Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০৪ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২০ ১৪৩২

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪১, ৭ অক্টোবর ২০২৩

ফের জলমগ্ন সিলেট, ওসমানী মেডিকেল পানিবন্দি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

টানা ভারী বৃষ্টিপাতে কিছুদিনের ব্যবধানে আবারও জলমগ্ন নগরীতে রূপ নিয়েছে সিলেট। নগরীর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রেলওয়ে স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে ওঠে গেছে বৃষ্টির পানি। এসব জায়গায় পানি ওঠায় বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালের রোগী, স্টেশনের যাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ। 

সিলেটে গত তিন দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে তুমুলভাবে। বৃহস্পতিবার দিবাগত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত। এতে করেই পরিস্থিতি খারপা হতে থাকে। পানি প্রবেশ করতে থাকে নগরীর নিচু এলাকার বাসাবাড়ী, দোকানপাট, প্রতিষ্ঠানে। শনিবার সকালের মধ্যে তলিয়ে যায় নগরের বেশিরভাগ এলাকা।

শনিবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকেও বৃষ্টি চলমান আছে সিলেটে। ফলে পানি কমার বদলে বাড়ছে ক্রমশ। এতে করে শুধু নিচু এলাকাগুলোই নয়, নগরীর উঁচু জায়গাগুলোতেও পানি ওঠে যাচ্ছে।  নগরের অন্যতম উঁচু এলাকা শাহী ঈদগাহ। শুক্রবার রাতেই এই এলাকার বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।

এই এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, রাতেই বাসায় পানি ঢুকেছে। সময় সময় পানি বাড়ছে। এ নিয়ে চলতি বছরে তিনবার ঘরে পানি ঢুকলো।

শাহি ঈদগাহর মতো নগরের উঁচু এলাকা টিলাগড়, মেজরটিলা এলাকারও অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়েছে। আর নিচু এলাকার অনেক রাস্তায় কোমর পানি হয়ে গেছে।

এদিকে পানিতে তলিয়ে গেছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলা। এতে ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। শনিবার সকালে মৌলভীবাজার থেকে সেবা নিতে যাওয়া এক রোগীর আত্মীয় জানান, সকালে প্রায় পায়ের ঘণ্টা পর্যন্ত পানি ছিল হাসপাতালের মেঝেতে। ক্রমশ পানি বাড়ছে। এতে করে হাসপাতালের সেবাদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানান বিজয় পাল নামের ওই ব্যক্তি। 

হাসপাতালের চিকিৎসক অরূপ রাউৎ জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এবং সকল ছাত্রাবাসের নিচতলা অবধি পানি উঠে গেছে। হাসপাতালের সামনের সড়কও জলের নিচে। হাঁটু পানি ভেঙেই ডাক্তাররা ডিউটিতে এসেছেন।

ভোরে নিজ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম। তার নিজের বাসাও জলমগ্ন। ভিডিওতে দেখা যায়- ফরহাদ চৌধুরীর বাসার নিচ তলায় পানি থৈ থৈ করছে। আসবাবপত্র অর্ধেক ডুবে আছে পানিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  এমএজি ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কাজলশাহ, শাহজালাল উপশহর, দরগামহল্লা, কালীঘাট, বাগবাড়ি, কানিশাইল, লামাপাড়া, লালা দিঘিরপাড়, মাছুদিঘিরপাড়, বাদামবাগিছা, শাহপরান, কুয়ারপাড় উপশহর, সোবহানীঘাট, যতরপুর, শিবগঞ্জ, মাছিমপুর, কামালগড় ও দক্ষিণ সুরমার পিরোজপুর, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনসহ সিলেট নগরের বেশিরভাগ এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানিতে তলিয়ে গেছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো সজিব হোসাইন জানান, শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে শনিবার সকাল  ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৩৫৭.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১০২ মিলিমিটার।

নগরের পাঠানটুলা এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে কোমড় পর্যন্ত পানি জমেছে বলে জানাগেছে। ফলে এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা এম জে এইচ জামিল বলেন- আমরা একটি ভবনের ৪ তলায় থাকি। কিন্তু নিচ তলায় রাতে পানি ঢুকে পড়েছে। এর বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমাদের পাড়ার অধিকাংশ বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিলেট মহানগরের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগ নিচ্ছেন না। ফলে বার বার নগরবাসীকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়তে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যাবে।

তিনি বলেন, ড্রেন নালা পরিষ্কার রাখতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। এছাড়া সুরমা নদী খনন করানো জরুরি।

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়