ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১১ ১৪৩৩

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৫, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

প্রাইভেট পড়াতে অস্বীকৃতি, শিক্ষকের ওপর হা`মলা

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রাইভেট পড়াতে রাজি না হওয়ায় নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার চৌঘরিয়া আবদুল মান্নান ভূঁইয়া আদর্শ বিদ্যাপীঠের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মনজিল মোল্লার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে এ হামলা হয়।

ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হয় এবং বিক্ষোভ শুরু করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হামলাকারী দুজনকে আটক করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক দুজনকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে শিবপুর থানার এসআই জামান, হাসানুজ্জামানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

আটক দুজন হলেন- শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের পূবেরগাঁও গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে রাশিদুল ইসলাম এবং নজরুল ইসলামের ছেলে ইমন। তবে অভিযুক্ত মজলিসপুর গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে ইমরান পালিয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মু. আব্দুর রহিম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনূর মিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ইউএনও বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়। পরে বিকেল ৩টার দিকে আটক দুজনকে থানায় নেওয়া হয়।

আহত শিক্ষক মনজিল মোল্লা জানান, তিন যুবক তাকে বিদ্যালয়ের গেটে এসে তাদের ভাইকে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য চাপ দেয়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, “দপ্তরি এসে খবর দিলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। পরে শিক্ষক মুজাহিদ ও দপ্তরি খবির উদ্দিন একটি মোটরসাইকেলে হামলাকারীদের পিছু নিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দুজনকে আটক করেন।”

শিবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া জানান, পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আটক দুজনকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ইএন/এসএ

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়