটি বিষয় নয়; তারা একই নদী-ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
একটি পলি-বহনকারী নদীকে দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত প্রবাহপথের মধ্যে আবদ্ধ রাখলে নদী তার স্বাভাবিক ভারসাম্য পুনর্গঠনের চেষ্টা করে। কোথাও পলি জমে, কোথাও তীর ক্ষয় বাড়ে, কোথাও প্রবাহের গতি ও দিক পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ নদীর একটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করা হলেও নদীর সামগ্রিক ভূ-আকৃতিগত পরিবর্তন থেমে যায় না।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও মনু নদীর বিভিন্ন অংশে তীর ক্ষয়, পলি সঞ্চয় এবং নদীর ভূ-আকৃতিগত পরিবর্তনের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এই পরিবর্তনের সবগুলো কারণ একক নয়; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা বোঝার ক্ষেত্রে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সূত্র।
২. পলি সংকটের সঙ্গে যুক্ত মানবসৃষ্ট চাপ
মনু নদীর বর্তমান অবস্থার জন্য শুধু প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে দায়ী করলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা মানবসৃষ্ট চাপও।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও নদী-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুযায়ী, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কোনো কোনো স্থানে তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। কোথাও স্রোতের দিক পরিবর্তিত হয়েছে, আবার কিছু অংশে তীর ক্ষয়ের প্রবণতাও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
অন্যদিকে নদীর পলি ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ড্রেজিং দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়েছে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
২০১১ সালের একটি মাঠ জরিপে মনু নদীর প্রবাহের পরিমাণ প্রায় ২০ কিউমেক (ঘনমিটার/সেকেন্ড) পরিমাপের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে নদীর একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রবাহমাত্রাকে পুরো নদীর দীর্ঘমেয়াদি চরিত্রের একমাত্র সূচক হিসেবে দেখা যায় না। মৌসুমি প্রবাহ, উজানের বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল, পলি পরিবহন, নদীর ক্রস-সেকশন এবং ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, সবকিছুকেই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।
অর্থাৎ মনুর বর্তমান অবস্থাকে কোনো একক কারণে ব্যাখ্যা করা যায় না।
একদিকে পাহাড়ি উৎস থেকে প্রতি বছর পলি এসে নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করছে; অন্যদিকে নদী দীর্ঘদিন ধরে একটি সীমিত প্রবাহপথের মধ্যে আবদ্ধ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, নদী রক্ষণাবেক্ষণের সীমাবদ্ধতা, জলপথ ও প্লাবনভূমির পরিবর্তিত ব্যবহার এবং পরিবর্তিত জলবায়ুগত পরিস্থিতি।
ফলে নদী তার স্বাভাবিক ভূ-আকৃতিগত ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সেই পরিবর্তনের প্রকাশ কোথাও তীর ক্ষয়ে, কোথাও পলি সঞ্চয়ে, আবার কোথাও আকস্মিক পানি বৃদ্ধি বা প্রবাহপথের পরিবর্তনের মাধ্যমে দেখা দিতে পারে।
এই কারণেই মনুকে শুধু একটি সেচ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নয়, একটি জীবন্ত ও পরিবর্তনশীল নদী-ব্যবস্থা হিসেবে বোঝা জরুরি।
৩. বর্তমান বাস্তবতায় নতুন সমস্যার সৃষ্টি: কাওয়াদিঘি হাওর এলাকার জলাবদ্ধতা
প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কাওয়াদিঘি হাওর এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা। বর্ষায় হাওরে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল এই কাঠামোর মূল লক্ষ্য। এ কাজে কাশিমপুর পাম্প হাউস একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওরের পানি নিষ্কাশনে অস্বাভাবিক বিলম্ব দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য চরম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা আর্থিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
মনু প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে কাওয়াদিঘি হাওরের সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা একটি নতুন প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।
মাঠপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় জানা যাচ্ছে, পানি নিষ্কাশনে দীর্ঘসূত্রিতা এখন কৃষির স্বাভাবিক সময়সূচির ওপরও প্রভাব ফেলছে। চলতি মৌসুমের ধান কাটতে কোথাও বিলম্ব হচ্ছে, কোথাও কাটা ধান পানিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী আমন মৌসুমের জন্য জমি প্রস্তুত করাও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই বাস্তবতার সঙ্গে কাশিমপুর পাম্প হাউসের কার্যক্ষমতার প্রশ্নটিও নতুন করে সামনে এসেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর কাছে হাওরে জমে থাকা পানি থেকে তিন ফুট পানি নিষ্কাশনে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, নতুন করে আর বৃষ্টি না হলেও তা নিষ্কাশনে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ দিন সময় লাগতে পারে।
তবে হাওর রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এম. খসরু চৌধুরী (M Khoshru Chowdhury) এবং এ অঞ্চলের কয়েকজন কৃষক এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাঁদের দাবি, পানি নিষ্কাশনে এত দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়।
এটি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দেওয়া সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্য। পাম্প হাউসের প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারণের জন্য প্রকৌশলগত তথ্য, পাম্পের বাস্তব ডিসচার্জ, নদীর পানিস্তর, নিষ্কাশনপথের অবস্থা এবং হাওরের ধারণক্ষমতা, সবকিছু যাচাই করা প্রয়োজন।
তবু এই বক্তব্যটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে—
কৃষির সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানি নিষ্কাশন যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কয়েক দশক আগে পরিকল্পিত এই জলব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে কতটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে?
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। পানি নিষ্কাশন, হাওরে পানি ধরে রাখা এবং কৃষি ও মৎস্য ব্যবস্থাপনার অগ্রাধিকার নিয়ে তাঁদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে মানববন্ধন, প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো এবং প্রতিকার চাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
তবে এই পর্বে আমরা এসব অভিযোগের বিস্তারিত বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। কারণ পানি নিষ্কাশনের প্রকৃত সমস্যা, কাশিমপুর পাম্প হাউসের সক্ষমতা, হাওরে পানি ধরে রাখার সিদ্ধান্ত, কৃষি ও মৎস্যচাষের স্বার্থের সংঘাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, এসব নিয়ে আরও মাঠতথ্য, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করে পরবর্তী পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
এই সময়ে শুধু এটুকু বলা যায়, কাওয়াদিঘি হাওরের জলাবদ্ধতা ও জলজট এখন আর কেবল একটি মৌসুমি দুর্ভোগের বিষয় নয়; এটি কৃষির সময়সূচি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্পের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত।
একটি নদী, একটি হাওর এবং পরিবর্তিত বাস্তবতা:
মনু প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন তাই কেবল একটি নদীর তলদেশে পলি জমার গল্প নয়।
এটি নদী ও প্লাবনভূমির স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার গল্প।
এটি নদীর স্বাভাবিক গতিশীলতা সীমিত হওয়ার গল্প।
এটি হাওরের জলচক্র পরিবর্তনের গল্প।
এটি কৃষির মৌসুমি সময়সূচির সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনার সংঘাতের গল্প।
এবং একই সঙ্গে এটি একটি পুরোনো প্রকল্পের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের গল্প।
এই পঞ্চম পর্বের পরবর্তী ভাগে আমরা আরও গভীরভাবে দেখব নদী ও হাওরের সেই সম্পর্কের দিক, যে সম্পর্ক শুধু পানি প্রবাহের নয়, বরং মাছ, জলজ উদ্ভিদ, পশুপালন, কৃষি এবং মানুষের বহু প্রজন্মের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত।
সেখানে উঠে আসবে বাথান প্রথা, কৃষিজমির আইলে মাছ ধরার লোকায়ত সংস্কৃতি, ‘বাইরকা’সহ হারিয়ে যেতে বসা জলভিত্তিক ঐতিহ্যের কথা।
কারণ হাওর-নদীর পরিবর্তন শুধু তার মানচিত্রে দেখা যায় না; মানুষের জীবন, জীবিকা ও স্মৃতির ক্যানভাসেও তার গভীর ছাপ থেকে যায়।
(চলবে), ধারাবাহিক ফিচার: পঞ্চম পর্ব (প্রথম ভাগ)
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার























