শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
আপডেট: ১৯:৩২, ৩১ মার্চ ২০২৬
শ্রীমঙ্গলে বিপন্ন প্রজাতির তক্ষক উদ্ধার
বিপন্ন প্রজাতির তক্ষক। ছবি: আই নিউজ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি দোকান থেকে বিপন্ন প্রজাতির একটি তক্ষক উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুজবের পেছনে ছুটে আমরা নিজেরাই এই প্রাণীটিকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছি। আইন ভাঙছি। আবার অজান্তেই পরিবেশের ক্ষতি করছি। বিষয়টি হয়তো অনেকেই বুঝতে পারছেন না, অথবা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
জানা গেছে, নতুন বাজারের শ্যামল দেবের গুড়ের দোকান খোলার পর ভেতরে একটি তক্ষক দেখতে পান দোকানের কর্মচারীরা। হঠাৎ করে তক্ষকটি চোখে পড়তেই তারা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এদের মধ্যে কেউ কেউ তক্ষকটি লক্ষ টাকায় বিক্রি করা যায়, এমন গুজবও ছড়াতে থাকেন।
পরে দোকানের মালিক শ্যামল দেব বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তক্ষকটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে উদ্ধার করা তক্ষকটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তক্ষক একটি সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। এটিকে কেনাবেচা বা অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি এ প্রাণী নিয়ে প্রচলিত উচ্চমূল্যের গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তারা উল্লেখ করেন।
তক্ষক নিয়ে গুজব নয়, বাস্তবতা জানা জরুরি
তক্ষক। ছোট্ট একটি সরীসৃপ। কিন্তু নামটা শোনামাত্রই অনেকের মনে অদ্ভুত কৌতূহল, আবার কারও মনে লোভও কাজ করে। কারণ, এই প্রাণীটিকে ঘিরে বহুদিন ধরে এক ধরনের গুজব ছড়িয়ে আছে—নাকি এর দাম কোটি টাকা! বাস্তবে বিষয়টা একেবারেই ভিন্ন।
তক্ষক আসলে একটি সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় এটি সুরক্ষিত। অর্থাৎ, এটিকে ধরা, কেনাবেচা করা কিংবা ঘরে আটকে রাখা—সবই আইনত অপরাধ। ধরা পড়লে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। জরিমানা, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে।
তবু প্রশ্ন থাকে—তাহলে এত গুজব কোথা থেকে এল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই “উচ্চমূল্যের” গল্পের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বছরের পর বছর ধরে কিছু অসাধু চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—মানুষকে প্রলুব্ধ করা। কেউ হয়তো দ্রুত টাকা আয়ের আশায় ঝুঁকি নেয়। আর সেই সুযোগেই গড়ে ওঠে অবৈধ বাণিজ্যচক্র।
বাস্তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তক্ষকের এমন কোনো স্বীকৃত মূল্য নেই, যা নিয়ে এত হৈচৈ হয়। বরং এই গুজবই প্রাণীটির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ ধরছে, পাচার করার চেষ্টা করছে, ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
তক্ষক মূলত বনাঞ্চল ও গাছপালায় ভরা এলাকায় বসবাস করে। পরিবেশের জন্য এরা উপকারী—পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ, এদের বাঁচিয়ে রাখা মানে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা।
কিন্তু আমরা কী করছি?
গুজবের পেছনে ছুটে আমরা নিজেরাই এই প্রাণীটিকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছি। আইন ভাঙছি। আবার অজান্তেই পরিবেশের ক্ষতি করছি। বিষয়টি হয়তো অনেকেই বুঝতে পারছেন না, অথবা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
এখানেই দরকার সচেতনতা।
তক্ষক নিয়ে প্রচলিত “কোটি টাকার গল্প” শুনলে সন্দেহ করুন। যাচাই করুন। কারণ, এসব গল্প যত ছড়াবে, ততই বাড়বে অবৈধ শিকার। আর শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা হবে আমাদেরই—প্রকৃতির, জীববৈচিত্র্যের।
সরকারি সংস্থা ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন—এই প্রাণীকে রক্ষা করা জরুরি। এটিকে বাঁচতে দিন তার নিজের পরিবেশে।
সংক্ষেপে বলা যায়, তক্ষক কোনো ‘টাকার খনি’ নয়। এটি আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। আর সেই সম্পদ রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব।
ইএন/এসএ
বনবিভাগের ওয়েবসাইটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তক্ষক উদ্ধারের খবর
আই নিউজে আরো খবর: জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ কর্মশালা
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























