Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, সোমবার   ১৬ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ২ ১৪৩২

রুপম আচার্য্য

প্রকাশিত: ২১:১৭, ১৬ মার্চ ২০২৬

ঈদে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত চায়ের দেশ

চায়ের দেশে চা পাতি তুলছেন কয়েকজন শ্রমিক। ছবি: আই নিউজ

চায়ের দেশে চা পাতি তুলছেন কয়েকজন শ্রমিক। ছবি: আই নিউজ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে সামনে রেখে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত হয়ে উঠেছে পর্যটন নগরী চায়ের দেশ মৌলভীবাজার। আগত পর্যটকদের জন্য জেলার পাঁচতারকা হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্টহাউসগুলোতে ঘোষণা করা হয়েছে নানা আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে ইতোমধ্যে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে শহরের বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে আগাম বুকিংয়ের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে দেশজুড়ে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে শ্রীমঙ্গল হয়ে উঠছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের বাইরে রাধানগর গ্রাম এলাকায় থাকা প্রায় অর্ধশত রিসোর্ট ও কটেজে ২২ থেকে ২৪ তারিখ- এই তিন দিনের জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ বুকিং ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। মূলত এই তিন দিনকেই ঈদ ভ্রমণের ‘পিক টাইম’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদকে ঘিরে বাকি দিনগুলোতেও ধীরে ধীরে বুকিং বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত শতভাগ রুম বুকড হয়ে যাবে।

অন্যদিকে শহরের ভেতরের হোটেলগুলোতে এখনো তেমন চাপ তৈরি হয়নি। অধিকাংশ হোটেলেই এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ বা তারও কম রুম বুকিং হয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে পর্যটকদের বড় একটি অংশ শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান। এ কারণে তারা শহরের হোটেলের পরিবর্তে শহরের বাইরে অবস্থিত রিসোর্ট ও কটেজে থাকতে বেশি আগ্রহী। এছাড়া এসব রিসোর্ট ও কটেজে কক্ষসংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় আগাম বুকিং দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই শহরের হোটেলগুলোতেও বুকিং বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যটন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। জেলার শ্রীমঙ্গলে গড়ে ওঠা অসংখ্য রিসোর্ট, কটেজ, হোটেল ও গেস্টহাউসে রাত্রিযাপন করেন সহস্রাধিক পর্যটক। পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের ১৫ থেকে ২০টি দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্রও প্রস্তুত করা হয়েছে পর্যটকদের বরণে। পাঁচতারকা মানের রিসোর্টসহ শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ, হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে এখানে। এদিকে ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন নামি-দামি চাইনিজ ও থাই খাবারের ক্যাফে-রেস্টুরেন্টগুলোও নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।

পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে খাবারের মেন্যুতেও আনা হয়েছে নতুনত্ব। বাংলা, চাইনিজ ও থাই খাবারের পাশাপাশি আদিবাসী খাবারও রাখা হয়েছে মেন্যুতে। এছাড়া ঘুরতে আসা পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট।

মৌলভীবাজার জেলা হাওড়, পাহাড় ও টিলাবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন শতাধিক পর্যটন স্পট। জেলার সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম ঘটে চায়ের দেশ নামে খ্যাত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায়। সবুজে মোড়া উঁচুনিচু চা বাগান, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের কারণে শ্রীমঙ্গল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতি বছর ঈদ কিংবা দীর্ঘ সরকারি ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, হাইল হাওর, বাইক্কার বিল, চা কন্যার ভাস্কর্য, রমেশ রাম গৌড়ের আবিষ্কৃত সাত রঙের চা, বধ্যভূমি ’৭১, বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র, রাবার বাগান, গোলটিলা, হাজমটিলা, সীতেশ বাবুর বন্যপ্রাণী সেবাকেন্দ্র, খাসিয়া পুঞ্জি, মনিপুরী সম্প্রদায়ের তাঁতশিল্প, গারোপল্লী, ভাড়াউড়া লেক, শংকর টিলাসহ শ্রীমঙ্গলের অসংখ্য পর্যটন স্পট ঘুরে দেখতে ঈদের ছুটিতে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে ভিড় জমান। এছাড়াও কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ এবং মাধবপুর লেকও ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় থাকে।

চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, “আসন্ন পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে ‘চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফে’-তে আমরা বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ঈদের ছুটিতে যারা শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে আসবেন, তাদের জন্য মূলত স্থানীয় ও আদিবাসী খাবারের বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে, যাতে তারা এ অঞ্চলের স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “অতিথিদের আরামদায়ক ও সুন্দর অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রেস্টুরেন্টের সাজসজ্জার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের পুরো টিম সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকেরা একটি ভালো ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারেন।”

বালিশিরা রিসোর্টের পরিচালক (পরিচালনা ও প্রশাসন) জাহানারা আক্তার বলেন, “পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগত পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আমরা রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট সুন্দরভাবে সাজিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকে আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং হয়ে থাকে। আশা করছি, গতবারের তুলনায় এবার আরও বেশি পর্যটক আসবেন এবং ব্যবসাও ভালো হবে। আগামী ২১ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।”

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, “বরাবরের মতো এবারও ঈদকে ঘিরে রিসোর্টটিতে বেশ ভালো বুকিং হয়েছে। ঈদের সময়ে সাধারণত বিদেশি পর্যটক খুব একটা আসেন না; তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের আগমন বেশি থাকে। সব মিলিয়ে বর্তমানে আমাদের বুকিং প্রায় শতভাগ পূর্ণ হয়ে গেছে।”

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, “ঈদুল ফিতরের ছুটিকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলে মোটামুটি ভালো পর্যটক সমাগমের আশা করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণত ঈদের দিন পর্যটকরা খুব বেশি আসেন না; তবে ঈদের একদিন পর থেকেই পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ওসি মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, “ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আমাদের টহল ব্যবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকবে। জেলা পুলিশের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ নজর রয়েছে।”

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়