ঢাকা, শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬,   বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ১ মে ২০২৬

মে দিবসে চা শ্রমিকদের গল্প: সবুজ বাগানের আড়ালে সংগ্রামের দিনলিপি

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

প্রতি বছরের মতো এবারও ১ মে—আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস—এসেছে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে। দেশের অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ খাত চা শিল্প, আর এই শিল্পের প্রাণ হলো হাজার হাজার চা শ্রমিক। কিন্তু তাদের জীবনযাপন ও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে নানা দিক থেকে।

সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবুজ চা বাগান দূর থেকে দেখলে মনে হয় শান্ত আর স্বপ্নময় এক পৃথিবী। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কঠোর পরিশ্রম আর সীমাবদ্ধতার গল্প। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত মাথায় ঝুড়ি নিয়ে চা পাতা তোলেন শ্রমিকরা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পাতা সংগ্রহ করতে না পারলে মজুরি কাটা যায়—এটাই তাদের বাস্তবতা।

চা শ্রমিকদের অধিকাংশই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পেশায় যুক্ত। তাদের অনেকেরই জন্ম, বেড়ে ওঠা আর জীবন কাটে বাগানেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় তারা মূলধারার উন্নয়ন থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন।

বর্তমানে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে নানা সময় আলোচনা হলেও, শ্রমিকদের দাবি—এটি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য এখনো যথেষ্ট নয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের আয় বাড়েনি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়।

একজন নারী চা শ্রমিক বলেন, “সারাদিন কাজ করি, তারপরও সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। বাচ্চাদের ভালোভাবে পড়াতে পারি না।” এই কথার মধ্যেই ফুটে ওঠে একটি বৃহৎ শ্রমজীবী গোষ্ঠীর বাস্তব চিত্র।

তবে শুধু সমস্যা নয়, আছে সম্ভাবনাও। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কিছু এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। তবুও প্রয়োজন আরও সুসংগঠিত উদ্যোগ, যাতে চা শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মৌলিক অধিকার পেতে পারেন।

মে দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের প্রতীক। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ খাত আরও শক্তিশালী হবে।

সবুজ চা বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে, সেই বাগানের শ্রমিকদের জীবনও হতে হবে সমানভাবে সবুজ, স্বস্তির এবং মর্যাদাপূর্ণ—এটাই মে দিবসের মূল বার্তা।

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ