কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট: ১৭:১৬, ৯ আগস্ট ২০২১
কমলগঞ্জে
চা শ্রমিকদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি ও করোনা সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি
আন্তজার্তিক আদিবাসী দিবসে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি ও করোনা সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। ‘চা শ্রমিকদের করোনা সুরক্ষা টিম’ এর আয়োজনে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগান হাসপাতালের সম্মুখে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ২৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক অধিকারকর্মী, সংগঠক ও সমম্বয়ক মোহন রবিদাস, বাবুল মাদ্রাজী, নিলু গোয়ালা প্রমুখ।
চা শ্রমিক জনগোষ্ঠিকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি ও করোনা সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, পার্বত্য চট্রগ্রামের ১১টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাদে সমতলের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীরই বসবাস রয়েছে চা বাগানে। চা বাগানে গারো, ত্রিপুরী, সাঁওতাল, মুন্ডা, ওঁরাও, বাউরী, লোহার, রিবদাস, তেলেগু, ভূমিজ, কানু, বীন, ছত্রী, সবর, বাক্তিসহ প্রায় ৯৪টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। যাদের প্রত্যেকেরই ভাষা, সংস্কৃতি, আচরণ-পার্বণ, ধর্মীয় রীতিনীতি, পূজা-উৎসব, বিবাহ প্রথা, সমাজ কাঠামো দেশের মূল ধারার জনগোষ্ঠী থেকে ভিন্ন। এদের কেউ প্রাক দ্রাবিড়ীয়, কেউ আদি অস্ট্রালয়েড কেউবা আবার মঙ্গোলীয় আদিবাসীর অন্তর্ভুক্ত। তবে সরকারিভাবে চা বাগানের প্রায় ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে গ্যাজেটভুক্ত করা হয়নি। অন্যদিকে চা শ্রমিকদের ভাষা-সংস্কৃতি বিকাশের কোন প্রকার সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি।
তারা আরও বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণকালে চা শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো সরকারি-বেসরকারি কিংবা চা বাগান কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। চা বাগানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। করোনা মহামারিকালে লকডাউনে সবকিছু বন্ধ রাখা হলেও ঝুঁকির মাঝে চালু রাখা হয় চা বাগানগুলো। রীতিমত করোনা ঝুঁকির মাঝে চা শ্রমিকরা বিশেষ করে নারী চা শ্রমিকরা কাজ করেই চলেছেন। ঘন বসতিপূর্ণভাবে বসবাসরত সকল চা শ্রমিকদের জন্য অন্তত টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে চা শ্রমিকরা কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকতো। এ সময়ে তারা চা শ্রমিকদের পক্ষে ২৮ দফা দাবি উপস্থাপন করে।
দাবিগুলো হলো-
চা বাগানে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীকে আদিবাসীর স্বীকৃতি, ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে চা বাগান অধ্যুষিত উপজেলায় একটি করে সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, অবিলম্বে সকল চা শ্রমিকদের কোভিড টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত, করোনা আক্রান্ত চা শ্রমিকদের ১৪ দিনের মজুরিসহ প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত, করোনাকালীন ঝুঁকি ভাতার প্রচলন করা, সকল চা শ্রমিকদের বিনামূল্যে মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজারসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, নারী চা শ্রমিকদের (নির্দিষ্ট বয়সের) বিনামূল্যে স্যানিটারী ন্যাপকিন/প্যাড প্রদান, চা শ্রমিকদের ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা, জাতীয় বাজেটে চা শ্রমিকদের জন্য পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিত, ভূমি অধিকার, শ্রম আইনের স্বার্থবিরোধী সকল ধারা সংশোধন, উচ্চ শিক্ষা ও চাকরিতে চা শ্রমিক সন্তানদের কোটা সুবিধা চালু, উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান, চা বাগানের সেকশনে (প্লান্টেশন এলাকায়) বিশুদ্ধ পানীর ব্যবস্থাসহ গণ-শৌচাগার ও বিশ্রামাগার করা, চা বাগানে কীটনাশক প্রয়োগকারী শ্রমিকদের ঝুঁকিভাতা ও সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় শ্রমিকদের সমানহারে মজুরি প্রদান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর রাবার চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করা, চা বাগানে সকল প্রকার মাদক দ্রব্য সেবন ও বিক্রয় বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, নামমাত্র রেশনের পরিবর্তে শ্রমিকদের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য সামগ্রী প্রদানসহ অন্যান্য দাবি দাওয়া।
আইনিউজ/প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ/এসডিপি
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























