Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২০ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ১৮ জুন ২০২২

সিলেট-সুনামগঞ্জে পানিবন্দি ৫০ লাখ মানুষ: বিভাগীয় কমিশনার

ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ৫০ লাখ মানুষ পানিবন্দি। এই দুই জেলায় বন্যা উপদ্রুত এলাকা থেকে দুর্গতদের উদ্ধার আর জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে সব রকমের চেষ্টা করছে জেলা প্রশাসন।

বন্যার ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে শনিবার (১৮ জুন) দুপুরে এক সমন্বয় সভায় এই তথ্য জানান সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘বন্যা উপদ্রুত অঞ্চল থেকে দুর্গতদের জন্য দ্রুত উদ্ধার বা জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে প্রশাসনের তরফ থেকে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাহায্য করা হচ্ছে।’

বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও কোস্টগার্ড যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান।

এদিকে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় সিলেট কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড লাইনের কুমারগাঁও উপকেন্দ্রে দিয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এটি বন্ধ হওয়ায় পুরো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, ‘পানি সেচে দ্রততম সময়ের মধ্যে উপকেন্দ্রটি আবার চালু করার চেষ্টা করছি।’

এদিকে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর (বর্ষা) প্রভাবে শনিবারও সারাদেশে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসময় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে ওই অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় শনিবার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, সুরমা ছাড়া দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গের কিছু স্থানে মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা, সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেটসহ আরও বেশি কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়