ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:০৬, ৩০ জুলাই ২০২১
আপডেট: ০০:০৯, ৩১ জুলাই ২০২১

মৌলভীবাজারে করোনায় এক বছরে মারা গেছেন ১০৯ জন: স্বাস্থ্য অধিদফতর

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। দিনের পর দিন সংক্রমিত রোগী ও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। 

মৌলভীবাজারে করোনায় আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুসারে, শুক্রবার (৩০ জুলাই) পর্যন্ত মৌলভীবাজারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬৪ জন। যাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫৯ জন। 

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের করোনা শনাক্তের তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত (৩০ জুলাই) জেলায় ৫ হাজার ৩৫১ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অপরদিকে মারা গেছেন ১০৯ জন। 

অর্থাৎ জেলাটিতে এক বছরের বেশি সময়ে করোনা শতাধিক প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এবার প্রশ্ন উঠতে পারে জেলার করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তথ্য দুই জায়গায় আলাদা কেনো? 

সাধারণত মৌলভীবাজার জেলা থেকে যাদের করোনা পরীক্ষা করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তাদের করোনা পরীক্ষার ফলাফল মৌলভীবাজার জেলার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেটাই তারা প্রকাশ করেন। কিন্তু যারা জেলার বাহিরে অর্থাৎ সিলেট, ঢাকা বা অন্য কোথাও নমুনা দেন, তাদের ফলাফল মৌলভীবাজার জেলার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেনা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। মৃত্যুর তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। 

কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের তালিকা তৈরি করে সেই ব্যক্তির জেলার ঠিকানা অনুসারে, তিনি দেশের যে প্রান্তেই নমুনা দেন না কেন। অর্থাৎ মৌলভীবাজারের কোনো বাসিন্দা ঢাকায় অথবা সিলেটে বা দেশের অন্য কোথাও মারা গেলে বা করোনা পজিটিভ হলে, তাকে তার নিজ জেলার তালিকায় (মৌলভীবাজার) দেখানো হয়।

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর মাত্র ৬০ দিনে ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে করোনা।

প্রথম দুই মাস দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা তিন অংকের মধ্যে ছিল। পরে সেটা বাড়তে বাড়তে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর বেশ কিছুদিন দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা কমতে কমতে এক পর্যায়ে তিনশোর ঘরে নেমে এসেছিল। তবে এবছর মার্চের শুরু থেকেই শনাক্তে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়।

সীমান্তবর্তী জেলা মৌলভীবাজারেও ঈদুল ফিতরের পর থেকে হঠাৎ করে বাড়ছে ভাইরাসটির সংক্রমণ। গেল ২৮ জুলাই জেলাটিতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ২২৫ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে লকডাউন জারি করা হলেও পরিস্থিতিতে লাগাম টানা যাচ্ছে না। 

গত ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজারে আরও ১৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এসময় মারা গেছেন তিনজন করোনা রোগী। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০৬ জন। 

উল্লেখ্য, দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২১২ জন মারা গেছেন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় ২০ হাজার ৪৬৭ জন মারা গেছেন। যাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৮৬৯ জন এবং নারী ৬ হাজার ৫৯৮ জন। 

একই সময়ে নতুন করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ১৩ হাজার ৮৬২ জনকে। দেশে এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪০ হাজার ১১৫ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ১৩ হাজার ৯৭৫ জন। ফলে দেশে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৫ জনে।

আইনিউজ/এসডিপি 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়