রুপম আচার্য্য
আপডেট: ১০:১৬, ৬ এপ্রিল ২০২৬
আকাশে ভেসে ওঠা রঙিন বিস্ময়: হুদহুদ পাখির মুগ্ধতার গল্প
হুদহুদ পাখির ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার ও পরিবেশকর্মী খোকন থৌনাওজাম।
বাংলার আকাশে মাঝেমধ্যে যে পাখিটি ডানা মেলে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে, সেটি হলো হুদহুদ (Eurasian Hoopoe)। কমলা-বাদামি রঙের দেহ, মাথায় মুকুটের মতো খাড়া পালক আর কালো-সাদা ডোরাকাটা ডানার জন্য পাখিটি সহজেই আলাদা করে চেনা যায়। প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি এই পাখি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, তার স্বভাব-চরিত্রের জন্যও সমান আকর্ষণীয়।
পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য
হুদহুদের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য তার মাথার ঝুঁটি। বিপদের আভাস পেলে কিংবা উত্তেজিত হলে এই ঝুঁটি মেলে ধরে, যেন রাজকীয় মুকুট। লম্বা, বাঁকানো ঠোঁট দিয়ে মাটির নিচ থেকে পোকামাকড় বের করে খায়।
দৈর্ঘ্য: প্রায় ২৫–৩০ সেমি
ডানা: কালো-সাদা ডোরাকাটা
রং: কমলা-বাদামি শরীর
ঠোঁট: লম্বা ও বাঁকানো
বাসস্থান ও বিস্তার
হুদহুদ সাধারণত খোলা মাঠ, বনভূমির কিনারা, গ্রামীণ এলাকা ও বাগানে দেখা যায়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এদের বিচরণ রয়েছে। বাংলাদেশে শীতকালে এদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ে, তবে কিছু এলাকায় সারা বছরই দেখা যায়।
খাদ্যাভ্যাস
হুদহুদ মূলত মাটিতে খাবার খোঁজে। বিশেষ করে এদের খাবার তালিকায় রয়েছে- পোকামাকড়, লার্ভা ও ছোট কীটপতঙ্গ। লম্বা ঠোঁট দিয়ে মাটি খুঁড়ে খাবার বের করার দক্ষতায় এরা বেশ পারদর্শী।
আচরণ ও স্বভাব
এই পাখি খুব বেশি কোলাহলপ্রিয় নয়, তবে “হুপ-হুপ” ধ্বনির জন্যই এর ইংরেজি নাম Hoopoe। একাকী বা জোড়ায় দেখা যায় বেশি।
এদের উড়ার ধরনও আলাদা ডানা মেলে ধীরগতিতে, ঢেউ খেলানো ভঙ্গিতে উড়ে, যা দেখলে সহজেই চেনা যায়।
প্রজনন
হুদহুদ গাছের ফোকর, পুরোনো দেয়ালের গর্ত কিংবা মাটির নিচে বাসা তৈরি করে। স্ত্রী পাখি ডিমে তা দেয় এবং এ সময় পুরুষ পাখি খাবার জোগাড় করে আনে। একটি মজার বিষয় হলো—শিকারিদের হাত থেকে বাঁচতে এরা বাসায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে, যা শত্রুকে দূরে রাখে।
সংস্কৃতি ও গুরুত্ব
হুদহুদ পাখির উল্লেখ বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কাহিনীতেও পাওয়া যায়। বিশেষ করে ইসলামী ঐতিহ্যে এই পাখি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে হুদহুদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংরক্ষণ ভাবনা
যদিও বর্তমানে হুদহুদ বিপন্ন নয়, তবে
বন উজাড়, কীটনাশকের ব্যবহার ও বাসস্থান ধ্বংস এই পাখির জন্য ভবিষ্যতে হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষাই হতে পারে এদের টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় উপায়।
শেষ কথা
হুদহুদ শুধু একটি পাখি নয়, এটি প্রকৃতির রঙিন এক শিল্পকর্ম। গ্রামবাংলার মাঠে কিংবা গাছের ডালে বসে থাকা এই পাখিটি আমাদের পরিবেশের সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্যের নিঃশব্দ প্রতিনিধি। একটু সচেতনতা আর ভালোবাসা থাকলেই, আমাদের আকাশে হুদহুদের ডানা মেলার দৃশ্য আরও দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাবে।
ইএন/এসএ
- কেএফসির মালিকের জীবন কাহিনী
- প্রজাপতি: আশ্চর্য এই প্রাণীর সবার ভাগ্যে মিলন জোটে না!
- বিশ্বের অদ্ভুত কিছু গাছের ছবি
- মা-শাশুড়িকে হারিয়েও করোনার যুদ্ধে পিছিয়ে যাননি এই চিকিৎসক
- যেখানে এক কাপ চা পুরো একটি পত্রিকার সমান!
- তিন রঙের পদ্মফুলের দেখা মিলবে এই বিলে
- সোনার দাম এত কেন : কোন দেশের সোনা ভালো?
- ঢাকার মাঠ মাতানো বিদেশি ফুটবলাররা
- ২০২৩ সালে পৃথিবীর শক্তিশালী ১০টি দেশ!
- রহস্যময় গ্রামটি লাখো পাখির সুইসাইড স্পট

























