কুলাউড়া প্রতিনিধি
আপডেট: ২৩:৫৪, ৩ আগস্ট ২০২১
কুলাউড়ায় দুই নিকাহ রেজিস্টারের বিরুদ্ধে চাকুরি বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কাজী ফজলুল হক খাঁন সাহেদ ও কাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন নামের দুই নিকাহ রেজিস্টারের বিরুদ্ধে চাকুরি বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা রেজিস্টারের কাছে পৃথকভাবে দুইটি লিখিত আবেদন করে স্থানীয় দুই বাসিন্দা।
তাদের অবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্টার বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার মো. মোসারফ হোসেন চৌধুরীকে। পরে হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্য দেয়ার জন্য কয়েক দফা নোটিশ প্রদান করলেও তারা নানা অজুহাতে এখনো লিখিত বক্তব্য পেশ করেন বলে জানিয়েছেন ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
এ প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুলাউড়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার মো. মোসারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রথম দফা নোটিশে তারা উপস্থিতি হননি। দ্বিতীয় দফায় উপস্থিত হয়েছেন দেরিতে। তাদের ঘটনার বিষয়ে লিখিত বক্তব্য দেয়ার জন্য বলা হয়েছে তবে এখনো বক্তব্য দেননি। বক্তব্য আমাদের অফিসে জমা দিলে আমরা তা জেলা রেজিস্টার অফিসে পাঠাবো। জেলা রেজিস্টার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।
জেলা রেজিস্টার বরাবরে কুলাউড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হাফিজ বদরুল ইসলামের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, কুলাউড়া পৌরসভার ৫, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার হিসেবে কর্মরত আছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফজলুল হক খাঁন সাহেদ। কুলাউড়া পৌরসভা একটি এ গ্রেডের পৌরসভা। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোন এ গ্রেডের পৌরসভায় ২ ওয়ার্ডের অধিক কোন ওয়ার্ডে নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। নিকাহ রেজিস্টারের পাশাপাশি গত ৭ বছর থেকে তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কাজেরও ব্যাঘাত ঘটছে। তাছাড়া নিকাহ ও তালাক রেজিস্টারের পাশাপাশি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারি যে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ সনের ২৪ নং আইন এর ধারা ২ এর (ঙ) তে বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না কিংবা ভাইস চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। কিন্তু ফজলুল হক খান সাহেদ ৭ বছর থেকে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়া মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন ২০০৯, (১৯৭৪) এর ১৪ এ উল্লেখিত নিয়মানুসারে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় এক ব্যক্তি দুই ওয়ার্ডের অধিক ওয়ার্ডের কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এদিকে জেলা রেজিস্টার বরাবরে কুলাউড়া শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির জনস্বার্থে করা আরেকটি অভিযোগ থেকে।
জানা যায়, কুলাউড়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কর্মরত নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন সরকারি চাকুরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে পাশ্ববর্তী জুড়ী উপজেলার শাহপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন যা সরকারি চাকুরি বিধিমালা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মুসলিম পারিবারিক আইনের ২০ নং ধারামূলে কোন নিকাহ রেজিস্টার তাকে যে এলাকার জন্য কাজী নিযুক্ত করা হয়েছে সেই এলাকার বাইরে অন্য কোন উপজেলায় সরকারি/আধা সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে সবেতনে চাকুরী করতে পারবেন না। কিন্তু কাজী জাকির হোসেন কুলাউড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাজীর দায়িত্বের পাশাপাশি জুড়ী উপজেলার শাহপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতনভাতা গ্রহণ করছেন। অভিযোগকারিরা বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান শাহেদ ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার এক পর্যায়ে তিনি ফোন রিসিভ করে নানা টালবাহানা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























