ঢাকা, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ১৪ আগস্ট ২০২৬

চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকারের ৫ নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি নির্বাচনই সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচনগুলো হলো—সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ। এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডস্থ ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও শিশু উদ্যান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “এই পাঁচটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে আমাদের প্রায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এবং বাজেটে—বিগত পার্লামেন্টে যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন হয়েছে, সেই বাজেটের মধ্যে এই অর্থের সংস্থান রাখা আছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনগুলোর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। স্থানীয় সরকার থেকে ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলে—নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার এবং অর্থ বিভাগ, যেহেতু অনেক টাকার প্রয়োজন, কোন নির্বাচনটি আমরা আগে করব, কোনটা পরে করব, এ বিষয়ে—আবারও রিপিট করছি—নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার এবং অর্থ বিভাগ আমরা তিন পক্ষ বসে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আবারও বলছি যে, এই অর্থবছরেই আমরা পাঁচটি স্থানীয় সরকারেরই নির্বাচন সম্পন্ন করব, ইনশাআল্লাহ।”

এছাড়াও শ্রীমঙ্গলের মাস্টার প্ল্যান সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শ্রীমঙ্গলের মাস্টার প্ল্যানের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই আমাকে সভাপতি সাহেব প্রশ্ন করেছিলেন, আমি উত্তর দিয়েছি যে, মাননীয় সংসদ সদস্য একটি আধাসরকারি পত্র আমাকে দিলে পর্যটন বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের যদি রাস্তা থেকে থাকে, সব বিভাগকে এক জায়গায় করে শ্রীমঙ্গলকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে মাস্টার প্ল্যান করার প্রয়োজন, সেটাতে আমরা হাত দেব। এবং একটি মাস্টার প্ল্যান করে যে ডিপার্টমেন্টের যে কাজ, আমরা সেটা ভাগ করে নিয়ে সেইভাবে বাস্তবায়ন করব।”

তিনি বলেন, “সারা বাংলাদেশের সমস্ত পৌরসভা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা একটি প্রকল্প—ডিপিপি প্রণয়ন করছি, যেখানে অন্যান্য পৌরসভাগুলোতে ২৫ কোটি করে টাকা ওই ডিপিপিতে রাখা হয়েছে। আমি পর্যটন নগরী হিসেবে শ্রীমঙ্গলে সেখানে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে ওই প্রকল্প থেকে। এর বাইরেও তো অন্য টাকা আমরা দিতে থাকব এবং অর্থ চলমান থাকবে।”

দেশে চলমান লোডশেডিং নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “এই সরকার তো কেবল ১৮০ দিন হতে আরও দুই দিন সময় লাগবে। একটু আমাদের সময় দিতে হবে। সব ব্যবস্থাপনাই হবে। জনগণের সরকার—আমরা জনগণকে নিয়েই কাজ করছি। আর বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী জনগণের সামনে আমাদের সরকারের এবং ওই মন্ত্রণালয়ের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এবং ওই মন্ত্রণালয়ের অবস্থান যেটি, সেটিই পরিষ্কার। তবে আমাদের নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে যেতে হবে, সোলার প্যানেলের ওপর বেশি বেশি করে যেতে হবে। তাহলেই দেখবেন যে, আপাতত আমাদের যে ক্রাইসিসগুলো—এই ক্রাইসিসগুলো আমাদের থাকবে না।”

তিনি বলেন, “আমি আবারও আপনাদের মাধ্যমে অনুরোধ করব যে, আমরা সবচেয়ে ব্যয় সংকোচন যেটি—সোলার প্যানেল। সোলার প্যানেলটাকে আমরা যদি দোকানে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে, বাড়িতে সবাই ব্যবহার শুরু করি—আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের এক বছরের মধ্যে তার খরচটা উঠে আসবে। তাকে বিদ্যুৎ বিল আর দিতে হবে না—যেহেতু বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে না। এবং পরবর্তীতে দেখা যাবে, ১০-১৫ বছর তারা ফ্রি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারছে।”

অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও টমটমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই গতকাল আমি মন্ত্রণালয়ে মিটিং করেছি। আমাদের আইন আছে, অতিশীঘ্রই আমরা বিধিমালা দেব। এই ই-রিকশা বলি আমরা যেটা—ই-রিকশাগুলো সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভার বিধির মধ্যে আসবে এবং তাদেরকে একটা বৈধ বুয়েট হোক বা ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট হোক বা যেকোনো ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেসের প্রত্যয়ন নিতে হবে। সেখানে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ প্রতিস্বাক্ষর করবে। করে পৌরসভায় জমা দিলে পৌরসভা একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেবে, ফি নিয়ে। এবং প্রত্যেক বছর ওই একই ফর্মুলায় ফিটনেস নিয়ে নবায়ন হবে।”

তিনি বলেন, “যখনই আমরা রেজিস্ট্রেশন দেব এবং নবায়ন হবে, তখনই এই টমটম বলেন, থ্রি-হুইলার বলেন, তারপরে ব্যাটারিচালিত গাড়ি বলেন—এটা একটা নিয়মের মধ্যে আসবে। এবং একটা শর্ত থাকবে, রেজিস্ট্রেশন এবং নবায়নের পূর্বে আমাদের এই গাড়িগুলো অবশ্যই সোলার প্যানেলের মাধ্যমে গ্যারেজগুলোতে চার্জিংয়ের আওতায় আনতে হবে। যে গাড়িগুলো সোলার প্যানেলের বাইরে সরাসরি বিদ্যুৎ থেকে চার্জ নেবে, তাদের জরিমানা এবং আইনের আওতায় আনার বিধি রেখে আমরা আইন ইতিমধ্যেই প্রণয়ন করেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এই বিধিমালাটি সার্কুলার করে দেব। সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাগুলো এটি রেজিস্ট্রেশন দেওয়া শুরু করবে, আইনের আওতায় আসবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নুরুল আলম সিদ্দিকী, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়