Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ২৫ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১১ ১৪৩২

সংগ্রাম দত্ত

প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ২৫ মার্চ ২০২৬

মাটির ঘরের মায়া

হারিয়ে যাচ্ছে সিলেটের প্রাচীন ‘মাইট্টা ওয়াল’ ঐতিহ্য

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

সিলেটের গ্রামবাংলার এক সময়ের চিরচেনা দৃশ্য—মাটির দেয়ালের ঘর, স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় ‘মাইট্টা ওয়াল’। সময়ের স্রোতে আজ সেই ঐতিহ্য ক্রমেই বিলীন হতে বসেছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সিমেন্ট-ইটের দালানকোঠা দখল করে নিয়েছে গ্রাম ও শহরের চেহারা, আর মাটির ঘর হয়ে উঠেছে স্মৃতির অংশ।

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের পূর্ব বেলতলী গ্রাম থেকে এমনই এক দৃশ্য নিজের ক্যামেরায় ধারণ করেছেন শিক্ষক ও লেখক মোহাম্মদ একরামুল কবির। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন মাটির ঘরের প্রতি এক গভীর নস্টালজিয়া। তিনি জানান, এই ধরনের ঘরে থাকার অভিজ্ঞতা তার নিজেরও আছে—যেখানে প্রাকৃতিক শীতলতা যেন এসির বিকল্প হয়ে উঠত। তার ভাষায়, “মাটির শরীর মাটিতেই মিশবে—মাটির ঘর দেখলে এখন কবরের কথাই মনে পড়ে।”

একসময় শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই মাটির ঘরের প্রচলন ছিল। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এসব ঘর পরিবেশবান্ধব, শীতল এবং কম খরচে নির্মাণযোগ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের চা বাগানের শ্রমিক লাইনে এখনও কিছু জায়গায় এই ঘরগুলোর অস্তিত্ব টিকে আছে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের জীবনযাপন ও স্বপ্ন। এখন অধিকাংশ মানুষের আকাঙ্ক্ষা বহুতল ভবন বা আধুনিক স্থাপনা। সহজলভ্য ইট, সিমেন্ট ও উন্নত নির্মাণসামগ্রীর কারণে মাটির ঘর নির্মাণের চিন্তাই যেন হারিয়ে গেছে মানুষের মন থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির ঘর শুধু একটি বাসস্থান নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ সঠিক সংরক্ষণ ও সচেতনতার অভাবে এই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে।

গ্রামের প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত মাটির ঘরের দিনগুলো—যেখানে গরমে শীতলতা আর শীতে উষ্ণতার এক প্রাকৃতিক ভারসাম্য ছিল। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে তা এখন কেবল গল্পের মতো শোনায়।

মাটির ঘরের এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—উন্নয়নের পথে এগোতে গিয়ে আমরা হয়তো ফেলে আসছি আমাদের শিকড়, আমাদের ইতিহাস। এখনই প্রয়োজন এই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে ভাবার, সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার—যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্তত জানে, কেমন ছিল আমাদের সেই মাটির ঘরের জীবন।

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়