ঢাকা, রোববার   ১৯ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৫ ১৪৩৩

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৩২, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা; বৃত্তি পরীক্ষায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়মিত তদারকির অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ১৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় পরিদর্শনে অনিয়ম, শিক্ষকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবরের বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে বদলি সংক্রান্ত অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তাকে শোকজ করা হয়েছিল। পরে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলায় বদলির নির্দেশ এলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর তদবিরের মাধ্যমে তিনি কমলগঞ্জে যোগদান করেন, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্মকর্তার যোগদানের পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর না পাওয়ায় অনেকেই আর্থিক সংকটে রয়েছেন।

এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের কেরামতনগর শাখার ব্যবস্থাপক প্রমোদ সিন্হা জানান, আগে শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকদের ঋণ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর দিতেন। কিন্তু বর্তমান কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে এ প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে নতুন ঋণ গ্রহণে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েও উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। গত ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়া পরীক্ষায় ১,১৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেয় ৮৬৫ জন; অনুপস্থিত থাকে ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা অফিসের সমন্বয়হীনতা ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণেই এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, নীতিমালা উপেক্ষা করে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে এক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরানো হলেও অন্য কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের দায়িত্ব বণ্টনের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর। তিনি দাবি করেন, পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হয়নি এবং অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত। ব্যাংক ঋণের বিষয়ে তার বক্তব্য, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি কেবল জিপি ফান্ডের ঋণে স্বাক্ষর করেন; অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা নেই।

এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ওপর গুরুতরভাবে পড়তে পারে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়