শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলে ‘মৃত মুরগি’ বিক্রির অভিযোগ, মালিকের সংবাদ সম্মেলন
ছবি: আই নিউজ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজার এলাকার ‘ফ্যামিলি বাজার’ প্রতিষ্ঠানে মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মাসুমুর রশিদ মাসুম। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাসুমুর রশিদ মাসুম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৩ আগস্ট বিকেলে মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের স্টাফের মাধ্যমে মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগে ফ্যামিলি বাজারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে অভিযোগকারী কথিত সাংবাদিক রোমানা আক্তার শিপাসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার বক্তব্য না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একতরফাভাবে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ তথ্য প্রচার করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাসুমুর রশিদ মাসুম বলেন, তিনি শ্রীমঙ্গল শহরের একজন ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিশ্বস্ততা ও সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার দাবি, ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যবসার সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। ১৩ আগস্টের ঘটনাটিও সেই অপতৎপরতার অংশ বলে তিনি মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গত ২১ জুন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে কোনো বিষয় উল্লেখ না করে একটি নোটিশ দিয়ে তাদের কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি সেখানে গেলে কর্মকর্তারা রোমানা আক্তার শিপা নামে এক নারীর ধারণ করা একটি ভিডিও দেখান।
তার দাবি, ভিডিওতে ওই নারী তাদের প্রতিষ্ঠানে এসে স্টাফদের কাছে মৃত মুরগি আছে কি না জানতে চান এবং ১২০ টাকায় তিনটি মৃত মুরগি কেনার প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাদের জানানো হয়, অতিরিক্ত গরম বা বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিক্রির জন্য রাখা মুরগির মধ্যে কখনো কখনো একটি-দুটি মারা যেতে পারে। এসব মৃত মুরগি তারা আলাদা স্থানে রাখেন।
মাসুমের দাবি, কিছু ক্রেতা গৃহপালিত কুকুরের খাবার হিসেবে এসব মৃত মুরগি স্বল্প মূল্যে নিয়ে যান। এছাড়া চিড়িয়াখানার পশুদের খাবার হিসেবেও মৃত মুরগির চাহিদা রয়েছে। তবে এসব মৃত মুরগি বিক্রির টাকা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নেয় না, স্টাফরাই তা গ্রহণ করেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা শোনার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে পুনরায় ১৩ আগস্ট কার্যালয়ে হাজির হতে বলেন। সেদিন হাজির হলে ভিডিওর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের অবহেলার জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে স্টাফদের মাধ্যমে মৃত মুরগি বিক্রির সুযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মাসুমুর রশিদ মাসুম অভিযোগ করেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোমানা আক্তার শিপা তার ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি ফ্যামিলি বাজারে মৃত মুরগি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রচার করেন। পরে আরও কয়েকজন একই ধরনের তথ্য প্রচার করায় তার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রায় ছয় মাস আগের আরেকটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সন্ধ্যার দিকে প্রায় ২০ কেজি কাটা গরুর মাংস প্লাস্টিকের বস্তায় করে তাদের প্রতিষ্ঠানে বিক্রির প্রস্তাব দেন। তারা ওই মাংস কিনতে অস্বীকৃতি জানালে এ সময় শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দোকানে উপস্থিত হন। পরে মাংসটি দুর্গন্ধযুক্ত ও খাবারের অনুপযোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তবে মাংস বিক্রি করতে আসা ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যান।
মাসুম বলেন, ওই ঘটনায় দোকানে মাংস রাখার দায়ে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মাংস জব্দ করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও বিভিন্নভাবে খোঁজ করেও ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার ধারণা, কোনো ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী বা বিরোধী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে। ১৩ আগস্টের ঘটনাটিও একই ধরনের অপতৎপরতার অংশ হতে পারে বলে দাবি করে তিনি বলেন, কেউ যদি অবৈধভাবে মৃত মুরগির ব্যবসা করত, তাহলে তা গোপনে করার কথা। প্রকাশ্যে এসে মৃত মুরগি আছে কি না জানতে চাওয়া এবং কেনার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি তার কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়েছে।
রোমানা আক্তার শিপার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মাসুম বলেন, এর আগে ওই নারী তার দোকান থেকে মুরগি কিনতে এসে মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন। দাম কম নেওয়ার অনুরোধে তারা রাজি না হওয়ায় তিনি সাংবাদিক হিসেবে দেখে নেওয়ার ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি’ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন মাসুম।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুমুর রশিদ মাসুম বলেন, “সার্বিকভাবে আমি মনে করি, রোমানা আক্তার শিপা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার এবং আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে অব্যাহতভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
তিনি এসব অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সঠিক তথ্য যাচাই না করে কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মনগড়া ও অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার



















