ঢাকা, শনিবার   ০৯ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৫ ১৪৩৩

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৫০, ৮ মে ২০২৬

মুন্সিগঞ্জে চাচাকে হ`ত্যা`র ৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে বিচার

মার্কিন বিচার বিভাগের লোগো ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির স্ক্রিনশট।

মার্কিন বিচার বিভাগের লোগো ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির স্ক্রিনশট।

বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে পাঁচ বছর আগে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ও নিহত দুজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ২০২১ সালে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দোষ স্বীকার করার পর গ্যানেট রোজারিওকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। নিহত ব্যক্তি ছিলেন তাঁর চাচা মাইকেল রোজারিও।

আদালতের নথির বরাতে জানানো হয়, গ্যানেট রোজারিও নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা। ২০২১ সালের জুন মাসে তিনি মুন্সিগঞ্জে শটগান দিয়ে গুলি করে চাচা মাইকেল রোজারিওকে হত্যা করেন। সম্পত্তি নিয়ে কয়েক বছর ধরেই দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১১ জুন গ্যানেট ধূমপানের জন্য ঘরের বাইরে যান। পাশেই ছিল তাঁর চাচার শোবার ঘর। বাইরে থেকে তিনি শুনতে পান, ঘরের ভেতরে তাঁকে নিয়ে মাইকেল আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যানেট নিজের কক্ষ থেকে একটি শটগান এনে জানালা দিয়ে চাচার ঘরে গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলেই মাইকেলের মৃত্যু হয়।

পরে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গ্যানেট যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে নিজের চাচাকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

এদিকে, একই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশেও গ্যানেট রোজারিওর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের ১০ মার্চ মুন্সিগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যানেটের বাড়ি জেলার সিরাজদিখান উপজেলায়। আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ঘটনার পরদিনই তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া মামলাটি তদন্ত করেছে এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস। তদন্তে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত এফবিআইয়ের লিগ্যাল অ্যাটাশে এবং বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা এবং নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জে ক্লেটন এ রায়ের ঘোষণা দেন।

ইএন/এসএ

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ